বিএনপি নির্বাচনে না আসলে কিছু করার নেই : প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশিত: ৭:১৯ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০১৮

বিএনপি নির্বাচনে না আসলে কিছু করার নেই : প্রধানমন্ত্রী

‘আদালত সাজা দিয়েছে, আমরা তো দেইনি। এ কারণে যদি তারা নির্বাচনে না আসেন, আমাদের কিছু করার নেই। আমাদের করার কী আছে!’ মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সোমবার গণভবনে ইতালি সফর পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। ইতালির রোমে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক কৃষি উন্নয়ন তহবিলের (ইফাদ) পরিচালনা পর্ষদের ৪১তম বৈঠকে অংশগ্রহণ শেষে দেশে ফিরে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

তিনি বলেন, সময়মতো নির্বাচন হবে। যারা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে এবং যাদের জনগণের ভোটের উপর আস্থা আছে, তারা নির্বাচনে আসবে। এখানে বহুদলীয় গণতন্ত্র। কোন দল নির্বাচনে করবে, না করবে- এটা তাদের সিদ্ধান্ত।

আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ‘বিএনপিতে এখন যারা আছেন, তারা দেখছি খুবই কাজ করছে, খুব কর্মঠ। তাদের মধ্যেও কি একটা নেতা পাওয়া গেল না, যাকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান করা যেত?’

শেখ হাসিনা বিএনপিকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘দুর্নীতিতে সাজাপ্রাপ্ত তাকে (খালেদা জিয়া) ছাড়া নির্বাচনে যাবে না। মামলা তো আমি দেই নাই। এটা আদালত দিয়েছে। মামলা করেছে তত্ত্বাবধায়ক সরকার। ওই সরকারও তাদের ছিল। তাদের নিজেদের লোক।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এতিমের টাকা মেরে খেলে আদালতও শাস্তি দেয়, আল্লাহর তরফ থেকেও দেওয়া হয়। আমাদের তো কিছু করে নাই। রায়টা তো আমি দেইনি, রায়টা দিয়েছে কোর্ট। মামলাটা করেছে ফখরুদ্দীন-মইনুদ্দীন সরকার। ফখরুদ্দীনকে গভর্নর করেছিল। নয়জনকে ডিঙ্গিয়ে মইন উ আহমেদকে সেনাপ্রধান করেছিল। আর ইয়াজউদ্দীন তো তাদের ছিলই। মামলাটা তারা দিয়েছে।

তিনি আরো বলেন, এই মামলাটা ১০ বছর চলেছে। সেখানে ৮০ বারের বেশি রিট করা হয়েছে এবং সময় নেয়া হয়েছে। এই মামলায় তিন বার জজ পরিবর্তন হয়েছে, সময় চেয়েছে ১০৯ বার। বহু টালবাহানা আপনারা দেখেছেন। ২৬১ দিনের মতো তারিখ পড়ল। আপিল বিভাগে ২২ বার রিট করা হয়েছিল। এত কিছুর পর তিনি মাত্র ৪৩ দিন কোর্টে হাজির হয়েছিলেন।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘উনার (খালেদা জিয়ার) প্রথম আইনজীবী রফিকুল হক সাহেব কিন্তু বলেছেন- টাকাটা দিয়ে দেন। তখন কিন্তু আর মামলাটা থাকতো না। টাকা দেননি। এতিমের টাকা খেলে শাস্তি আল্লাহও দেন, আদালতও দেন। আমাদের কিছু করার নেই। কিছু করার আছে?’

বিএনপির গঠনতন্ত্রের ৭ ধারা পরিবর্তনের কড়া সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘বিএনপির যেসব নেতারা দেশের অবস্থান করছেন, তাদের মধ্যে কি একজনও নেই, যাকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের করা যেত। যাকে দায়িত্ব দেয়া হলো সে তত্ত্বাবধায়কের আমলে রাজনীতি করবে না বলে মুচলেকা দিয়ে বিদেশে চলে গেল। এফবিআইয়ের তদন্তের অপরাধী প্রমাণ হয়ে সে সাজাপ্রাপ্ত।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সাইবার হামলা এটি শুধু আমাদের সমস্যা না, এটি বৈশ্বিক সমস্যা। তাই সাইবার হামলার জন্য, সিআরপিতে যে ধারাগুলো আছে সেইগুলোই ৩২ ধারায় অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে। ৫৭ ধারা বাতিল করে ৩২ ধারা অন্তর্ভূক্ত হয়েছে। যদি কেউ তেমন কিছু না করেন তাহলে তার বিরুদ্ধে তো এটা অপপ্রয়োগ হবে না।

এ সময় সাংবাদিকদের প্রশ্ন রেখে প্রধানমন্ত্রী বলেন,‘প্রশ্ন কত সময় আগে ফাঁস হয়। ২০ মিনিট আগে। আর এতো ট্যালেন্ট কে আছে, যে ২০ মিনিট আগে প্রশ্ন পেয়ে সব কিছু মুখস্ত করে লিখে ফেলবে?’

প্রশ্নফাঁস রোধে ব্যর্থতার দায়ে সংশ্লিষ্টদের পদত্যাগ করা উচিত কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, ‘মন্ত্রী-সচিবরা গিয়ে প্রশ্ন ফাঁস করে আসেন না।’

‘ইতালি সফর সফল হয়েছে’ বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ইফাদ সম্মেলনে কৃষিতে বাংলাদেশের সাফল্য তুলে ধরা হয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গাদের খাবার বিতরণ করায় এফএও’কে ধন্যবাদ।

সংবাদ সম্মেলনে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের ও তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু উপস্থিত ছিলেন। এর আগে ইতালি ও ভ্যাটিকান সিটিতে চার দিনের সরকারি সফর শেষে ১৭ জানুয়ারি শনিবার রাতে দেশে ফিরেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।