২৪শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১১ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ১২:০১ অপরাহ্ণ, আগস্ট ৮, ২০১৭
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসছে ততই সরব হচ্ছে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গন। শুরু হয়েছে নয়া মেরুকরণ। জোট-মহাজোটের বাইরে নতুন জোটের আবির্ভাবের ইঙ্গিত মিলছে।
এতে এরশাদ ঘিরেও চলছে নানা গুঞ্জন। জাপা চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদকে নিয়ে নানা হিসাব কষছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। তবে তিনি বলছেন মহাজোট ছাড়ার কথা। তবে তার অভিনয় বোঝা মুশকিল। একেক সময় একেক ধরনের অভিনয় করে থাকেন তিনি। তার অভিনয়ে বিশ্বাস আর অবিশ্বাসের মাত্রা ভারি হয়ে উঠছে রাজনৈতিক অঙ্গনে। সবই যে তার স্বার্থসিদ্ধির এ কথাও বলছেন কেউ কেউ। তবে রাজনীতির দোলাচলে এরশাদও বেশ টেনশনে পড়েছেন বলে জানা যাচ্ছে।
ভোটের জন্য জোট করে সুবিধা নিতে চায় রাজনৈতিক দলগুলো। থেমে নেই জাতীয় পার্টিও। আওয়ামী লীগ ও বিএনপিকে পেছনে ফেলে ৫৮ দল নিয়ে এরশাদের জাতীয় পার্টির সম্মিলিত জাতীয় জোট (ইউএনএ) যেন তুঙ্গে। বাংলাদেশের ইতিহাসে এত বিপুলসংখ্যক রাজনৈতিক দল নিয়ে এর আগে কেউ কোনো জোট করতে পারেনি। শেখ হাসিনা এবং খালেদা জিয়া যারা ১৯৯১ সাল থেকে বার বার দেশের প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন তারাও কিন্তু এরশাদের মতো এমন রেকর্ড সৃষ্টি করতে পারেননি।
তবে দেশের রাজনীতিতে এসব ভাঙা গড়ার খেলা। নদীর যেমন এক কুল ভেঙে আরেক কুল গড়ে, তেমনি আমাদের দেশের রাজনীতিতেও দল ভেঙে দল গড়ার ইতিহাস রয়েছে। সবাই নেতা হতে চায়। কেউ কর্মী থাকতে চায় না। নেতা হতে চাইলে দল দরকার। যত বেশি দল তত বেশি নেতার পদ। জনগণ চায় কি চায় না সেসবের দিকে কারো নজর নেই। জনগণের সেবা বাদ দিয়ে তারা নেমে পড়েছেন রাজনীতির ময়দানে। যদি জনগণ একটা জোটে গঠন করতে পারতো তাহলে এসব রাজনীতিবিদরা জনগণের জোটের কর্মী হতে চাইতো কি? সেই দিক থেকে এরশাদ আজ একটা নতুন রেকর্ড সৃষ্টি করলেন। এরপরও আবার নতুন সুর। নতুন জোটে ছোট ভাইকে পাঠিয়ে আবার আলোচনায় এরশাদ।নির্বাচন ঘনিয়ে আসলে যত খেলা তার সবটাই দেখাতে চান এরশাদ। তবে এরশাদের খেলা বোঝা বড় মুশকিল। কারণ বিশ্বাস আর অবিশ্বাসের দোলাচালে যে তিনি।
দেশের রাজনীতিতে নির্বাচনের আগে খেলা জমে ওঠে এরশাদের। কি বলতে কি বলবেন নিজেই বুঝে উঠতে পারেন না। গত নির্বাচনের আগে তিনি একবার বলেছিলেন, আমি সব সময় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিরোধী। আবার বলেছিলেন, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিকল্প নেই। এখন বলছেন, মহাজোট থেকে বেরিয়ে নির্বাচন করবে জাতীয় পার্টি। সেই নির্বাচনে জাতীয় পার্টি সরকার গঠনে আশা রাখে। তবে নতুন জোটে যাওয়ার ১ পার্সেন্টও সম্ভাবনা নেই। সম্মিলিত জাতীয় জোটেই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। যে জোট আছে, সেই জোট নিয়েই নির্বাচন করব।
এরশাদের এ অবস্থান নিয়ে জাপার একাধিক নীতি-নির্ধারক বলেন, এরশাদের অবস্থানের পরিবর্তন হবে। বিদ্যমান যে জোট এরশাদের নেতৃত্বে রয়েছে, তাতে জাপার বাইরে কোনো রাজনৈতিক নেতা নেই। এটি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে হাস্যরস চলছে।
জোট-মহাজোটের ব্যাপারে এরশাদের জাতীয় পার্টিতে এখন ত্রিমুখী ধারা। প্রথম ধারা চায়, মহাজোটের সঙ্গে থাকাটাই সমীচীন। খালেদা জিয়ার সঙ্গে গেলে আবারো এরশাদকে লাল দালানের ভাত খেতে হবে। দ্বিতীয় ধারা মনে করে, আগামী নির্বাচনে বিএনপি জয়ের সম্ভাবনা দেখছে, তার সঙ্গে জোট বাঁধলে বেশি সুবিধা আদায় করা যাবে। তৃতীয় ধারার মতে, আওয়ামী লীগ ও বিএনপির বাইরে ইসলামী দলগুলোকে নিয়ে থাকাই উত্তম।
রাজনৈতিক বোদ্ধাদের অভিমত, এরশাদ সব দরজাই খোলা রাখতে চান। কারণ কখন কোন বিপদ আসে। এ জন্য কাউকে নিরুৎসাহিত করতে চান না তিনি। একবার নসিহত করেন, আমরা মহাজোটে নেই। আবার বলেন, মহাজোটে থেকে সরকারের অপকর্মের ভাগীদার হবে না জাতীয় পার্টি। এরশাদ যতই বলেন, মহাজোটে গিয়ে কিছু পাননি। আসলে অনেক কিছু পেয়েছেন তিনি। নয় বছর অনেক দুষ্কর্ম করেও জেলখানার বাইরে আছেন, এটাই বা কম কিসের?
তবে নির্বাচন পর্যন্ত এরশাদ জোট করা না-করা নিয়ে দুই প্রধান দলের সঙ্গে দর-কষাকষি করতে থাকবেন এরশাদ। যেই দল বেশি সুবিধা দেবে, সেই দলের সঙ্গে জোট বাঁধবেন। এরশাদ নাকি তার দলীয় নেতাকর্মীদের কাছে খোলাখুলি বলেছেন, এক দিনের জন্য হলেও তিনি রাষ্ট্রপতি পদে বসতে চান। ১৯৯৬ সালে যখন আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে ব্যর্থ হয় এবং বিএনপির আসনসংখ্যা ১১৩ তে দাঁড়ায়, তখন এরশাদই হন তুরুপের তাস।
২০০৭ সালের ২২ জানুয়ারির নির্বাচন সামনে রেখেও এরশাদের মনে আরেকবার রাষ্ট্রপতি হওয়ার বাসনা জাগ্রত হয়। জাতীয় পার্টির দাবি, সেই সময় আওয়ামী লীগ ছয় মাসের জন্য তাকে রাষ্ট্রপতি পদে বসাতে রাজি হয়েছিল। আওয়ামী লীগ রাজি না হলে বিএনপি আরো বেশি সুবিধা দিয়ে তাদের জোটে নিয়ে যেত। সেই সময় বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব তারেক রহমান ও তৎকালীন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরের এরশাদের বাসায় আতিথ্য গ্রহণের দৃশ্যটি। শেষ পর্যন্ত ২২ জানুয়ারি নির্বাচন না হওয়ায় শেখ হাসিনা এরশাদকে রাষ্ট্রপতি করার দায় থেকে রেহাই পান।
২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরে যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হল, সেই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ এত বেশি আসন পেল যে, এরশাদ রাষ্ট্রপতি পদ নিয়ে আর দর-কষাকষি করতে পারেননি। কিন্তু তিনি যে রাষ্ট্রপতি হওয়ার খোয়াব দেখছেন তা জাতির জন্য কম লজ্জার নয়কি?
অবশ্য নির্বাচন সামনে রেখে দুই দলই এরশাদকে নিয়ে কানামাছি ভোঁ ভোঁ খেলছিল। এই খেলা যত দিন বন্ধ না হবে, ততদিন দেশে সত্যিকার গণতন্ত্র আসবে না। তবে এরশাদের একটি স্বপ্ন আছে। বিএনপির সেই অফার! ২০০১ সালের নির্বাচনে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার পক্ষ থেকে নাকি বলা হয়েছিল, তাদের নেতৃত্বাধীন জোটে থাকতে রাজি হলে যা চাইবে তা-ই দেয়া হবে। কিন্তু কথা রাখেননি তিনি। এভাবেই সাপলুডু খেলা খেলছেন এরশাদ।
তবে তিনি মাঝে মাঝে সরকারের সমালোচনা করলেও তার মাত্রা ছেড়ে যান না। কারণ তিনি ভালোভাবেই জানেন সরকার তাকে সঙ্গে রেখেছে এ কারণেই যে, তাকে দিয়ে নানারকম কথা বলাবেন, যাতে মানুষ বুঝতে পারেন দেশে বিরোধী দল বলে কিছু একটার উপস্থিতি আছে। যারা সরকারের সমালোচনা করে থাকেন।
সেই এরশাদ এখন আবার মুখ খুলতে শুরু করেছেন। ক্ষমতার মোহ এখন তাকে তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে। সরকার গঠন করতে হলে দরকার মাত্র ১৫১ আসন। তিনি ৫৮টি দলের প্রধান। প্রত্যেকটি যদি ৩টি করে আসনও পায় তাহলে এরশাদের জোট পাবে ১৭৪টি আসন। তার জোটে হবে মেজরিটি পার্টি। এরশাদকে আর ঠেকায় কে?
বিকল্প ধারা সভাপতি এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর বাড়িতে বৈঠকে ভাই জি এম কাদেরের অংশগ্রহণকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন সংবাদপত্রে আসা প্রতিবেদন দেখে শনিবার এক বিবৃতিতে দলের অবস্থান জানান এরশাদ।
বিবৃতিতে বলা হয়, জাতীয় পার্টির সঙ্গে অন্য কোনো দলের জোট গঠন সম্পর্কে কিছু বিভ্রান্তিকর খবর প্রকাশিত হওয়ায় আমি সুস্পষ্টভাবে জানাতে চাই যে, আমার নেতৃত্বে যে সম্মিলিত জাতীয় জোট (ইউএনএ) গঠিত হয়েছে, তার বাইরে আর কোনো জোট গঠনের প্রশ্নই ওঠে না। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সম্মিলিত জাতীয় জোট ৩০০ আসনেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার প্রস্তুতি গ্রহণ করছে।
২ অগাস্ট বি চৌধুরীর বাড়িতে বৈঠকে যান জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান জিএম কাদের। সেখানে বৈঠককারীরা আওয়ামী লীগ-বিএনপির বাইরে তৃতীয় একটি জোট গঠনের আলোচনা করেন।
ওই বৈঠকের পরদিন এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নে এরশাদ বলেছিলেন, সাবেক রাষ্ট্রপতি বদরুদ্দোজা চৌধুরী সাহেবকে প্রধানমন্ত্রী ইফতারের দাওয়াত দিয়েছিলেন। সেই অনুষ্ঠানে তিনি আমার পাশে বসেছিলেন। এর মধ্যে দিয়ে কি প্রতীয়মান হয় না যে, তিনি মিত্রবাহিনীতে আছেন?
বিবৃতিতে এরশাদ বলেন, তিনি এখন ইউএনএ জোট নিয়েই এগিয়ে যেতে চান। অন্য কোনো দল আসতে চাইলে তা জোটের শীর্ষ নেতারাই সিদ্ধান্ত নেবেন। জোট সম্পর্কিত কোনো তথ্যের জন্য জাতীয় পার্টির মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদারের সঙ্গে কথা বলার অনুরোধ জানান তিনি।

EDITOR & PUBLISHER :
DR. ARIF AHMED MOMTAZ RIFA
MOBILE : 01715110022
PHONE : 0821 716229
OFFICE : SHUVECHCHA-191
MIAH FAZIL CHIST R/A
AMBAKHANA WEST
SYLHET-3100
(Beside Miah Fazil Chist Jame Masjid & opposite to Rainbow Guest House).
E-mail : sylhetsangbad24@gmail.com
Hello : 01710-809595
Design and developed by M-W-D