নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় মাউন্ট এডোরার মাতৃসেবা ইউনিটে ভর্তি বন্ধের নির্দেশ

প্রকাশিত: ৯:০৫ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ৪, ২০২৬

নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় মাউন্ট এডোরার মাতৃসেবা ইউনিটে ভর্তি বন্ধের নির্দেশ

নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগের পর সিলেটের মাউন্ট এডোরা হাসপাতালের ‘অল উইমেন মেটারনিটি কেয়ার’ ইউনিটে নতুন রোগী ভর্তি বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়।

তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে ইউনিটটিতে প্রয়োজনীয় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, দক্ষ জনবল ও জরুরি অস্ত্রোপচারের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকার বিষয়টি উঠে আসার পর এ নির্দেশ দেওয়া হয়।

বুধবার (৪ নভেম্বর) সিলেটের ডেপুটি সিভিল সার্জন ও তদন্ত কমিটির প্রধান ডা. জন্মেজয় দত্ত এ তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, মাউন্ট এডোরার সম্প্রতি চালু হওয়া মেটারনিটি কেয়ার ইউনিটে প্রয়োজনীয় গাইনি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, স্থায়ী অ্যানেসথেশিওলজিস্ট ও দক্ষ জনবলের ঘাটতি রয়েছে। এ ছাড়া জরুরি অস্ত্রোপচারের পর্যাপ্ত ব্যবস্থাও পাওয়া যায়নি। তদন্তে এসব অসংগতি প্রমাণিত হওয়ায় ইউনিটটি বন্ধ রাখার সুপারিশ করেছে কমিটি।

তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগসহ চিকিৎসাসেবার অবকাঠামোগত ঘাটতি পূরণ করে পুনরায় ইউনিট চালুর জন্য সিভিল সার্জন কার্যালয়ে আবেদন করতে হবে। এরপর কর্তৃপক্ষ বিষয়টি বিবেচনা করবে।

ডা. জন্মেজয় দত্ত জানান, গত বৃহস্পতিবার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদনের সুপারিশের ভিত্তিতে চলতি সপ্তাহে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে মেটারনিটি ইউনিটে রোগী ভর্তি বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়। নির্দেশনা পেয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ইউনিটটি বন্ধ রেখেছে বলে তিনি জানতে পেরেছেন। নির্দেশনা অমান্য করলে পরবর্তী সময়ে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, গত ৯ অক্টোবর নগরের আখালিয়া এলাকার মাউন্ট এডোরা হাসপাতালে সন্তান প্রসবের সময় এক নবজাতকের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে অবহেলার অভিযোগ তোলেন শিশুটির স্বজনরা।

স্বজনদের অভিযোগ, সময়মতো প্রসূতির অস্ত্রোপচার না করে স্বাভাবিক প্রসবের চেষ্টা চালানোর কারণেই নবজাতকটির মৃত্যু হয়েছে।

জানা যায়, ঘটনার দুই দিন আগে সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারের অন্তঃসত্ত্বা নাজমা বেগমকে প্রসবের জন্য মাউন্ট এডোরা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তিনি হাসপাতালের সহকারী অধ্যাপক ডা. রেজওয়ানা মির্জার অধীনে চিকিৎসাধীন ছিলেন।

নবজাতকের স্বজনদের দাবি, আল্ট্রাসনোগ্রাম প্রতিবেদনে শিশুটির ওজন সাড়ে তিন থেকে চার কেজি উল্লেখ থাকায় শুরু থেকেই তারা অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সন্তান প্রসবের অনুরোধ জানিয়েছিলেন। তবে বারবার অনুরোধ করা সত্ত্বেও চিকিৎসকেরা মা ও শিশু দুজনই সুস্থ আছেন এবং স্বাভাবিক প্রসব সম্ভব বলে আশ্বস্ত করেন।

স্বজনদের অভিযোগ, সময় গড়ালেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নিয়ে কালক্ষেপণ করা হয়। একপর্যায়ে প্রসূতির গর্ভ থেকে নবজাতকের মাথা বের হলেও কাঁধসহ শরীরের বাকি অংশ আটকে যায়। এ সময় চিকিৎসকদের অপরিকল্পিত টানাটানিতে নবজাতকের গলা, পিঠ ও মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে। পরে শ্বাসরুদ্ধ হয়ে শিশুটির মৃত্যু হয় বলে অভিযোগ করেন তাঁরা। পরিস্থিতির অবনতি হলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসককে ডাকা হলেও ততক্ষণে শিশুটিকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।

এ ঘটনায় চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ এনে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে লিখিত অভিযোগ করেন নাজমা বেগমের স্বজনরা। তাঁদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সিলেটের ডেপুটি সিভিল সার্জনকে প্রধান করে চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে।

সেই তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের সুপারিশের ভিত্তিতেই এবার মাউন্ট এডোরার মেটারনিটি কেয়ার ইউনিটে রোগী ভর্তি বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হলো।


 

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট