হবিগঞ্জে শাশুড়ি হত্যায় জামাতার যাবজ্জীবন

প্রকাশিত: ১০:৩৮ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২৮, ২০২৬

হবিগঞ্জে শাশুড়ি হত্যায় জামাতার যাবজ্জীবন

হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানে শাশুড়ি জাহানারা বেগমকে হত্যার দায়ে তাঁর জামাতা মো. অলিউর রহমান অলি (৪২)-কে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাঁকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে তাঁকে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) দুপুর ১টার দিকে হবিগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ প্রথম আদালতের বিচারক কাঁকন দে এ রায় ঘোষণা করেন।

দণ্ডপ্রাপ্ত অলিউর রহমান অলি মাধবপুর উপজেলার তুলশীপুর (অলিপুর) গ্রামের মো. ইউনুছ আলীর ছেলে। রায় ঘোষণার সময় তিনি আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

আদালতের স্টেনোগ্রাফার মো. মুখলেছুর রহমান রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০১৮ সালের ২৯ মে সকালে স্বর্ণালংকার কেনার কথা বলে শাশুড়ি জাহানারা বেগমকে বাড়ি থেকে নিয়ে যান তাঁর জামাতা অলিউর রহমান অলি। এরপর থেকে নিখোঁজ ছিলেন জাহানারা। পরিবারের সদস্যরা তাঁর খোঁজ করতে থাকেন।

এর তিনদিন পর ১ জুন, সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানের ওয়াচ টাওয়ারের দক্ষিণ পাশে একটি বেতবাগান থেকে অজ্ঞাতপরিচয় এক নারীর গলিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরদিন পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদ দেখে নিহতের ছেলে মো. মিজানুর রহমান মরদেহটি তাঁর মা জাহানারা বেগমের বলে শনাক্ত করেন।

এ ঘটনায় মিজানুর রহমান বাদী হয়ে অলিউর রহমান অলি ওরফে অলির বিরুদ্ধে চুনারুঘাট থানায় হত্যা মামলা করেন। পুলিশ তদন্ত শেষে ২০১৯ সালের ১৪ জানুয়ারি আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়। বিচার চলাকালে রাষ্ট্রপক্ষ ১৬ জন সাক্ষীকে আদালতে উপস্থাপন করে। তাঁদের সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা শেষে বুধবার আদালত এ রায় ঘোষণা করেন।

রাষ্ট্রপক্ষের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মো. গুলজার আহমেদ খান বলেন, মামলাটি ছিল একটি সূত্রহীন হত্যাকাণ্ড। তবে আসামির মাধ্যমে ভুক্তভোগীকে ডেকে নিয়ে যাওয়ার তথ্য, তাঁর স্বীকারোক্তি, দুজনের একসঙ্গে অবস্থানের কল ডিটেইল রেকর্ড (সিডিআর) এবং বিচার চলাকালে ভুক্তভোগীর ডিএনএ পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণ করা সম্ভব হয়েছে।