সিলেটে কিশোরীর কোমরে শিকল বেঁধে নির্যাতন, আটক ৩

প্রকাশিত: ৩:৩১ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৬

সিলেটে কিশোরীর কোমরে শিকল বেঁধে নির্যাতন, আটক ৩

সিলেট নগরীতে চুরির অভিযোগে এক কিশোরীর কোমরে শিকল বেঁধে রাস্তায় হাঁটানোর ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক ক্ষোভ ও সমালোচনা দেখা দিয়েছে। ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর বিষয়টি পুলিশের নজরে আসে। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার সন্দেহে ৩ জনকে আটক করেছে শাহপরাণ থানা পুলিশ।

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন সিলেট মহানগর পুলিশের গণমাধ্যম কর্মকর্তা ও অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) মো. মনজুরুল আলম। এই ঘটনাটিকে পুলিশ গুরুত্বের সাথে নিয়ে নির্যাতনকারীদের চিহ্নিত করার কাজ করছে। ইতিমধ্যে ৩ জনকে আটক করে শাহপরাণ থানায় নেওয়া হয়েছে। তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করে অন্য সহযোগিদের আটক করার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আটককৃতরা হলেন—সিলেট নগরীর শাহজালাল উপশহর সি-ব্লক, ৪৪ নম্বর রোডের ৫১ নম্বর বাসার মৃত জালাল উদ্দিনের ছেলে মো. জাকির হোসেন (৪৩) ও মো. মোজাক্কির হোসেন (৪০) এবং একই এলাকার ৫৪ নম্বর বাসার মো. মজিবুর রহমানের ছেলে মো. বুরহান উদ্দিন (৪৫)।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে নগরীর উপশহর ডি-ব্লকের মসজিদ মার্কেট এলাকার একটি দোকানের ক্যাশবাক্স থেকে টাকা চুরির চেষ্টার অভিযোগে স্থানীয়রা ১৫-১৬ বছর বয়সী ওই কিশোরীকে আটক করেন। এ সময় তাকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে তার কোমরে শিকল বেঁধে সড়কে টানাহেঁচড়া করা হয়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, এক যুবক শিকল দিয়ে কিশোরীর কোমর বেঁধে তাকে সড়কে টেনে নিয়ে যাচ্ছেন। এ সময় কিশোরীকে অঝোরে কাঁদতে দেখা যায়। অসহায়ভাবে কাঁদতে থাকা ওই কিশোরীর দৃশ্যটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে মানবিকতা ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে।

ঘটনার বিষয়ে শাহপরান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, সোমবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে কিশোরীকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। চুরির অভিযোগের বিষয়ে পরবর্তী সময়ে মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়।

শিকল বেঁধে নির্যাতন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওর বিষয়ে মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানান, যারা ওই কিশোরীকে এভাবে শিকল পরিয়ে নির্যাতন করেছে, তাদের চিহ্নিত করার কাজ চলছে। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

তবে চুরির অভিযোগ সত্য কি না, সেটি তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়ার বিষয়। কোনো অভিযোগের ভিত্তিতে একজন কিশোরীকে শিকল পরানো, মারধর করা কিংবা প্রকাশ্যে অপমান-হয়রানি করার অধিকার কারও নেই বলে জানান সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সুদিপ্ত অর্জুন। তিনি বলেন, আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার এমন ঘটনা কেবল একজন শিশুর মানবিক মর্যাদাকেই ক্ষুণ্ন করে না, সমাজে ভয়াবহ বার্তাও দেয়।


 

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট