যশোরে দুই শিশুপুত্রকে হত্যার পর বাবার আত্মহত্যা

প্রকাশিত: ১১:০৭ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১, ২০২৬

যশোরে দুই শিশুপুত্রকে হত্যার পর বাবার আত্মহত্যা

যশোরের শার্শায় দুই শিশুসন্তানকে গলায় ফাঁস দিয়ে হত্যার পর তাদের বাবা নিজেও বিষাক্ত গ্যাস ট্যাবলেট সেবন করে আত্মহত্যা করেছেন বলে জানা গেছে।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার চটকাপোতা দক্ষিণপাড়া গ্রামের একটি বাড়িতে মর্মান্তিক এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় প্রতিবেশিদের মধ্যে চরম উদ্বেগ-হতাশা ও শোকের ছায়া বিরাজ করছে।

নিহত দুই শিশু হলো- সাবির (৫) ও জাবির (প্রায় আড়াই বছর)। তাদের বাবা কামাল হোসেন (৪৫)। তিনি ওই গ্রামের মৃত নেদন আলীর ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার দুপুর আনুমানিক ২টা ২০ মিনিটের দিকে কামাল হোসেনের বাড়িতে দুই শিশুর মরদেহ দেখতে পান স্থানীয়রা। একই বাড়িতে কামাল হোসেনকেও অসুস্থ অবস্থায় পাওয়া যায়। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুই শিশুর সহ মকামাল হোসেনের মরদেহ উদ্ধার করে।

প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, দুই শিশুকে গলায় ফাঁস দিয়ে হত্যার পর কামাল হোসেন বিষাক্ত গ্যাস ট্যাবলেট সেবন করেন আত্মহত্যা করেন। তবে এটি নিছক পারিবারিক কলহের জেরে ঘটেছে, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে তা এখনো নিশ্চিত নয়।

স্থানীয়দের দাবি, কামাল হোসেনের একাধিক স্ত্রী ছিলেন। তাদের ঘরে মোট সাত সন্তান রয়েছে বলে জানা গেছে। আগের দুই স্ত্রীর সঙ্গে তার বিচ্ছেদ হয়েছিল। সর্বশেষ তৃতীয় স্ত্রীও পারিবারিক নির্যাতনের অভিযোগে প্রায় এক সপ্তাহ আগে দুই সন্তানকে রেখে নড়াইলে বাবার বাড়িতে চলে যান বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

এরই মধ্যে মায়ের অনুপস্থিতিতে দুই শিশুর এমন করুণ মৃত্যু এবং তাদের বাবার মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় নেমে এসেছে শোক ও আতঙ্ক। ঘটনাটি ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। দুই শিশুকে কেন হত্যা করা হলো, কী কারণে তাদের বাবা আত্মহত্যার পথ বেছে নিলেন, এর পেছনে পারিবারিক বিরোধই কি মূল কারণ, নাকি রয়েছে অন্য কোনো রহস্য? এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। শার্শা থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আলামত সংগ্রহ ও সংশ্লিষ্টদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে। মরদেহের ময়নাতদন্ত ও তদন্তের পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

শার্শা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। দুই শিশুর মৃত্যুর পাশাপাশি তাদের বাবার মৃত্যুর বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষে প্রকৃত ঘটনা জানা যাবে।


 

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট