সুনামগঞ্জে গ্রাহকের কোটি টাকা নিয়ে উধাও ‘পল্লী বন্ধু উন্নয়ন সংস্থা’!

প্রকাশিত: ১১:১৯ অপরাহ্ণ, জুলাই ২৩, ২০২৬

সুনামগঞ্জে গ্রাহকের কোটি টাকা নিয়ে উধাও ‘পল্লী বন্ধু উন্নয়ন সংস্থা’!

সুনামগঞ্জে অধিক মুনাফা ও সহজ শর্তে ঋণ দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে গ্রাহকদের কাছ থেকে কয়েক কোটি টাকার সঞ্চয় সংগ্রহের পর ‘পল্লী বন্ধু উন্নয়ন সংস্থা’ নামে একটি বেসরকারি এনজিওর কর্মকর্তারা আত্মগোপনে গেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে জেলার বিভিন্ন উপজেলার শতাধিক গ্রাহক চরম উদ্বেগ ও ক্ষোভে রয়েছেন।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, গত চার বছর ধরে ডিপিএস, ফিক্সড ডিপোজিট ও দৈনিক সঞ্চয়ের নামে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ সংগ্রহ করে আসছিল সংস্থাটি। সম্প্রতি মেয়াদপূর্তির টাকা কিংবা জমাকৃত সঞ্চয় ফেরত চাইলে নানা অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করা হয়। পরে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কারও সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

জামালগঞ্জ উপজেলার মাঠকর্মী সীমা রানী সরকার দাবি করেন, গত চার বছরে তিনি প্রায় ৪০ লাখ টাকা সঞ্চয় সংগ্রহ করে শাখা ব্যবস্থাপক জেসমিন আক্তারের কাছে জমা দিয়েছেন। গত শুক্রবার অফিসে গিয়ে সেটি তালাবদ্ধ দেখতে পান। বারবার ফোন করেও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেননি। তিনি উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

সদর উপজেলার জয়নগর গ্রামের বাসিন্দা সিতিশ রায় জানান, তিনি সংস্থাটিতে ৫০ হাজার টাকা ফিক্সড ডিপোজিট এবং দৈনিক সঞ্চয় হিসেবে আরও ১০ হাজার ৩০০ টাকা জমা রেখেছিলেন। মেয়াদ শেষে টাকা চাইলে তাকে ঘুরানো হয়। পরে অফিসে গিয়ে সেটি বন্ধ দেখতে পান।

একই গ্রামের প্রণয় দাশ জানান, তিনি ৩৫ হাজার টাকা সঞ্চয় করেছিলেন। ২০ জুলাই ওই সঞ্চয়ের বিপরীতে এক লাখ টাকা ঋণ পাওয়ার কথা থাকলেও অফিসে গিয়ে তা বন্ধ পান। তিনি জানান, ক্ষতিগ্রস্তরা থানায় অভিযোগ দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, মধ্যনগর, জামালগঞ্জ ও তাহিরপুর উপজেলাতেও একইভাবে বহু গ্রাহকের টাকা আটকে গেছে। তবে শান্তিগঞ্জ, ছাতক ও দিরাইসহ কয়েকটি এলাকায় সংস্থাটির কার্যক্রম এখনও চালু রয়েছে। এসব শাখায় দ্রুত তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

এ বিষয়ে পল্লী বন্ধু উন্নয়ন সংস্থার উপ-পরিচালক জামিরুল হক বলেন, সুনামগঞ্জে তাদের কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। কয়েকটি শাখায় সমস্যা হয়েছে এবং অল্প সময়ের মধ্যে সেগুলো সমাধান করে গ্রাহকদের আস্থা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হবে।

সুনামগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রতন শেখ বলেন, গ্রাহকদের টাকা নিয়ে উধাও হওয়ার বিষয়টি তারা জেনেছেন। তবে এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জামালগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শিল্লী রানী মোদক বলেন, সংস্থাটির বিরুদ্ধে টাকা আত্মসাতের অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এ ঘটনায় জেলার বিভিন্ন এলাকায় গ্রাহকদের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। ক্ষতিগ্রস্তরা দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ এবং তাদের জমাকৃত অর্থ ফেরতের দাবি জানিয়েছেন।


 

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট