জাফলংয়ে ভারতীয় পণ্যে সয়লাব, কিনে সড়কে আটক হয়ে ভোগান্তিতে পর্যটকরা

প্রকাশিত: ১০:২৮ অপরাহ্ণ, জুলাই ৯, ২০২৬

জাফলংয়ে ভারতীয় পণ্যে সয়লাব, কিনে সড়কে আটক হয়ে ভোগান্তিতে পর্যটকরা

সিলেটের যে সব পর্যটন কেন্দ্র রয়েছে তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে জাফলং পর্যটন এরিয়া। ভারতের নিকটবর্তী হওয়াতে সেখানকার বাজার গুলোতে ভারতীয় কম্বল, চকলেট, মশলা সহ যাবতীয় কসমেটিকসসহ বিভিন্ন পণ্য অবাধে ক্রয় বিক্রয় হচ্ছে। পর্যটন কেন্দ্র জায়লংসহ সব কয়টি পর্যটন হাটে ভারতীয় পণ্যের যেমন রমরমা বাণিজ্য চলছে, ঠিক তেমনি বাজার গুলোতে বিজিবিসহ আইনশৃংখলা বাহিনীর অবস্থানও চোখে পড়ার মত। কিন্তু কি এমন রহস্য পর্যটন স্পটে ভারতীয় পণ্য বিক্রিতে আইন শৃংখলা বাহিনীর নেই কোন অভিযান। আর এর জন্যই পর্যটকরা নিরাপদে ও নির্বিগ্নে পণ্য ক্রয় করতে থাকে। কিন্তু গন্তব্যে ফেরার পথে অবৈধ বলে পণ্যগুলো জব্দ করে আইনশৃংখলা বাহিনী।

সিলেটের অন্যতম পর্যটন এলাকা জাফলংয়ে প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ছুটে আসে মানুষ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করার জন্য। পর্যটন এলাকা হিসেবে জাফলং বাজারের দোকান গুলোতে অধিকাংশই ভারতীয় চোরাচালান পণ্যে ভরপুর। আর পর্যটকরা অতিউৎসাহি হয়ে ক্রয় করছে চোরাচালন পণ্য। অপরদিকে সড়কের বিভিন্ন স্থানে পুলিশ চেকপোস্ট পরিচালনা করে পর্যটকদের কেনা পণ্যগুলো অবৈধ ঘোষনা দিয়ে করছেন জব্দ।

ভারতীয় চোরাচালানের এসব পণ্য গুলো সীমান্তের বাজারে বৈধ, রাস্তায় নিয়ে যাওয়ার প্রক্কালে পুলিশ বলছে অবৈধ। মূলত পর্যটকদের ভোগান্তিতে ফেলে প্রশ্নবিদ্ধ ভারতীয় পণ্যের জব্দ অভিযান।

সীমান্ত এলাকাগুলোর বাজারে ভারতীয় রকমারি পণ্য প্রকাশ্যে বিক্রি করা হলেও সেগুলো ক্রয় করে নিজ গন্তব্যে ফেরার পথে হয়রানীর শিকার হচ্ছেন পর্যটকরা। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা অবাধে এসব পণ্য বিক্রি করলেও বাজার গুলোতে অভিযান করছেন না সংশ্লিষ্টরা। রাস্তায় আইন শৃংখলা বাহিনীর অভিযানে পর্যটকদের কাছ থেকে পণ্য জব্দ বা আটক করার অভিযোগ উঠছে হরহামেশাই।

ভূক্তভোগিদের দাবী, বাজারে প্রকাশ্যে বিক্রি হওয়া পণ্য যদি অবৈধ হয়, তবে বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহন করা হচ্ছে না কেন। কিন্তু ক্রেতারা বৈধভাবে কেনাকাটা করার পর নিয়ে যাওয়ার পথে তাদের হয়রানী করা হলে তা সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি ও ক্ষোভ সৃষ্টি হচ্ছে।

একাধিক সূত্রে জানা যায়, দেশের বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় প্রায়ই ভারতীয় পণ্য জব্দের ঘটনা ঘটে এবং আইনশৃংখলা বাহিনী এসব পণ্যে অবৈধ প্রবেশ রোধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে।

পর্যটকদের অভিযোগ, তারা স্থানীয় দোকান থেকে রশিদসহ পণ্য ক্রয় করলেও ফেরার পথে অনেক সময় জিজ্ঞাসাবাদ, পণ্য জব্দ কিংবা অন্যান্য জটিলতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে।

যার ফলে সিলেটের পর্যটন খাতের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন জায়গা থেকে আগত দর্শনার্থীদের মধ্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। এই অঞ্চলের সচেতন মানুষ মনে করে বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুস্পষ্ট নীতিমালা অনুসরণ করা প্রয়োজন। এক্ষেত্রে পণ্যগুলো বাজারে বিক্রির অনুমতি থাকলে ক্রেতাদের হয়রানী বন্ধ করতে হবে। আর যদি পণ্য অবৈধ হয়, তাহলে বিক্রয় চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহন করা উচিত।



জৈন্তাপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) উসমান গনি বলেন, বৈধ শুল্ক কর পরিশোধ ব্যতীত বিদেশী পণ্য দেশে প্রবেশ, পরিবহন বা বাজারজাত করা আইনত দন্ডনীয় অপরাধ। সিলেট-তামাবিল মহাসড়কে সীমান্ত দিয়ে অবৈধ ভাবে আসা চোরাচালান পণ্য আটক ও পাচার রোধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে জৈন্তাপুর মডেল থানা পুলিশ।

জাফলং টুরিস্ট পুলিশের ইনচার্জ তপন তালুকদার বলেন আমরা পর্যটন এলাকায় অবস্থান করলেও অবৈধ পণ্য আটকের এখতিয়ার নেই। আমরা মূলত পর্যটকদের সার্বিক নিরাপত্তাসহ আইনশৃংখলা বজায় রাখার চেষ্টা করি। চুরি, ছিনতাই প্রতিরোধ এবং পর্যটকদের প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করাই আমাদের দায়িত্ব।

এদিকে গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী অফিসার রতন কুমার অধিকারী বলেন বৈধভাবে ব্যবসা পরিচালনার জন্য সরকারী নীতিমালা অনুসরণ করতে হয়, যা জাফলং পর্যটন এলাকার ব্যবসায়ীগণ তেমনটা মানছেন না। এজন্য আমরা বিভিন্ন সময় অভিযান পরিচালনা করে ভারতীয় পণ্য জব্দ করা সহ জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করি।


 

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট