সুনামগঞ্জে লেডিকান্তা বাহিনীর মূল হোতাসহ গ্রেপ্তার ৩, রামদা উদ্ধার

প্রকাশিত: ৭:৫২ অপরাহ্ণ, জুন ১, ২০২৬

সুনামগঞ্জে লেডিকান্তা বাহিনীর মূল হোতাসহ গ্রেপ্তার ৩, রামদা উদ্ধার

সুনামগঞ্জ শহরের অপরাধ জগতের অন্যতম পরিচিত মুখ ও ত্রাস হিসেবে পরিচিত কান্তা বেগম ওরফে লেডিকান্তা এবং তার দুই নারী সহযোগীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

রোববার (৩১ মে) দিবাগত গভীর রাতে শহরের বিভিন্ন এলাকায় এক বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযানকালে গ্রেপ্তারকৃতদের হেফাজত থেকে তলোয়ার সদৃশ একটি দেশীয় ধারালো রামদা উদ্ধার করেছে পুলিশ।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, শহরের হোসেনপুর (টুকেরঘাট) এলাকার মৃত তারা মিয়ার মেয়ে ও এই অপরাধ চক্রের মূল হোতা কান্তা বেগম (লেডিকান্তা), হাছননগর এলাকার আব্দুল আজিজের স্ত্রী সুবর্ণা আক্তার আঁখি এবং জামালগঞ্জ উপজেলার লক্ষ্মীপুর গ্রামের আলহাদ মিয়ার মেয়ে জান্নাত আক্তার।

সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, কান্তা বেগমের নেতৃত্বে এই চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে শহর ও এর আশপাশের এলাকায় সুসংগঠিতভাবে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিল। তাদের অপরাধের কৌশল ছিল বেশ অভিনব। তারা মূলত ছদ্মবেশে বিভিন্ন বাসাবাড়িতে সাহায্য চাওয়ার অজুহাতে কিংবা গৃহকর্মী (কাজের লোক) হিসেবে প্রবেশের চেষ্টা করত। একবার ঘরের ভেতর ঢুকতে পারলে সুযোগ বুঝে আলমারি বা ড্রয়ার থেকে নগদ টাকা, স্বর্ণালঙ্কার এবং মূল্যবান মুঠোফোন চুরি করে দ্রুত পালিয়ে যেত। তবে চুরির সময় অনেক সময় গৃহকর্তা বা পরিবারের কেউ তাদের দেখে ফেললে তারা চরম উগ্র রূপ ধারণ করত। নিজেদের সাথে রাখা দেশীয় ধারালো অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে জিম্মি করে মালামাল লুটে নিয়ে চম্পট দিত এই চক্রটি।

পুলিশ জানায়, এই চক্রটির বিষয়ে দীর্ঘদিন ধরে সুনির্দিষ্ট কিছু অভিযোগ ছিল। রোববার রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সুনামগঞ্জ সদর থানা পুলিশের একটি বিশেষ দল শহরের বিভিন্ন এলাকায় চিরুনি অভিযান শুরু করে। গভীর রাতের এই অভিযানে চক্রের মূল হোতাসহ তিনজনকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় পুলিশ। গ্রেপ্তার করার পর পুলিশি হেফাজতে তাদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে মূল হোতা কান্তা বেগমের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাদের লুকিয়ে রাখা সেই ধারালো রামদাটি উদ্ধার করে।

সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রতন শেখ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, কান্তা ওরফে লেডিকান্তা ও তার সহযোগীরা দীর্ঘদিন ধরে ছদ্মবেশে শহরের মানুষের ঘরে ঢুকে চুরি ও ডাকাতি করে আসছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আমাদের বিশেষ দল সফল অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করেছে। কান্তাসহ গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।


 

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট