ঈদের টানা ছুটিতে কমলগঞ্জের লাউয়াছড়ায় পর্যটকদের ঢল

প্রকাশিত: ৫:৫৬ অপরাহ্ণ, মে ৩১, ২০২৬

ঈদের টানা ছুটিতে কমলগঞ্জের লাউয়াছড়ায় পর্যটকদের ঢল

পবিত্র ঈদুল আজহার টানা ছুটিতে প্রকৃতির সান্নিধ্য পেতে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে পর্যটকদের ঢল লক্ষ্য করা গেছে।

ঈদের তৃতীয় দিনে সকাল থেকেই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা হাজারো পর্যটকের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে এই জাতীয় উদ্যান। পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বন বিভাগ ও ট্যুরিস্ট পুলিশের পক্ষ থেকে বিশেষ ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে।

রোববার (৩১ মে) দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায়, যান্ত্রিক জীবনের ব্যস্ততা ভুলে পরিবার-পরিজন নিয়ে পর্যটকরা ভিড় করছেন লাউয়াছড়ার সবুজ অরণ্যে। বনের ভেতর দিয়ে বয়ে যাওয়া পাহাড়ি পথ আর উঁচু-নিচু টিলার মাঝে সময় কাটাতে পেরে উচ্ছ্বসিত দর্শনার্থীরা। বিশেষ করে শিশু ও তরুণ-তরুণীদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত উদ্যানের মূল ফটক থেকে শুরু করে বনের ভেতরের ট্রেইলগুলোতে পর্যটকদের দীর্ঘ সারি দেখা গেছে।

লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান সহ-ব্যবস্থাপনা নির্বাহী কমিটির সভাপতি (ভারপ্রাপ্ত) আমিনা বেগম জানান, ‘ঈদের টানা ছুটিতে পর্যটকের সংখ্যা কয়েকগুণ বেড়ে যায় । বনের পরিবেশ রক্ষা এবং পর্যটকদের নিরবচ্ছিন্ন সেবা দিতে বনকর্মী ও সিপিজি সদস্যরা সার্বক্ষণিক কাজ করছেন।

পর্যটকদের এই ব্যাপক উপস্থিতিতে চাঙা হয়ে উঠেছে স্থানীয় পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসাগুলো। লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের পাশাপাশি কমলগঞ্জের নয়নাভিরাম মাধবপুর লেক, বীরশ্রেষ্ঠ সিপাহী হামিদুর রহমান স্মৃতিসৌধ, হামহাম, মশিণিপুরি পল্লী, খাসিয়াপুঞ্জি ও চা বাগানগুলোতেও পর্যটকদের ঢল নেমেছে।

এদিকে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বন বিভাগ ও ট্যুরিস্ট পুলিশের পক্ষ থেকে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। বনের নিরবতা বজায় রাখা এবং পরিবেশ রক্ষায় পর্যটকদের প্লাস্টিক বর্জন করার জন্য বন বিভাগ ও সহ-ব্যবস্থাপনা কমিটির পক্ষ থেকে বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো হয়।

ঈদের ছুটিতে বি-বাড়িয়া থেকে ঘুরতে আসেন লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে রাহেলা ও তার পবিবার। তারা এ প্রতিনিধিকে বলেন, পরিবারের সবাইকে নিয়ে ঘুরতে এসেছি। এখানকার প্রকৃতি খুবই সুন্দর, ঘুরতে ভাল লাগে। শুধু এই জায়গা না চা বাগানসহ মণিপুরি পল্লী দেখেছি, খুব ভালো লেগেছে। আবার যেকোনো দিন ছুটি পেলে চলে আসবো।

ঢাকা থেকে পরিবার নিয়ে বেড়াতে আসা রতন কুমার দে বলেন, এখানে আসার খুব সুন্দর পরিবেশ পেলাম, এ প্রাকৃতিক পরিবেশ খুবই আনন্দদায়ক। পরিবার নিয়ে ঘুরতে খুবই ভাল লেগেছে।

লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের টিকেট কালেক্টর অজানা আহমেদ কামরান বলেন, ‘ঈদের ছুটিতে প্রথম দুদিন পর্যটকের সংখ্যা কম ছিল। শনিবার সকাল থেকে পর্যটকের উপস্থিতি অনেক বেড়েছে। বনের পরিবেশ রক্ষা এবং পর্যটকদের নিরবচ্ছিন্ন সেবা দিতে বনকর্মী ও সিপিজি সদস্যরা সার্বক্ষণিক কাজ করছেন।’

ট্যুরিস্ট পুলিশ শ্রীমঙ্গল জোনের উপ পরিদর্শক আশরাফুল আলম বলেন, ঈদের টানা ছুটিতে আগত পর্যটকদের নিরাপত্তার জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিটি পর্যটন কেন্দ্রে ট্যুরিস্ট পুলিশ দায়িত্বে আছে। যে কোন ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে প্রস্তুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।