২৮শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৫ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ২:৩৫ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ২৮, ২০২৬
জাপানে চলমান দক্ষ কর্মী সংকট মোকাবিলায় নির্দিষ্ট দক্ষতাসম্পন্ন কর্মী বা এসএসডব্লিউ ক্যাটাগরিতে ব্যাপক জনশক্তি নিয়োগের পরিকল্পনা সামনে আসতেই নতুন সম্ভাবনার আলো দেখছে বাংলাদেশ। প্রশ্ন উঠছে, এই বড় বাজারে কতটা জায়গা করে নিতে পারবে দেশটি।
জাপান সরকার ২০২৯ সালের মার্চের মধ্যে এসএসডব্লিউ ক্যাটাগরির ১৬টি খাতে ৮ লাখ ২০ হাজার বিদেশি কর্মী নিয়োগের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাংলাদেশ সঠিকভাবে প্রস্তুতি নিতে পারলে এই চাহিদার অন্তত ৪০ শতাংশ, অর্থাৎ ৩ লাখের বেশি কর্মী পাঠানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।
এর আগে মাত্র ছয়টি খাতে জনশক্তি পাঠানোর সক্ষমতা থাকলেও বর্তমানে সব খাতে দক্ষ কর্মী পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে সরকার। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিবর্তন বাংলাদেশের জন্য বড় সুযোগ তৈরি করছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জাপানিজ স্টাডিজ বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, জাপান বাংলাদেশের জন্য একটি আকর্ষণীয় শ্রমবাজার। সেখানে দক্ষ কর্মীর চাহিদা অনেক বেশি। সরকার দক্ষ জনবল তৈরি করতে পারলে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের ক্ষেত্র হিসেবে জাপান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
টোকিওতে বাংলাদেশ দূতাবাসের শ্রমকল্যাণ উইংয়ের তথ্যে জানা গেছে, জাপান ২০২৯ সালের মধ্যে দক্ষতা উন্নয়নভিত্তিক কর্মসংস্থান ও এসএসডব্লিউ ক্যাটাগরিতে প্রায় ১২ লাখ বিদেশি কর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা নিয়েছে। দীর্ঘমেয়াদে ২০৪০ সালের মধ্যে দেশটিতে প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ বিদেশি কর্মীর প্রয়োজন হতে পারে বলেও পূর্বাভাস রয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সুযোগ কাজে লাগাতে হলে কর্মীদের জাপানি ভাষা ও প্রযুক্তিগত দক্ষতায় পারদর্শী করে তুলতে হবে। জাপানের সামাজিক ও কর্মসংস্কৃতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে পারলে ভবিষ্যতে আরও বড় সুযোগ তৈরি হতে পারে।
এ লক্ষ্যে সরকার স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। কর্মীদের জাপানি ভাষা, সংস্কৃতি ও আইন সম্পর্কে প্রশিক্ষণ দিতে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর অধীনে দেশের ৫৩টি টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টারে জাপানি ভাষা শিক্ষা চালু হয়েছে। এছাড়া ১৫টি কেন্দ্রে অনলাইন পদ্ধতিতেও প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। বেসরকারি খাতে ২০০টির বেশি ভাষা শিক্ষাকেন্দ্র কার্যক্রম চালাচ্ছে।
বাংলাদেশ থেকে কর্মী পাঠাতে বর্তমানে জাপানের অনুমোদিত ৯৫টি রিক্রুটিং এজেন্ট কাজ করছে। পাশাপাশি জাপানের সহায়তায় প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা উন্নত করা, ভাষা শিক্ষক আনা এবং বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে দক্ষতা উন্নয়ন কার্যক্রম চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
শিক্ষার্থী পাঠানোর ক্ষেত্রেও গুরুত্ব বাড়ানো হয়েছে। ২০২৫ সালে স্টুডেন্ট ভিসায় জাপানে ৪ হাজার শিক্ষার্থী গেলেও ২০২৬ সালে এ সংখ্যা ১০ হাজারে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এজন্য সহজ শর্তে ঋণ সুবিধার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
এদিকে জাপানের শ্রমবাজারে ইতোমধ্যে নেপাল, ভিয়েতনাম ও ইন্দোনেশিয়া শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে। তাদের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে বাংলাদেশও নীতিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রস্তুতি জোরদার করছে।
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, দ্বিপাক্ষিক চুক্তি, প্রশিক্ষণ কার্যক্রম সহজ করা, আর্থিক সহায়তা এবং নিয়োগ প্রক্রিয়া সরলীকরণের মাধ্যমে জাপানে কর্মসংস্থানের সুযোগ আরও বাড়ানো হচ্ছে।
সব মিলিয়ে, জাপানের এই বিশাল শ্রমবাজার বাংলাদেশকে নতুন সম্ভাবনার সামনে দাঁড় করিয়েছে। তবে এই সুযোগ কতটা কাজে লাগানো যাবে, তা নির্ভর করছে দক্ষ জনশক্তি তৈরি ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার কার্যকর বাস্তবায়নের ওপর।

EDITOR & PUBLISHER :
DR. ARIF AHMED MOMTAZ RIFA
MOBILE : 01715110022
PHONE : 0821 716229
OFFICE : SHUVECHCHA-191
MIAH FAZIL CHIST R/A
AMBAKHANA WEST
SYLHET-3100
(Beside Miah Fazil Chist Jame Masjid & opposite to Rainbow Guest House).
E-mail : sylhetsangbad24@gmail.com
Hello : 01710-809595
Design and developed by M-W-D