সিলেটে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু

প্রকাশিত: ১০:৫৩ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ২৪, ২০২৬

সিলেটে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু

সিলেটে ১০ ঘণ্টার ব্যবধানে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) সকাল ১০টায় এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্যাডিয়াট্রিক আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১০ মাস বয়সী আরিফ, রাত ৮টা ১৫ মিনিটে ৫ মাস বয়সী তৌফিক ও রাত ৯টায় ৯ মাস বয়সী হুমায়রা মারা যায়।

এর মধ্যে আরিফ সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার মাটিয়াপুর গ্রামের ও তৌফিক সুনামগঞ্জ সদরের গাগটিয়া গ্রামের বাসিন্দা। তবে মারা যাওয়া হুমায়রার ঠিকানা তাৎক্ষনিকভাবে জানা যায়নি| এনিয়ে সিলেটে হাম উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়ালো ৯ জনে।

শুক্রবার রাতে এর সত্যতা নিশ্চিত করেছেন সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল উমর রাশেদ মুনির।

তিনি জানান, ১০ মাস বয়সী আরিফ হাম ও ব্রঙ্কোনিউমোনিয়ার সন্দেহে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল। পরে তার পেটে ব্যথা, কালো মল এবং নাক দিয়ে কালো রঙের তরল পদার্থ বের হতে শুরু করে। শিশুটির খিটখিটে আচরণ, প্রচণ্ড জ্বর এবং শকের লক্ষণ দেখা যায়। এটি হেমোরেজিক হাম বা ‘ব্ল্যাক হাম’ হতে পারে। পরীক্ষার জন্য নমুনা পাঠানো হয়েছে। অপরদিকে রাত ৮টায় মারা যাওয়া তৌফিক ও ৯টায় মারা যাওয়া হুমায়রা হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধিন ছিল।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সিলেট বিভাগীয় কার্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. মোহাম্মদ নূরে আলম শামীম জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় ল্যাব পরীক্ষায় নতুন করে ১০ জনের শরীরে হাম বা রুবেলা রোগ শনাক্ত হয়েছে। এই সময়ে হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন আরো ৫৮ জন।

চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২৪ এপ্রিল পর্যন্ত সিলেট বিভাগে মোট ৫৭ জনের শরীরে হাম ও রুবেলা শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে হবিগঞ্জে ৭ জন (২ জন রুবেলা), মৌলভীবাজারে ১৪ জন, সুনামগঞ্জে ২০ জন এবং সিলেটে ১৬ জন|

এদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় সিলেট বিভাগে নতুন করে আরও ৫৮ জন সন্দেহজনক রোগী বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ৩৩ জন, মৌলভীবাজার জেলা সদর হাসপাতালে ৫, সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ১১ জন, জালালাবাদ রাগিব রাবেয়া হাসপাতালে ১ জন, নর্থ ইস্ট হাসপাতালে ১ জন, মা ও শিশু হাসপাতালে ১ জন, জগন্নাথপুরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৩ জন ও শান্তিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৩ জন ভর্তি হয়েছেন।

বর্তমানে বিভাগজুড়ে বিভিন্ন হাসপাতালে মোট ১৬০ জন সন্দেহজনক রোগী চিকিৎসাধীন আছেন। এর মধ্যে শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে সর্বোচ্চ ৮৩ জন, ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১০ জন, রাগিব রাবেয়া হাসপাতালে ৩ জন, মাউন্ট এডোরা হাসপাতালে ১ জন, নর্থ ইস্ট হাসপাতালে ৫ জন, পার্কভিউ হাসপাতালে ১ জন, ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২ জন, কানাইঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১ জন, শান্তিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য মপ্লেক্সে ২ জন, বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২ জন, সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে ১৪ জন, জামালগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১ জন, জগন্নাথপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৬ জন, হবিগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ৮ জন, বানিয়াচং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১ জন ও মৌলভীবাজার জেলা সদর হাসপাতালে ২০ জন ভর্তি রয়েছেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সিলেট বিভাগীয় কার্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. মোহাম্মদ নূরে আলম শামীম জানান, সিলেটে এখন পর্যন্ত ৯ শিশুর মৃত্যু দুঃখজনক। সিলেটে হাম টিকা ক্যাম্পেইন শুরু হয়েছে। এতে আক্রান্ত ও মৃত্যুর হার কমে আসবে। তবুও অভিভাবকদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে।


 

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট