কমলগঞ্জে প্রাথমিক শিক্ষার বেহাল দশা, বৃত্তি পরীক্ষায় অনিয়ম-অব্যবস্থাপনা

প্রকাশিত: ৭:১০ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ১৮, ২০২৬

কমলগঞ্জে প্রাথমিক শিক্ষার বেহাল দশা, বৃত্তি পরীক্ষায় অনিয়ম-অব্যবস্থাপনা

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষার বেহাল দশা ধারণ করেছে। বিদ্যালয় সমুহে শিক্ষা কর্মকর্তার নিয়মিত মনিটরিং না থাকা, শিক্ষকদের সুযোগ সুবিধার বিষয়ে শিক্ষা কর্মকর্তার অনীহা, বৃত্তি পরীক্ষা কেন্দ্রে একই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করাসহ উপজেলা শিক্ষা অফিসারের নানা অব্যবস্থাপনা নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, কমলগঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার এনামুর রহিম বাবর বিগত আওয়ামীলীগ সরকারের সময়ে সুনামগঞ্জ জেলার সদর উপজেলায় ২০২২ সনে কর্মস্থলে থাকাকালীন তার বিরুদ্ধে বদলি ও স্বেচ্ছাচারিতাসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠে। এই অনিয়মের অভিযোগে তাকে জেলা শিক্ষা অফিস থেকে শোকজ করা হয়। পরবর্তীতে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে তাকে বদলির আদেশন দেয়া হয় নেত্রকোণা জেলার খালিয়াজুড়ি উপজেলায়। তবে সুনামগঞ্জ সদরের তৎকালীন এমপি পীর ফজলুর রহমান মিছবাহ এর সাথে তদবির করে একই স্থানে বহাল তবিয়তে ছিলেন। সরকার পরিবর্তন হওয়ার পর শিক্ষা অফিসার নিজে পুনরায় উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের সাথে তদবির করে বদলিকৃত খালিয়াজুড়ি উপজেলার শিক্ষা অফিসারের আদেশ বাতিল করে ২০২৫ সনের ২৩ জুলাই বদলিকৃত কর্মস্থল হিসাবে কমলগঞ্জ উপজেলায় আসেন। এই শিক্ষা কর্মকর্তা কমলগঞ্জে আসার পর থেকেই শিক্ষকদের সাথে নানা জটিলতা তৈরি হয়। উপজেলার ১৫২টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়াশোনার মান নিয়েও নানা প্রশ্ন দেখা দেয়।

শনিবার (১৮ এপ্রিল) সরেজমিনে কমলগঞ্জ উপজেলায় প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা কেন্দ্র ঘুরে দেখা যায়, দু’টি কেন্দ্রে বৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। তবে শুরু থেকেই কেন্দ্রে অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনায় পরীক্ষা চলছে বলে স্থানীয় সচেতন মহল ও শিক্ষকরা অভিযোগ তুলেছেন। নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করেই কমলগঞ্জে দুটি পরীক্ষা কেন্দ্রে একই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও শিক্ষক দায়িত্ব পালন করেন। বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিলে শিক্ষা অফিসার ওই শিক্ষককে দায়িত্ব পালন থেকে অব্যাহতি দেন। অন্যদিকে কমলগঞ্জ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে যে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী পরীক্ষা দিচ্ছে সে কেন্দ্রে একই বিদ্যালয়ের শিক্ষককে হল সুপারের দায়িত্ব দেয়া হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বেশ কয়েকজন শিক্ষক জানান, তারা অসুস্থতাসহ বিভিন্ন প্রয়োজনে ব্যাংক থেকে ঋণ তুলতে পারছেন না। উপজেলা শিক্ষা অফিসার এনামুর রহিম বাবর কমলগঞ্জে আসার পর থেকে কোন শিক্ষকই ব্যাংক থেকে ঋণ তুলতে পারছেন না। তিনি নানা অজুহাতে ব্যাংক ঋণের ফর্মে স্বাক্ষর দিচ্ছেন না। তাছাড়া নিজের দাপট নিয়ে ইচ্ছেমতো অফিস পরিচালনা করছেন। প্রয়োজনীয় কোন বিষয়ে শিক্ষকদের নিয়েও কোন পরামর্শ করার প্রয়োজন বোধ করেন না। তিনি ইচ্ছে মতো মৌখিকভাবে ডেপুটেশন বাণিজ্যও চালিয়ে যাচ্ছেন। তার পছন্দ মতো দু’একটি বিদ্যালয় মাঝে মধ্যে পরিদর্শন করে নিয়ম বজায় রাখেন।

রূপালী ব্যাংক কেরামতনগর শাখার ব্যব্যবস্থাপক প্রমোদ সিন্হা জানান, অনেক শিক্ষকের বেতন এই শাখা থেকে হয়। অতীতে উপজেলা শিক্ষা অফিসাররা শিক্ষকদের ব্যাংক নির্ধারিত ফরমেটে ব্যক্তিগত ঋণের আবেদনে স্বাক্ষর করতেন। কিন্তু এনামুর রহিম বাবর কমলগঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার হিসেবে যোগদানের পর থেকে কোন শিক্ষকের ব্যাংক ঋণে স্বাক্ষর না করায় কেউ নতুন ঋণ গ্রহণ করতে পারছে না। এতে শিক্ষকদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

এদিকে গত ১৫ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় কমলগঞ্জে মোট ১১৯৮ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৮৬৫ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়। এরমধ্যে অনুপস্থিত ছিল ৩৩৩ জন শিক্ষার্থী। শিক্ষা অফিসের অব্যবস্থাপনা ও শিক্ষকদের সাথে সমম্বয়ের অভাবে ৩৩৩ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অনুপস্থিত ছিল। বৃত্তি পরীক্ষা কেন্দ্রে সাংবাদিকদের ছবি তুলতেও নিষেধ প্রদান করা হয়।

অভিযোগ বিষয়ে কমলগঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার এনামুর রহিম বাবর বলেন, বৃত্তি পরীক্ষায় কোন অনিয়ম হয়নি। একজন শিক্ষকের সন্তান পরীক্ষার্থী থাকার সংবাদ পেয়ে ওই শিক্ষককে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়। তাছাড়া একই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী কেন্দ্রে পরীক্ষার্থী থাকলে সে কেন্দ্রে একই বিদ্যালয়ে শিক্ষককে হল সুপার কিংবা সহকারি হল সুপার হিসাবে দেয়া যায়। তারা পরীক্ষা কক্ষে প্রবেশ করেন না। তাছাড়া শিক্ষকদের ব্যাংক ঋণের বিষয়ে তারা জিপি ফান্ড থেকে ঋণ নিতে চাইলে দ্রুত স্বাক্ষর করে দিচ্ছি। অন্যান্য ঋণের বিষয়ে আমার স্বাক্ষর দেয়ার কোন নিয়ম নেই।