সুনামগঞ্জে চিকিৎসা অবহেলায় শিশুর মৃত্যুর অভিযোগ, স্বাস্থ্যকর্মীকে মারধর

প্রকাশিত: ২:৩০ অপরাহ্ণ, মার্চ ২৩, ২০২৬

সুনামগঞ্জে চিকিৎসা অবহেলায় শিশুর মৃত্যুর অভিযোগ, স্বাস্থ্যকর্মীকে মারধর

সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা অবহেলার অভিযোগে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

রোববার (২২ মার্চ) সন্ধ্যায় ফারাবি নামের ১১ মাস বয়সী এক শিশুর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ক্ষুব্ধ স্বজনরা জরুরি বিভাগের এক চিকিৎসা সহকারীকে মারধর করেন এবং হাসপাতালে ভাঙচুর চালান।

মৃত ফারাবি উপজেলার সেলবরষ ইউনিয়নের বগারপাছুর গ্রামের কাঠমিস্ত্রি মানিক মিয়ার ছেলে।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, সর্দি ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে রোববার দুপুর দেড়টার দিকে ফারাবিকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে আনা হয়। স্বজনদের অভিযোগ, কর্তব্যরত উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার রঞ্জন কিশোর চাকলাদার প্রায় ৪০ মিনিট দেরিতে শিশুটিকে দেখেন এবং পরে ভর্তি করেন।

দুপুর সোয়া দুইটা থেকে বিকেল সাড়ে পাঁচটা পর্যন্ত চারজন চিকিৎসক শিশুটিকে চিকিৎসা দেন। অবস্থার অবনতি হলে বিকেল ৫টা ৪০ মিনিটে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।

কিন্তু হাসপাতাল থেকে বের করার সময় সন্ধ্যা সোয়া ছয়টার দিকে শিশুটি অচেতন হয়ে পড়লে তাকে আবার জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। পরে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

উত্তেজনা ও হামলা শিশুর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে ক্ষুব্ধ স্বজন ও স্থানীয় ৫০-৬০ জন মানুষ সন্ধ্যা পৌনে আটটার দিকে জরুরি বিভাগের সামনে বিক্ষোভ শুরু করেন। একপর্যায়ে কয়েকজন ভেতরে ঢুকে চিকিৎসা সহকারী রঞ্জন কিশোর চাকলাদারকে টেনেহিঁচড়ে বের করে মারধর করেন। এ সময় হাসপাতালের আসবাবপত্র ও যন্ত্রপাতিও ভাঙচুর করা হয়।

সহকর্মীদের সহায়তায় আহত ওই স্বাস্থ্যকর্মী প্রাণে রক্ষা পান। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ খবর পেয়ে পুলিশ ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। রাত নয়টার দিকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।

স্বজনদের অভিযোগ শিশুটির চাচা শেখ চান অভিযোগ করেন, “ডাক্তার সময়মতো চিকিৎসা দেননি। আমার ভাতিজার শ্বাসকষ্ট থাকলেও নেবুলাইজার ও অক্সিজেন দিতে দেরি করা হয়েছে। এই অবহেলার কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে।”

চিকিৎসকদের বক্তব্য, অভিযোগ অস্বীকার করে চিকিৎসা সহকারী রঞ্জন কিশোর চাকলাদার বলেন, তিনি যথাযথ দায়িত্ব পালন করেছেন।

নার্স পলাশ গোস্বামী জানান, চিকিৎসকদের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সব সেবা দেওয়া হয়েছে।

কর্তৃপক্ষের প্রতিক্রিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সুবীর সরকার বলেন,“শিশুটিকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তবে অবহেলার অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

তিনি আরও জানান, হাসপাতালের ভাঙচুর ও স্বাস্থ্যকর্মীর ওপর হামলার ঘটনাটি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। চিকিৎসা অবহেলা নাকি অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি—তা তদন্তের পরই স্পষ্ট হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।


 

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট