দক্ষিণ সুরমায় রাজনৈতিকদলের নাম ভাঙিয়ে প্রবাসীর জমি দখলের অভিযোগ

প্রকাশিত: ৬:১৭ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ২০, ২০২৬

দক্ষিণ সুরমায় রাজনৈতিকদলের নাম ভাঙিয়ে প্রবাসীর জমি দখলের অভিযোগ

সিলেটের দক্ষিণ সুরমায় ছাত্রদলের নাম ভাঙিয়ে প্রবাসীর জমি দখল করা হয়েছে। একই সাথে ওই প্রবাসী পরিবারের সদস্যদেরকে প্রাণনাশের হুমকিও দিচ্ছে দখলদারচক্র।

মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) দুপুরে সিলেটে জেলা প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন দক্ষিণ সুরমার লাউয়াই গ্রামের যুক্তরাজ্য প্রবাসী শহিদুল ইসলাম।

লিখিত বক্তব্যে শহিদুল ইসলাম বলেন, লাউয়াই গ্রামের ধরাধরপুর মৌজার অন্তর্গত এসএ ৩৪ ও বিএস ৭৫৭নং খতিয়ানের এসএ ৪৫১ ও ৪৫২, বিএস ৫২৯ ও ৫৩২ দাগে প্রায় ২৩ শতক জমির মালিক ছিলেন আমার পূর্বপুরুষরা। উত্তরাধীকার সূত্রে আমি এ জমির মালিক হই। আমি একজন রেমিটেন্স যোদ্ধা। এই জমিতে আমাদের বসতবাড়িও রয়েছে। কিছুদিন পূর্বে বাড়ির উত্তর সীমানায় সীমানা প্রাচীর নির্মাণ কাজ শুরু করলে প্রতিবেশী মৃত মখলিছুর রহমানের ছেলে মিজানুর রহমান, তার চাচা মুজিবুর রহমান ও মুনিমুর রহমান তাতে বাধা দেন। তাদের মধ্যে মিজানুর রহমান নিজেকে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল দক্ষিণ সুরমা উপজেলার আহবায়ক হিসেবে পরিচয় দেন।

শহিদুল বলেন, সীমানা প্রাচীর নির্মাণ কাজে বাধা দেয়ার বিষয়টি স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদেরকে অবগত করা হলে তারা সালিশ বৈঠকে বসেন। ওই বৈঠকে মিজানুর রহমান ও তার স্বজনদের দাবিকৃত মালিকানা সঠিক নয় বলে সিদ্ধান্ত হয়। একই সাথে আমাকে ওই জমি ভোগদখলের অনুমতিও সালিশ বৈঠকে দেয়া হয়। কিন্তু ওই সালিশি রায় অমান্য করে ২০২৫ সালের ১২ ডিসেম্বর ভোরে আমার মালিকানাধীন জমি জোরপূর্বক দখল করেন মিজানুর ও তার স্বজনরা। পাশাপাশি তারা আমাকে ও আমার ভাই আমিনুল ইসলাম শরীফকে একের পর এক হত্যার হুমকি দিচ্ছেন। এমনকি আমার সম্পত্তির মালিকানা নেয়ার জন্য তারা জাল কাগজপত্র তৈরিসহ নানা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছেন।

শহিদুল বলেন, সীমানা প্রাচীর নির্মাণ কাজে বাধা দেয়ার বিষয়টি স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদেরকে অবগত করা হলে তারা সালিশ বৈঠকে বসেন। ওই বৈঠকে মিজানুর রহমান ও তার স্বজনদের দাবিকৃত মালিকানা সঠিক নয় বলে সিদ্ধান্ত হয়। একই সাথে আমাকে ওই জমি ভোগদখলের অনুমতিও সালিশ বৈঠকে দেয়া হয়। কিন্তু ওই সালিশি রায় অমান্য করে ২০২৫ সালের ১২ ডিসেম্বর ভোরে আমার মালিকানাধীন জমি জোরপূর্বক দখল করেন মিজানুর ও তার স্বজনরা। পাশাপাশি তারা আমাকে ও আমার ভাই আমিনুল ইসলাম শরীফকে একের পর এক হত্যার হুমকি দিচ্ছেন। এমনকি আমার সম্পত্তির মালিকানা নেয়ার জন্য তারা জাল কাগজপত্র তৈরিসহ নানা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছেন।

শহিদুল ইসলাম বলেন, এ ব্যাপারে গত ১৪ জানুয়ারি আমি সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ (এসএমপি)’র দক্ষিণ সুরমা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করি। এরপর গত ১৭ জানুয়ারি সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ (এসএমপি) কমিশনার বরাবরে আরো একটি অভিযোগ দায়ের করি। এর পাশাপাশি গত ১৮ জানুয়ারি সিলেটের জেলা প্রশাসক বরাবরেও অনুরূপ একটি অভিযোগপত্র দাখিল করার পর বিষয়টি সেনাবাহিনীকে অবগত করি। তবে এব্যাপারে এখনো কোনো সহযোগিতা পাইনি।

সংবাদ সম্মেলনে শহিদুল বলেন, অবৈধ দখলদারচক্রের কাছ থেকে আমি আমার বৈধ ভূ-সম্পত্তি ফিরে পেতে চাই। জবরদখলদার চক্রকে উচ্ছেদ করতে জেলা ও পুলিশ প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

সংবাদ সম্মেলনে শহিদুল ইসলামের পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম শরীফ। উপস্থিত ছিলেন ইফতেখার হোসেন, মো. আব্দুল ওয়াদুদ, কামাল আহমদ প্রমুখ।