সিলেটে বছরের প্রথম দিনেই শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই

প্রকাশিত: ৩:৫২ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১, ২০২৬

সিলেটে বছরের প্রথম দিনেই শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই

নতুন বছরের শুরুতেই নতুন বইয়ের ঘ্রাণে মুখর হয়ে উঠে সিলেটের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো। বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) সকালে স্কুলে স্কুলে শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন পাঠ্যবই তুলে দেওয়া হয়। বছরের প্রথম দিনেই বই হাতে পেয়ে উচ্ছ্বসিত দেখা যায় প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের। কেউ আগ্রহভরে পাতা উল্টে দেখছে, কেউ আবার রঙিন মলাটের বই বুকে জড়িয়ে ধরে আনন্দ প্রকাশ করছে।

সকাল থেকেই সিলেট নগরসহ বিভিন্ন উপজেলায় সরকারি ও বেসরকারি বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন শ্রেণিতে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের হাতে পাঠ্যবই তুলে দেন শিক্ষকরা। কোথাও কোথাও শিক্ষার্থীদের ফলাফল যাচাই শেষে বই বিতরণ করা হয়।

শিক্ষা সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এ বছর কেন্দ্রীয়ভাবে বই উৎসব আয়োজন করা হয়নি। তবে ১ জানুয়ারি থেকে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বই বিতরণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং তা বাস্তবায়ন হচ্ছে।

সিলেট প্রাথমিক ও গণশিক্ষা অফিস সূত্র জানায়, জেলার ১৩টি উপজেলায় বরাদ্দকৃত শতভাগ পাঠ্যবই ইতোমধ্যে সরবরাহ সম্পন্ন হয়েছে। জেলার ১ হাজার ৪৭৭টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সকাল থেকেই শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই তুলে দেওয়া হচ্ছে।

অন্যদিকে মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, এখন পর্যন্ত বরাদ্দের প্রায় ৮০ শতাংশ বই সরবরাহ করা হয়েছে। মাধ্যমিক পর্যায়ের আওতাধীন জেলার ২০০টি স্কুল ও ৬২টি মাদ্রাসায় বই বিতরণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে। আগামী এক থেকে দুই দিনের মধ্যে বাকি বইগুলোও শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছে যাবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের সিলেট বিভাগীয় উপপরিচালক আবু সায়ীদ মো. আব্দুল ওয়াদুদ জানান, “এ বছর কোনো আনুষ্ঠানিক বই উৎসব হচ্ছে না। বিদ্যালয় থেকেই অভ্যন্তরীণভাবে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বই বিতরণ করা হচ্ছে।”

বৃহস্পতিবার সকালে সিলেটের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয় ঘুরে দেখা যায়, সকাল থেকেই শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের উপস্থিতিতে স্কুলগুলো মুখর হয়ে ওঠে। আনুষ্ঠানিকতা শেষে নতুন শ্রেণিতে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের রেজাল্ট শিট যাচাই করে শিক্ষকরা হাতে তুলে দেন নতুন পাঠ্যবই।

নতুন বই হাতে পেয়ে শিশু শিক্ষার্থীদের উচ্ছ্বাস ছিল চোখে পড়ার মতো। অভিভাবকরাও আশা প্রকাশ করেন, নতুন বই শিশুদের পড়াশোনায় নতুন উদ্যম ও আগ্রহ সৃষ্টি করবে।

সিলেট বিভাগের চারটি জেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মোট ১৬ লাখ ৩০ হাজার শিক্ষার্থীর মধ্যে ৫৮ লাখ ৮৫ হাজার ২৩টি বই বিতরণ করা হচ্ছে। এর মধ্যে প্রাক-প্রাথমিকে ২ লাখ ২৫ হাজার, প্রথম শ্রেণিতে ২ লাখ ৯৯ হাজার, দ্বিতীয় শ্রেণিতে ২ লাখ ৯০ হাজার, তৃতীয় শ্রেণিতে ২ লাখ ৭০ হাজার, চতুর্থ শ্রেণিতে ২ লাখ ৮০ হাজার এবং পঞ্চম শ্রেণিতে ২ লাখ ৬৫ হাজার শিক্ষার্থী রয়েছে।

জানা গেছে, সিলেট বিভাগের প্রাক-প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত মোট ৫৮ লাখ ১২ হাজার ২৪৪টি বই এবং ইংরেজি ভার্সন স্কুলের জন্য আরও ৭২ হাজার ৭৭৯টি বই ইতোমধ্যে উপজেলাগুলোতে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।

তবে মাধ্যমিক, মাদ্রাসা ও ভোকেশনাল পর্যায়ের ১২ লক্ষাধিক শিক্ষার্থীর জন্য প্রয়োজনীয় ১ কোটি ৩২ লাখ ২৬ হাজার ৮১৯টি বইয়ের বিপরীতে এখন পর্যন্ত পৌঁছেছে ৯৬ লাখ ৮৫ হাজার ১১৬টি বই। অর্থাৎ প্রায় ৬৯ শতাংশ বই সরবরাহ হয়েছে, বাকি ৩১ শতাংশ বই এখনো পাওয়া যায়নি।

এর মধ্যে মাধ্যমিক স্কুলের জন্য প্রয়োজনীয় ৮৫ লাখ ৬৪ হাজার ১৬৭টি বইয়ের বিপরীতে পৌঁছেছে ৫৪ লাখ ৯৬ হাজার ১০৯টি, মাদ্রাসার জন্য প্রয়োজনীয় ৪৪ লাখ ৩২ হাজার ৪৭০টির বিপরীতে পৌঁছেছে ৪০ লাখ ৪০ হাজার ৭১৯টি এবং ভোকেশনাল শিক্ষার্থীদের জন্য প্রয়োজনীয় ২ লাখ ৩০ হাজার ১৮২টির বিপরীতে পাওয়া গেছে ১ লাখ ৪৫ হাজার ২৯৮টি বই।

ফলে সিলেট অঞ্চলের প্রায় ১২ লক্ষাধিক মাধ্যমিক, মাদ্রাসা ও ভোকেশনাল শিক্ষার্থী আপাতত আংশিক বই নিয়েই নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরু করতে বাধ্য হচ্ছে।


 

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট