ভূমি বিরোধে হামলা-হুমকির শিকার রাজিয়া বেগম, প্রতীকার দাবি

প্রকাশিত: ৫:৩১ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৫

ভূমি বিরোধে হামলা-হুমকির শিকার রাজিয়া বেগম, প্রতীকার দাবি

ভূমি দখল নিয়ে বিরোধের জেরে সিলেটের এয়ারপোর্ট থানাধীন চাতল সোনাতলা মৌলাটিকর এলাকার রাজিয়া বেগম ও তার পরিবারের ওপর একাধিকবার হামলা ও শারীরিক নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। এ ঘটনায় ভূমিখেকো চক্রের সদস্যদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

শনিবার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সিলেট জেলা প্রেসক্লাবের হলরুমে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে রাজিয়া বেগমের পক্ষে তার মেয়ে ফাতেহা আক্তার জানান, জমির মালিকানা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে জমি দখলকারীদের সাথে বিরোধ চলছে। ভূমিখেকো চক্রের সদস্যরা জমির মূল্য বৃদ্ধি করতে তাদের ভূমি জোরপূর্বক দখল করার চেষ্টা চালাচ্ছে। ইতিমধ্যে দুই শতক জমি দখল করা হয়েছে এবং জমি ছাড়তে অস্বীকৃতি জানালে পরিবারের সদস্যরা নির্মম নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন।

তিনি জানান, চাতল মৌজার এস এ ১৯২২, বি এস ৩৮৪৬ নং দাগে ৭৭ শতাংশ জমির মালিক তার বাবা আব্দুস শহীদ। বাবার মৃত্যুর পর বাবার সম্পত্তির একটি অংশ পান তিনি। বাটোয়ারায় প্রাপ্ত অংশ খতিয়ানে প্রত্যেকের নিজ নিজ নামে রেকর্ডভুক্ত। বড় ভাই সাইস্তা মিয়া মারা যাওয়ার পর সম্প্রতি তার স্ত্রী রহিমা বেগম ও ছেলে রাদি স্থানীয় মোহাম্মদ আব্দুল মুছাব্বির মিয়ার পরিবারের সদস্যদের কাছে তাদের অংশ বিক্রি করেন।
তিনি অভিযোগ করেন, ভাই সাইস্তা মিয়ার জমির অবস্থান আমার জমি থেকে আরও তিন প্লট দক্ষিণে থাকলেও জমি বিক্রির সময় তার স্ত্রী ও ছেলে চৌহাদ্দায় ভুল অংশ অর্থাৎ রাজিয়া বেগমের অংশ তাদের নিজেদের বলে দলিলে উল্লেখ করেন।
মুছাব্বির মিয়া এলাকায় প্রভাবশালী ও ফেৎনাবাজ হওয়ায় তারা এখন জোরপূর্বক এই জমি দখলের চেষ্টা চালাচ্ছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, জমির ক্রেতা আব্দুল মুছাব্বিরের সঙ্গে আমাদের বিরোধ সৃষ্টি হয়। ভাইদের নিয়ে তিনি জোরপূর্বক আমার প্রাপ্ত ভূমি জবর দখল করে নেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছেন।

প্রতিপক্ষের হামলার শিকার হয়েছেন দাবি করে রাজিয়া বেগম জানান, গত ২৯ আগস্ট বিকেলে আমার বাড়িতে মুছাব্বির গং আমাকে মারধর করে এবং মেরে ফেলার হুমকি দেয়। এক পর্যায়ে হামলা চালালে আমি ও আমার স্বামী নাজিম উদ্দিন, ছেলে তানজিল আহমদ আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হই। হামলার সময় পূবালী ব্যাংক থেকে উত্তোলন করা ৩ লাখ টাকা তারা ছিনিয়ে নেয়।হামলার শিকার হলেও পুলিশ প্রথমে মামলা নেয়নি অভিযোগ করে তিনি বলেন, ঘটনার পরদিন চাতল এলাকায় মুছব্বির ও তার দুই ছেলে জুবের ও মুজাম্মিলসহ অন্যরা আমার ছেলেকে বেধড়ক মারপিট করে। এই ঘটনায় আমার মেয়ে ফাতেহা আক্তার বাদী হয়ে থানায় এজাহার জমা দিলেও সেটি এখনো রেকর্ড করা হয়নি। পরবর্তীতে গত ১৭ সেপ্টেম্বর একটি মামলা রেকর্ড করে পুলিশ।
রাজিয়া বেগম অভিযোগ করেন, ভাইয়ের জমি ১০০ ফুট দূরে থাকলেও চক্রান্ত করে ঘর ভেঙে যাতায়াতের রাস্তা করে দিতে এই ধরনের হয়রানি ও নির্যাতন চালিয়ে যাচ্ছে তারা। মামলা দিয়ে ফাঁসানো ও প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে নিজে ও পরিবারের সদস্যরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জানান তিনি।
মুছব্বিরদের কাছে এলাকাবাসীও জিম্মি জানিয়ে তিনি বলেন, তারা পাঁচ ভাই এলাকার পঞ্চায়েতি রাস্তা দখল করে রেখেছে। এলাকার লোকজনের যাতায়াতের এই রাস্তা দখল করে রাখায় লোকজনের চলাচলের অনেক কষ্ট হচ্ছে। এই নিয়ে এলাকায় অনেক বিচার সালিশ হয়েছে।
রাজিয়া বেগম প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে আবেদন জানান, “আমাদের সুরক্ষা এবং ন্যায্য বিচার নিশ্চিত করুন। আমাদের পরিবারকে ভূমিখেকো চক্রের অত্যাচার থেকে রক্ষা করুন।”
স্থানীয়রা জানান, ভূমিখেকো চক্র রাস্তা দখল করে এলাকার মানুষের চলাচলে বাধা সৃষ্টি করছে। স্থানীয় সালিশ ও নানা প্রচেষ্টা করেও তাদের থামানো সম্ভব হয়নি।
রাজিয়া বেগম বলেন, “আমাদের ওপর হামলা, মিথ্যা মামলা ও ভয়-ভীতি চলতে থাকায় আমরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। দ্রুত তদন্ত ও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আকুল আবেদন করছি।


সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট