সিলেটে নাগরিক ভোগান্তি দূর ও প্রাণ-প্রকৃতি রক্ষায় পথসভা ও প্রচারপত্র বিলি

প্রকাশিত: ৭:৩৮ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৮, ২০২৫

সিলেটে নাগরিক ভোগান্তি দূর ও প্রাণ-প্রকৃতি রক্ষায় পথসভা ও প্রচারপত্র বিলি

বাম গণতান্ত্রিক জোট সিলেট জেলা শাখার উদ্যোগে ৮দফা দাবিতে আজ ৮ সেপ্টেম্বর বিকাল ৫টায় আম্বরখানা পয়েন্টে পথসভা ও প্রচারপত্র বিলি করা হয়।

বাসদ সিলেট জেলার সদস্য সচিব প্রণবজ্যোতি পালের সঞ্চালনায় এবং বাম গণতান্ত্রিক জোট সিলেট জেলা ও বাসদ (মার্কসবাদী) সিলেট জেলার সমন্বয়ক সঞ্জয় কান্ত দাসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগ সিলেট জেলার সম্পাদক সিরাজ আহমেদ, বাসদ সিলেট জেলা কমিটির সদস্য নাজিকুল ইসলাম রানা, বাংলাদেশ চা শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সমন্বয়ক মনীষা ওয়াহিদ প্রমুখ।

এসময় উপস্থিত ছিলেন বাসদ সিলেট জেলার আহ্বায়ক আবু জাফর, সিপিবি সিলেট জেলার সাধারণ সম্পাদক খায়রুল হাসান, বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগের সদস্য ডা.হরিধন দাস, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট সিলেট নগর শাখার সভাপতি সুমিত কান্তি দাস পিনাক, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন সিলেট জেলার সাধারণ সম্পাদক মাশরুখ জলিল প্রমুখ।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, “প্রাচীনকাল থেকেই পাহাড়-টিলা, হাওর, নদীর অপূর্ব সমন্বয়ে গড়ে উঠেছে সিলেটের প্রাণ-প্রকৃতি। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে বিশ্ব বরেণ্য কবি-সাহিত্যিকরা সিলেটকে অভিহিত করেছিলেন ‘সুন্দরী শ্রীভূমি’ নামে। অথচ আজ অপরিকল্পিত নগরায়ন, ব্যাপক লুটপাট আর প্রকৃতির উপর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার নীতি ‘শ্রীভূমি’ সিলেটকে হতশ্রী করে তুলেছে। অতি সম্প্রতি ঘটা ‘সাদাপাথর’ কান্ড শুধু নয়, বহুদিন থেকেই সিলেটের ছড়া, নালা, খাল, পুকুর দখল হয়ে আছে। সুরমা, কুশিয়ারা, বাসিয়া নদী ড্রেজিং হয় না অনেকদিন। এ জন্য অল্প বৃষ্টিতেই বন্যা, জলাবদ্ধতার সমস্যা দেখা দিচ্ছে। হাওর ভরাট করা হচ্ছে অবাধে, নিয়মিত কাটা হচ্ছে পাহার বা টিলা। ফলে বাড়ছে ভূমিকম্পের ঝুঁকি।

এর পাশাপাশি নাগরিক জীবনকে অতিষ্ঠ করছে তুলছে ব্যাপক লুটপাট ও অপরিনামদর্শী বিভিন্ন প্রকল্প। সিলেটের রেল ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত দূর্বল। টিকেটের কালোবাজারি চরমে। এখন ঢাকা-সিলেট, সিলেট-চট্টগ্রামে চালু হয়নি ডাবল লাইন এবং বিরতিহীন ট্রেন। ঢাকা- সিলেট বাস যাতায়াতে এখন ভোগান্তির শেষ নাই। রাস্তার কাজ কবে শেষ হবে কেউ জানে না। ৬ঘন্টার পথ আসতে লেগে যাচ্ছে ১০/১২ঘন্টা।

এদিকে সিলেটের স্বাস্থ্য খাতের অবস্থায়ও শোচনীয়। সিলেট ওসমানী হাসপাতালে মাত্রাতিরিক্ত চাপ, অব্যবস্থাপনা, অনিয়ম ও দূর্নীতির কারণে রোগীদের যেন ভোগান্তির শেষ নেই। আবার দীর্ঘদিন ধরেই ২৫০শয্যা বিশিষ্ট সিলেট জেলা হাসপাতাল চালু হচ্ছে না। সিলেট শহরে প্রতিনিয়ত বাড়চে যানজট। বিশুদ্ধ পানীয় জলের সংকট দিন দিন প্রকট হচ্ছে।”

নেতৃবৃন্দ বলেন, সিলেটের নাগরিক জীবনের ভোগান্তি দূর করতে ও প্রাণ-প্রকৃতি রক্ষায় বাম গণতান্ত্রিক জোট সিলেট জেলার ৮দফা দাবিতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তোলার বিকল্প নাই”।


 

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট