২৩শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১০ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ১২:৫৫ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ১৮, ২০১৭
দীর্ঘ ১০ বছরে বিপর্যস্ত বিএনপি হঠাৎ করে চাঙ্গা হয়ে উঠেছে। কেন্দ্র থেকে তৃণমূল সর্বত্রই এই চাঙ্গাভাব বিরাজ করছে। নেতা-নেত্রীদের বক্তব্যেও দৃঢ় মনোবল লক্ষ্যণীয়। কিছু দিন আগেও যেখানে বিএনপি নেতা-নেত্রীরা দ্বিধাদ্বন্দ্বে ছিলেন সেখানে আজ বেশ দৃঢ় মনোবল নিয়ে রাজনীতির মাঠে।
এছাড়া এতদিন মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মীদের পিছুটান লক্ষ্য করা গেলেও সম্প্রতি তারা বেশ চাঙ্গা হয়ে উঠেছে। গেল কিছুদিন থেকে দলীয় প্রোগামগুলোতে উপস্থিতি ছিল লক্ষ্যনীয়। শুধু ঢাকাতেই নয়, জেলা-বিভাগীয় শহরেও চাঙ্গা হয়ে উঠেছে দলীয় নেতাকর্মীরা। তারা এখন আন্দোলনমুখী হচ্ছে। ফলে তৃণমূলের নেতাকর্মীরাও আন্দোলনের কর্মসূচি দেয়ার কথা বলছে।
হঠাৎ বিএনপির এই পরিবর্তনের পেছনে কী কারণ থাকতে পারে? এমন প্রশ্ন অনেকের মধ্যেই বিরাজমান। এর পেছনে এমন কোনো মেসেজ থাকতে পারে- যার কারণে বিএনপি ফের আন্দোলনের মাঠে নামতে চাচ্ছে। জানা গেছে, তারা সরকার পতনের আন্দোলনে নামার কথাও ভাবছে। বিশ্বরাজনীতিতে নানা মেরুকরণ হওয়ায় বাংলাদেশেও ক্ষমতার পরিবর্তন অস্বাভাবিক কিছু নয় বলে মনে করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
এদিকে এর আগে কয়েক দফা সরকার পতনের আন্দোলনে ব্যর্থতার পর চুপসে যাওয়া বিএনপির পক্ষে এখনো সরকার হটানো সম্ভব বলে মনে করেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সম্প্রতি বন্যা দুর্গত হাওর অঞ্চল পরিদর্শন করে এই বিশ্বাস জন্মেছে তার বলে তিনি নিজেই জানিয়েছেন।সোমবার এক অনুষ্ঠানে সরকারবিরোধী আন্দোলনের জন্য নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, তার বিশ্বাস জন্মেছে এই আন্দোলনে সফল হওয়া যাবে।
ফখরুল বলেন, ‘হাওর অঞ্চলে বন্যাদুর্গত মানুষের খোঁজ নিতে গিয়ে সেখানে যে অভুতপূর্ব আবেগ ও সাড়া দেখেছি, তাতে আমার বিশ্বাস জন্মেছে আমরা যদি ঐক্যবদ্ধ হতে পারি তাহলে এই অপশক্তি আর ক্ষমতায় থাকতে পারবে না।’
তিনি আরো বলেন, ‘আজকে এই কষ্টের দিনে আমাদের শপথ নিতে হবে যে কোনো মূল্যে গণতন্ত্রকে ফিরিয়ে আনবো।’
এ ধরনের বক্তব্য শুধু মির্জা ফখরুলের মনে নয়, অন্যান্য নেতাদের কন্ঠেও শোনা যাচ্ছে। সবাই একই সুরে কথা বলছেন, দলকে আন্দোলনমুখী হতে। তারা যে কোনো মূল্যে ক্ষমতার পট পরিবর্তন চায়।
বিএনপির চেয়ারপারসনের মুখেও একই ধ্বনি উচ্চারিত হচ্ছে। আগে চেয়ে বর্তমানে বেশ দৃঢ় মনোবলে আন্দোলনের কথা বলছেন তিনি।
সোমবারও এক টুইট বার্তায় বেগম খালেদা জিয়া বলেন, ‘আমাদের অঙ্গীকার- সব গুম-খুনের রহস্য উন্মোচন করে ন্যায় বিচারের মাধ্যমে দোষীদের সাজা নিশ্চিত করবো।’
এর আগে গত ১৪ এপ্রিল জাসাসের অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে খালেদা জিয়া বলেন, ‘১৯৭১ সালে বাংলাদেশের জনসংখ্যা ছিল ৮ কোটি। এই ৮ কোটি মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়ে মুক্তিযুদ্ধ করে দেশকে স্বাধীন করেছিল। আজকে বাংলাদেশের জনসংখ্যা ১৭ কোটি। কিন্তু এই দেশে গণতন্ত্র নেই। কাজেই এই বিশাল জনগোষ্ঠীকে নিয়ে দেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে প্রয়োজনে আবার সংগ্রাম করতে হবে।’
এর আগে ১২ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর ও দেশের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে ডাকা সংবাদ সম্মেলনেও বেগম জিয়াকে বেশ দৃঢ় প্রত্যয়ে কথা বলতে দেখা গেছে। এতদিন ভারতের বিষয়ে কিছুটা রাকঢাক করে কথা বললেও ওই সংবাদ সম্মেলনে তিনি বেশ স্পষ্টভাবেই ভারতের আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে সোচ্চার বক্তব্য রাখেন।
সংবাদ সম্মেলনে খালেদা জিয়া বলেন, ‘বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি দেশের বিপুল সংখ্যক জনগণের সমর্থনপুষ্ট জনপ্রিয় রাজনৈতিক দল। নানাভাবে প্রমাণিত হয়েছে যে, এদেশের জাতীয় রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান হিসাবে বিএনপিই দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের মতামতের প্রতিনিধিত্ব করে। তাই দেশজাতির বর্তমান ও ভবিষ্যত স্বার্থ জড়িত রয়েছে এমন কোনো বিষয়ে বিএনপি নীরব থাকতে পারে না।’
‘প্রহসনের মাধ্যমে নির্বাচিত বলে ঘোষিত সদস্যদের সমন্বয়ে গঠিত সংসদে কার্যকর কোনো বিরোধী দলের অস্তিত্বও নেই। ফলে দেশে বলবৎ রয়েছে জবাবদিহিতাহীন একতরফা স্বৈরশাসন। এতবড় প্রহসন ও জালিয়াতির মাধ্যমে গঠিত সরকারের নৈতিক কোনো ভিত্তি ও গ্রহনযোগ্যতা থাকে না। জনগণের সম্মতি ও প্রতিনিধিত্বহীন এ ধরণের সরকারের জাতীয়, আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহনের এখতিয়ার ও অধিকারও থাকে না।’
সবমিলেই বিএনপি আবারো শক্ত আন্দোলনের দিকে এগুচ্ছে। তবে সেই আন্দোলন কখন থেকে শুরু হবে সেটা এখনো সুস্পষ্ট নয়। তবে দলের একাধিক সিনিয়র নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সরকারের মোটিভের উপর নির্ভর করছে এই আন্দোলন।
তাদের ভাষ্য মতে, সরকার যদি ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির মতো আরেকটি যেনতেন নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় থেকে যেতে চায় সেটা বিএনপি কোনোভাবেই মেনে নিবে না। এক্ষেত্রে বিএনপি শক্ত আন্দোলনের দিকে যাবে।
তবে এতটা আগেই আন্দোলনে যেতে চাচ্ছে না বিএনপি। আরেকটু সময় পেরিয়ে নির্বাচন সামনে রেখেই আন্দোলনের ডাক দিতে চাচ্ছে বলে জানা যাচ্ছে।

EDITOR & PUBLISHER :
DR. ARIF AHMED MOMTAZ RIFA
MOBILE : 01715110022
PHONE : 0821 716229
OFFICE : SHUVECHCHA-191
MIAH FAZIL CHIST R/A
AMBAKHANA WEST
SYLHET-3100
(Beside Miah Fazil Chist Jame Masjid & opposite to Rainbow Guest House).
E-mail : sylhetsangbad24@gmail.com
Hello : 01710-809595
Design and developed by M-W-D