২৯শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৬ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ২:০৮ পূর্বাহ্ণ, মে ২৫, ২০২৫
বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রধান কণ্ঠস্বর, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৬তম জন্মবার্ষিকী আজ ২৫ মে (রোববার)। ১৩০৬ বঙ্গাব্দের এই দিনে (১১ জ্যৈষ্ঠ) ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার আসানসোলের জামুরিয়া থানার চুরুলিয়া গ্রামে তিনি জন্মেছিলেন। তার ডাক নাম ‘দুখু মিয়া’। পিতার নাম কাজী ফকির আহমেদ ও মাতা জাহেদা খাতুন।
শৈশবেই পিতৃহারা হন, মাত্র ৯ বছর বয়সে। সেই বয়সেই তাঁকে নামতে হয় জীবনসংগ্রামে। নানা কাজ করেছেন কখনো লেটোর দলে গান বাঁধা, কখনো রুটির দোকানে কাজ, আবার কখনো অন্যের বাড়িতে গৃহপরিচারক। দুঃখী জীবনের সেই ছোট ছেলেটিকেই লোকে ডাকত ‘দুখু মিয়া’ বলে।
জীবনের সেই সংগ্রামী সময়েই নজরে পড়েন এক উদারমনের পুলিশ কর্মকর্তার। তিনি নজরুলকে আশ্রয় দেন, ভর্তি করান স্কুলে। তবে কবি পড়াশোনায় বেশিদূর যেতে পারেননি প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শুরু হলে দশম শ্রেণিতে পড়া অবস্থায় তিনি যোগ দেন ব্রিটিশ সেনাবাহিনীতে। সেনাবাহিনীতে থাকাকালীন সময়েই তাঁর সাহিত্যচর্চা শুরু।
বাংলা সাহিত্যে নজরুলের আবির্ভাব ছিল হঠাৎ ঝড়ের মতো। কেউ বলেন ধূমকেতু, কেউ বলেন কালবৈশাখী। বিদ্রোহ, বিপ্লব, প্রেম আর সাম্যের যে কাব্যভাষা নজরুল সৃষ্টি করেন, তা বাংলা সাহিত্যকে এনে দেয় নতুন মাত্রা। বিদেশি শাসন, সমাজের অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে তাঁর কলম ছিল সদা সরব। ‘এলাম, দেখলাম, জয় করলাম’ এই মনোভাবেই যেন বাংলা কবিতায় এক নতুন দিগন্তের উন্মোচন করেন তিনি।
বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের আলোয় যে বাংলা সাহিত্যজগত আলোকিত ছিল, সেখানে নজরুল নিজ গুণে গড়ে তোলেন তাঁর স্বতন্ত্র জগৎ। রবীন্দ্রনাথের আশীর্বাদও পেয়েছিলেন, কিন্তু নিজের কাব্যভাষা, শক্তি ও স্বরকে অক্ষুণ্ন রেখে নজরুল বাংলা সাহিত্যে হয়ে উঠেছিলেন অনন্য।
কাজী নজরুল ইসলাম চির প্রেমের কবি। তিনি যৌবনের দূত। তিনি প্রেম নিয়েছিলেন, প্রেম চেয়েছিলেন। মূলত তিনি বিদ্রোহী কিন্তু তার প্রেমিক রূপটিও প্রবাদপ্রতিম। তাই মানুষটি অনায়াসেই বলতে পারেন ‘আমার আপনার চেয়ে আপন যে জন খুঁজি তারে আমি আপনায়।’ পৃথিবীতে এমন কয়জন আছেন যিনি প্রেমের টানে রক্তের সর্ম্পককে অস্বীকার করে পথে বেরিয়ে পড়তে পারেন?
বাংলা সাহিত্যে বিদ্রোহী কবি হিসেবে পরিচিত হলেও কাজী নজরুল ছিলেন একাধারে কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, ঔপন্যাসিক, গল্পকার, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক, সাংবাদিক, চলচ্চিত্রকার, গায়ক ও অভিনেতা। তিনি বৈচিত্র্যময় অসংখ্য রাগ-রাগিনী সৃষ্টি করে বাংলা সঙ্গীত জগতকে মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত করেছেন। তার কবিতা, গান ও সাহিত্য কর্ম বাংলা সাহিত্যে নবজাগরণ সৃষ্টি করেছিল। তিনি ছিলেন অসাম্প্রদায়িক চেতনার পথিকৃৎ লেখক। তার লেখনি জাতীয় জীবনে অসাম্প্রদায়িক চেতনা বিকাশে ব্যাপক ভূমিকা পালন করে। তার কবিতা ও গান মানুষকে যুগে যুগে শোষণ ও বঞ্চনা থেকে মুক্তির পথ দেখিয়ে চলছে।
তবে মাত্র ২০ বছর সাহিত্যচর্চার পর, ১৯৪২ সালে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েন নজরুল। এরপর দীর্ঘ ৩৫ বছর বেঁচে থাকলেও আর কথা বলেননি সেই সুস্পষ্ট কণ্ঠস্বর হয়ে উঠেছিল নীরব। বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাঁকে বাংলাদেশে নিয়ে আসেন। তাঁকে দেওয়া হয় জাতীয় কবির মর্যাদা, রাষ্ট্রীয়ভাবে তাঁর চিকিৎসার দায়িত্ব নেওয়া হয়।
১৯৭৬ সালের ২৯ আগস্ট, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন কবি। প্রেম, দ্রোহ ও মুক্তির কণ্ঠস্বর হয়ে আজও তাঁর লেখা আমাদের সাহস জোগায়।
মহান মুক্তিযুদ্ধে নজরুলের কবিতা ও গান ছিল প্রেরণার উৎস। আজ তাঁর জন্মজয়ন্তীতে জাতি গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করছে বাংলা সাহিত্যের এই মহীরুহকে।
জাতীয় পর্যায়ে জাতীয় কবির জন্মবার্ষিকী উদযাপনে তিন দিনব্যাপী কর্মসূচি হাতে নিয়েছে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়। শিল্পকলা একাডেমির সহযোগিতায় কুমিল্লা ও ঢাকাসহ দেশব্যাপী অনুষ্ঠিত হবে জন্মজয়ন্তীর অনুষ্ঠানমালা। আজ বিকেল ৩টায় কুমিল্লা জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে এই আয়োজনের উদ্বোধনীতে প্রধান অতিথি থাকবেন সংস্কৃতি বিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী। অনুষ্ঠানে ‘নজরুল পুরস্কার ২০২৩ ও ২০২৪’-এর জন্য মনোনীত গুণিজনদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হবে। আলোচনা, নাচ, গান, আবৃত্তি, নাটকসহ নানা আয়োজনে সাজানো থাকবে তিন দিনের এই আয়োজন। এছাড়া ময়মনসিংহের ত্রিশালে তিন দিন ও নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে দুই দিনব্যাপী উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে।
নানা কর্মসূচি হাতে নিয়েছে বাংলা একাডেমি। এদিন সকালে জাতীয় কবির সমাধিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হবে। পরে বিকেল ৪টায় একাডেমির আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ মিলনায়তনে নজরুল বিষয়ক সেমিনার অনুষ্ঠিত হবে। এতে স্বাগত বক্তব্য রাখবেন একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম। দুই দিনের উৎসবের আয়োজন করেছে ছায়ানট। আজ সন্ধ্যায় শুরু হবে এই আসর। দুই দিনব্যাপী এই উৎসবে থাকছে একক ও সম্মেলন গান, নৃত্য, পাঠ-আবৃত্তি।
বর্ণাঢ্য আয়োজনে কবির জন্মজয়ন্তী উদযাপন করবে বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক কর্মী সংঘ। আজ সন্ধ্যায় শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালার মূল মিলনায়তনে শুরু হবে সংগঠনটির দুই দিনব্যাপী নজরুল উৎসব।

EDITOR & PUBLISHER :
DR. ARIF AHMED MOMTAZ RIFA
MOBILE : 01715110022
PHONE : 0821 716229
OFFICE : SHUVECHCHA-191
MIAH FAZIL CHIST R/A
AMBAKHANA WEST
SYLHET-3100
(Beside Miah Fazil Chist Jame Masjid & opposite to Rainbow Guest House).
E-mail : sylhetsangbad24@gmail.com
Hello : 01710-809595
Design and developed by M-W-D