অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলন, হুমকির মুখে গোয়াইনঘাট সেতু

প্রকাশিত: ৭:১১ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১৩, ২০২৫

অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলন, হুমকির মুখে গোয়াইনঘাট সেতু

সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সেতুটির নাম গোয়াইনঘাট সেতু। এ সেতুটি গোয়াইনঘাটের পশ্চিমাঞ্চল ও পূর্বাঞ্চলকে একত্রিত করেছে। যার কারণে গোয়াইনঘাট উপজেলার সড়কপথ অত্যন্ত শক্তিশালী হয়েছে।

সম্প্রতি গোয়াইনঘাট উপজেলার পশ্চিম আলীরগাঁও ইউনিয়নের গোয়াইনঘাট সেতু সংলগ্ন পূর্ণানগর গ্রামের বেশকিছু লোকজন একত্রিত হয়ে সেতু সংলগ্ন এলাকা থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের জন্য একটি দল গঠন করেন। তারা ছোট ছোট ট্রাক্টর দিয়ে দিবারাত্রি সেতু সংলগ্ন এলাকা থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে বিক্রি করে চলেছেন। এ সিন্ডিকেটটি প্রশাসনের নাকের ডগায় এমন ধ্বংসযঞ্জ চালিয়ে গেলেও তারা রয়ে যায় অধরা।

এ বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে লেখালেখি শুরু করেন পূর্ণানগর গ্রামের মৃত আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে ফারুক আহমদ। ফলে টনকনড়ে গোয়াইনঘাট উপজেলা প্রশাসনের। গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) সাইদুল ইসলাম সংশ্লিষ্ট ভুমি সহকারী কর্মকর্তা ও একদল পুলিশ নিয়ে গোয়াইনঘাট সেতু সংলগ্ন এলাকায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলনকারীদের গ্রেফতারে অভিযানে যান। কিন্তু খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থল থেকে চলে যায় চক্রটি।

পূর্ণানগর গ্রামের মৃত আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে ফারুক আহমদ অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে লেখালেখির সুত্র ধরে সোমবার (১৩ জানুয়ারি) বেলা একটায় ফারুক আহমদের বসতঘরে হামলা চালায় পুর্ণানগর গ্রামের আব্দুর রশিদের ছেলে আব্দুল মুতলিব,আব্দুল মতিনের ছেলে বাবুল মিয়া, জোয়াদ আলীর ছেলে বোরহান উদ্দিন, মানিক মিয়ার ছেলে আল-আমীন, সামছু উদ্দিনের ছেলে জসিম উদ্দিনসহ ১০/১২ জনের একটি বালু সিন্ডিকেট দল। ফারুকের ঘরে হামলা চালিয়ে ঘরের দরজা ভেঙ্গে তাকে বেধড়ক মারধর করে এবং মোবাইল ও টাকা নিয়ে যায়।

এ ব্যাপারে অতর্কিত হামলার শিকার ফারুক আহমদ জানান, পূর্ণানগর গ্রামের বেশকিছু লোকজন একত্রিত হয়ে গোয়াইনঘাট সেতু সংলগ্ন এলাকা থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের জন্য একটি দল গঠন করেন। তারা ছোট ছোট ট্রাক্টর দিয়ে দিবারাত্রি সেতু সংলগ্ন এলাকা থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে বিক্রি করে আসছেন। গোয়াইনঘাট সেতু রক্ষায় প্রশাসনের ভুমিকা নিয়ে আমি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে কিছু লেখালেখি করি। ফলে অভিযানে আসে প্রশাসন। এরই সূত্র ধরে বালু সিন্ডিকেটরা আমার বসতঘরে হামলা চালিয়ে মোবাইল ও টাকা পয়সা নিয়ে যায়। তিনি এ বিষয়ে গোয়াইনঘাট থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন বলে জানিয়েছেন।

গোয়াইনঘাট সেতু সংলগ্ন এলাকায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের সূত্র ধরে ফারুক আহমদের বসতঘরে হামলার ঘটনায় একটি অভিযোগ পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন গোয়াইনঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ সরকার তোফায়েল। এ বিষয়টির তদন্ত চলছে বলে ওসি জানান।

এ বিষয়ে গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) সাইদুল ইসলাম বলেন, গোয়াইনঘাট সেতু সংলগ্ন এলাকায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের খবর পেয়ে আমরা অভিযানে যাই। আমাদের উপস্থিত টের পেয়ে তারা পালিয়ে যায়। এরই সূত্র ধরে ফারুক আহমদ নামের এক ব্যক্তির উপর অতর্কিত হামলা হয়েছে বলে ফারুক আহমদ জানিয়েছেন। তাকে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।


 

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট