সিলেট সেনানিবাসে আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস পালিত

প্রকাশিত: ৫:৫০ অপরাহ্ণ, মে ২৯, ২০২৪

সিলেট সেনানিবাসে আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস পালিত

আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে কর্মরত সদস্যগন বৈশ্বিক শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য যে আত্মত্যাগ করেছেন, তা স্বরণীয় করার লক্ষ্যে বিশ্বব্যাপী ২৯ মে আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা দিবস পালন করে আসছে।

এরই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমান বাহিনী ও পুলিশের যে সকল সদস্য জাতিসংঘের বিভিন্ন মিশনে দায়িত্ব পালনকালে সর্বোচ্চ আত্মত্যাগ কিংবা পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন, তাদের সকলের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের নিমিত্তে সিলেট এরিয়া ও ১৭ পদাতিক ডিভিশনের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় বুধবার (২৯ মে) সিলেট সেনানিবাসে আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস ২০২৪ যথাযথ মর্যাদার সাথে উদযাপিত হয়।

বিশ্ব শান্তি রক্ষায় অনবদ্য অবদানের কথা স্মরণ করে প্রতিবছরের ন্যায় এবছরও দিবসটি বিশেষ গুরুত্বের সাথে উদযাপন করা হয়। এ উপলক্ষে সকালে সিলেট সেনানিবাসে Peacekeeper’s Commemoration অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে সিলেট এরিয়ার সামরিক সদস্যগণ ও পদস্থ অসামরিক কর্মকর্তা, বাংলাদেশ বিমান বাহিনী, বাংলাদেশ পুলিশ, বিজিবি, র‍্যাব, স্থানীয় ইউএন প্রতিনিধিসহ অন্যান্য সংস্থার সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেনারেল অফিসার কমান্ডিং, ১৭ পদাতিক ডিভিশন ও এরিয়া কমান্ডার, সিলেট এরিয়া মেজর জেনারেল চৌধুরী মোহাম্মদ আজিজুল হক হাজারী, ওএসপি (বার), এসজিপি, এনডিসি, পিএসসি, এমফিল। অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রধান অতিথি কর্তৃক বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে অনুষ্ঠানের শুভারম্ভ করা হয়।



প্রধান অতিথির বক্তব্যে মেজর জেনারেল চৌধুরী মোহাম্মদ আজিজুল হক হাজারী বিশ্ব শান্তি রক্ষায় বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীদের আত্নত্যাগ ও বীরত্বের কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘ছত্রিশ বছর ধরে শৃংখলা, সততা, সামরিক পেশাগত দক্ষতা, নিরপেক্ষতা, আনুগত্য, সাহসিকতা, পেশাদারিত্ব, কর্তব্যনিষ্টা এবং স্থানীয় জনগনের ভালোবাসা ও আস্তা অর্জন, মানুষকে আপন করে নেওয়ার প্রবনতা এবং অভিঞ্জতার বাস্তব প্রয়োগের ফলে আজ বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীগণ বিশ্ব শান্তি রক্ষায় আদর্শ হিসাবে স্বীকৃত। ‘

তিনি আরও বলেন, ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর দূরদর্শিতা, সংবিধানের দিক-নির্দেশনা, মহামান্য রাষ্ট্রপতির অনুপ্রেরণা এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সুযোগ্য নেতৃত্ব ও যোগ্য সামরিক কমান্ডারদের নেতৃত্বের ফলে বিশ্ব শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে আমাদের শান্তিরক্ষীদের অবদান উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে। ভবিষ্যতেও এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।’



উল্লেখ্য, পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে ১৯৪৮ সাল হতে শান্তিরক্ষা কার্যক্রম শুরু হলেও বাংলাদেশ ১৯৮৮ সালের আগষ্ট মাস হতে আন্তর্জাতিক শান্তি প্রয়াসের সাথে সম্পৃক্ত হয়। বর্তমানে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে মোট ১০টি দেশে ৪৯৭০ জন সেনা, ৩৫২ জন নৌ, ৪০৬ জন বিমান এবং ৩৬৪ জন পুলিশ সদস্যসহ মোট ৬০৯২ জন সামরিক ও পুলিশ শান্তিরক্ষী হিসেবে নিয়োজিত আছেন।

বর্তমানে সেনাবাহিনীর ৩৫৯ জন, নৌবাহিনীর ৮ জন, বিমানবাহিনীর ৬ জন এবং ১২০ জন নারী পুলিশসহ সর্বমোট ৪৯৩ জন নারী সদস্য জাতিসংঘের শান্তিরক্ষায় দায়িত্ব পালন করছেন।

শান্তিরক্ষার এই সুমহান দায়িত্ব পালনকালে বিভিন্ন সময়ে সশস্ত্র বাহিনী ও পুলিশের র্সমোট ১৬৮ জন সদস্য জীন উৎসর্গ করেছেন এবং ২৬৬ জন সদস্য পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন।


 

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট