সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি ও রেজিস্ট্রারের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা

প্রকাশিত: ৯:১০ অপরাহ্ণ, জুন ২৫, ২০২৩

সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি ও রেজিস্ট্রারের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা

নিয়োগ দুর্নীতির সত্যতা পাওয়ায় সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ডা. মোর্শেদ আহমদ চৌধুরী ও সাবেক রেজিস্টার নাজমুল হক চৌধুরীকে দেশ ত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন আদালত।

দুদক কর্মকর্তার দায়ের করা মামলায় রোববার (২৫ জুন) দুপুরে সিলেট মহানগর জজ আদালতের সিনিয়র স্পেশাল জজ এ কিউ এম নাছির উদদীন এ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন। আদেশে বলা হয়, অভিযুক্তদের আগামী ৬০ দিন দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হলো।

মহানগর দায়রা জজ আদালতে ফৌজদারি বিবিধ মামলা ৬৮১/২৩ দায়েরক্রমে দুদকের সহকারী পরিচালক মো. আনোয়ার হোসেনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালতের বিচারক দুই মাসের জন্য সাবেক এ দুই কর্মকর্তার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন।

আদালতের দুদকের মামলার পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট আলী মর্তুজা কিবরিয়া এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, মামলায় অভিযুক্ত সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি মুর্শেদ আহমদ চৌধুরী ও সাবেক রেজিস্ট্রার নাঈমুল হক চৌধুরীর বিরুদ্ধে দুর্নীতির আশ্রয় নিয়ে নিয়োগ বাণিজ্যের সত্যতা পায় বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরিঞ্জু কমিশন (ইউজিসি)। এরপর ইউজিসি থেকে দুদকে অভিযোগ দেয়া হয়।

মহানগর দায়রা জজ আদালতে ফৌজদারি বিবিধ মামলা ৬৮১/২৩ দায়ের করেন দুদুকের সহকারী পরিচালক মো. আনোয়ার হোসেন। সেই সঙ্গে হাইকোর্ট বিভাগে রীট পিটিশনের (নং-৮২৪/২০২১) মামলার রায়ের অনুলিপি এবং গত ১৩ জুন দুর্নীতি দমন কমিশন থেকে পাঠানো ২২০৪১ নং স্মারকে একটি চিঠিও আদালতে দাখিল করা হয়। এর প্রেক্ষিতে আদালতের এই নিষেধাজ্ঞা।

তিনি আরও জানান, ঘটনাটি বর্তমানে দুর্নীতি দমন কমিশনে অনুসন্ধান অবস্থায় আছে এবং জনবল নিয়োগে অনিময়ের অভিযোগ প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। তাই এ মুহুর্তে তারা দেশ ত্যাগ করলে অনুসন্ধান কাজে ব্যাঘাত ঘটতে পারে।

২০১৮ সালে চিকিৎসাশাস্ত্রে উচ্চতর শিক্ষা ও গবেষণার সুযোগ সৃষ্টিতে দেশের চতুর্থ সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদন পেলে নগরীর চৌহাট্টায় সিভিল সার্জন কার্যালয় সংলগ্ন স্থানে অস্থায়ী ক্যাম্পাসে বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম শুরু হয়। এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ ডা. মোর্শেদ আহমদ চৌধুরীকে প্রথম ভিসি নিয়োগ দেওয় হয়। ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রারের দায়িত্ব পালন করেন শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অতিরিক্ত পরিচালক (অর্থ) নাঈমুল হক।

দুদকের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর ভিসি ও ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রারের যোগসাজশে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) ও বিশ্ববিদ্যালয় আইন লঙ্ঘন করে বিভিন্ন পদে অ্যাডহক ভিত্তিতে কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়। সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় আইন অনুযায়ী, ইউজিসির অনুমোদিত পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে সিন্ডিকেটের পূর্বানুমতির প্রয়োজন হয়। এসব নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে ভিসি ও ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অর্থের বিনিময়ে দেড় শতাধিক অ্যাডহক নিয়োগ দেন।

সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস স্থাপন ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন কার্যক্রমের দিকে মনোযোগ না দিয়ে শীর্ষ দুই কর্মকর্তা অনিয়ম-দুর্নীতিতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। এ বিষয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে ইউজিসির তদন্ত কমিটি গঠন করে এবং তাতে ভিসি ও ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রারের নিয়োগ বাণিজ্যের বিষয়টি প্রমাণিত হয়। এরপর দুদক সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক দুই শীর্ষ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তদন্তে নেমে অনিয়ম-দুর্নীতির প্রাথমিক তথ্য-প্রমাণ পেয়েছে।


 

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট