৭ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৪শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ৯:২০ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ৪, ২০২৩

বিদেশে রপ্তানির পোশাক বন্দরে নেওয়ার পথে ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যান থেকে চুরি চক্রের নেতৃত্ব দিয়ে আসছিলেন মো. সাহেদ ওরফে ‘সিলেটি সাঈদ’। তার গ্রামের বাড়ি মৌলভীবাজারে হলেও ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়ক থেকে পণ্য চুরিতে সুবিধা পাওয়ার জন্য তিনি থাকতেন চট্টগ্রামে। তবে তার পরিবারের বসবাস মৌলভীবাজারেই। র্যাব বলছে, দুই দশকে রপ্তানির পণ্য চুরি করে সাহেদ শত কোটি টাকার বেশি সম্পদের মালিক হয়েছেন।
এই টাকা দিয়েই তিনি মৌলভীবাজার সদরের দুর্লভপুরে দুটি বিলাসবহুল বাড়ি তৈরি করেছেন। তার একটি ২০ একর জমি নিয়ে। তার এই বাগানবাড়িতে ট্রিপ্লেক্স ঘর, একটি মাছের খামার ও দুটি হাঁস–মুরগির খামার রয়েছে। এই বাড়িতে সাহেদের ছোট স্ত্রী থাকেন। বাড়িটি তৈরিতে সাহেদ ১৫ কোটির বেশি টাকা ব্যয় করেছেন বলে র্যাব কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
তাদের দেওয়া তথ্যমতে, দুর্লভপুর গ্রামেই আরেকটি ডুপ্লেক্স বাড়ি করেছেন সাহেদ। ওই বাড়িতে থাকেন তার বড় স্ত্রী। এ ছাড়া নামে-বেনামে সাহেদের অন্তত ২০টি কাভার্ড ভ্যান রয়েছে।
একটি রপ্তানির পোশাক চুরির ঘটনা তদন্ত করতে গিয়ে মো. সাহেদকে গ্রেপ্তারের পর এসব তথ্য জানিয়েছে র্যাব।
শুক্রবার (৩ ফেব্রয়ারী) মৌলভীবাজার, গোপালগঞ্জ ও ঢাকার আশপাশের এলাকা থেকে সাহেদ ও তার তিন সহযোগীকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার অন্য সহযোগীরা হলেন- ইমারত হোসেন সজল, শাহজাহান ওরফে রাসেল ওরফে আরিফ ও হৃদয়।
সাহেদের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা চোর চক্রের বিষয়ে জানাতে শনিবার (৪ ফেব্রয়ারী) দুপুরে রাজধানীর কারওয়ানবাজারে র্যাবের মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে র্যাব।
র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক খন্দকার আল মঈন বলেন, গত বছরের অক্টোবরে ব্রাজিলের একটি প্রতিষ্ঠানের জন্য তৈরি করা পোশাক চট্টগ্রাম বন্দরে নেওয়ার পথে চুরির ঘটনা ঘটে। তবে বিষয়টি জানাজানি হয় গত ৬ জানুয়ারি। এদিন দেশের পোশাক রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান এ প্লাস সোয়েটার লিমিটেডকে একটি ভিডিও পাঠায় ব্রাজিলের ক্রেতা প্রতিষ্ঠান। তাতে বলা হয়, অক্টোবরে এ প্লাস সোয়েটারের পাঠানো অনেক কার্টন একেবারে ফাঁকা ছিল। পরে চুরি হওয়া পোশাকের সমপরিমাণ অর্থ জরিমানা পরিশোধ করে কারখানা কর্তৃপক্ষ। এ ঘটনার তদন্ত করতে গিয়েই সাহেদের চক্রের বিষয়ে তথ্য পায় র্যাব। পরে অভিযান চালিয়ে সাহেদসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
র্যাব বলছে, সাহেদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় ১৭–১৮টি রপ্তানির পোশাক চুরির মামলা রয়েছে। অধিকাংশ মামলাতেই তিনি কারাভোগ করেছেন। তার বিরুদ্ধে ছয়টি মামলার বিচারকাজ চলমান।
র্যাব বলছে, মহাসড়কে রপ্তানির পোশাক চুরির বেশির ভাগ ঘটনা সাহেদের নেতৃত্বে অথবা পরিকল্পনায় সংঘটিত হয়। তার দলে ৪০ থেকে ৫০ জন সদস্য রয়েছেন। চক্রে অসাধু গাড়িচালক, চালকের সহকারী, গুদাম মালিক, গুদাম এলাকার আশ্রয়দাতা, চুরির মালামাল নামাতে দক্ষ কুলি সর্দারসহ একদল শ্রমিক রয়েছেন।
র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক খন্দকার আল মঈন বলেন, সাহেদের চক্রের সদস্যরা রপ্তানির পোশাক পরিবহনে সম্পৃক্ত কাভার্ড ভ্যানের চালক ও তার সহকারীর সঙ্গে সখ্য গড়ে তোলেন। অর্থের প্রলোভন দেখিয়ে রপ্তানির পণ্য চুরির কাজে উৎসাহিত করা হয় চালক এবং তার সহকারীকে। চুরির আগে চালকদের মাধ্যমে রপ্তানি পণ্যের নমুনার ছবি তুলে চক্রের সদস্যদের কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হত। প্রতিটি চুরিতে তাদের লক্ষ্য থাকত ১০ থেকে ১২ লাখ টাকার পোশাক। একটি চুরির পর চালককে ৩০ হাজার, তার সহকারীকে ২০ হাজার, গুদামের মালিককে ৫০ হাজার এবং গুদাম এলাকায় এই চক্রের আশ্রয়দাতাকে ৬০ হাজার টাকা দেওয়া হতো।
র্যাবের ভাষ্য, রপ্তানির পোশাক কাভার্ড ভ্যানে ওঠানোর সময় তা কাগজের বাক্সে (কার্টন) রাখা হয়। একটি বাক্সে অনেক পোশাক থাকে। চোরেরা একেকটি বাক্স থেকে ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ পণ্য চুরি করেন। এরপর বাক্সে সমপরিমাণ ঝুট বা অন্য কিছু ভরে রাখা হয়। কারখানা থেকে বন্দরের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়ার আগে কাভার্ড ভ্যানে তালা লাগিয়ে সিলগালা করে দেওয়া হয়। চোর চক্রের সদস্যরা তালা না ভেঙে কাভার্ড ভ্যানের নাটবল্টু খুলে ফেলতেন। এতে কাভার্ড ভ্যানের উপরিকাঠামোই খুলে যেত। এরপর তাঁরা মালামাল সরিয়ে নিতেন। এভাবে সিল ও তালা অক্ষতই থাকে। বন্দরে পণ্য নামানোর সময় চুরির বিষয়টি আর ধরা পড়ে না।
গ্রেপ্তার চারজনকে জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে র্যাব বলছে, ২০২২ সালের ২৯ অক্টোবর গাজীপুর থেকে পোশাক কাভার্ড ভ্যানে তুলে সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম বন্দরের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে। কাভার্ড ভ্যানে পণ্য ঢোকানোর পর কারখানা কর্তৃপক্ষ চালক শাহজাহানকে নমুনা হিসেবে কিছু সোয়েটার দেয়। শাহজাহান নমুনার ছবি তুলে সাহেদের কাছে পাঠান। সাহেদ এই ছবি তাঁর অন্যতম সহযোগী তাওহীদুল ওরফে কাউছারের কাছে পাঠান। কাউছার যোগাযোগ করেন চালক শাহজাহানের সঙ্গে। কাউছারের নির্দেশে মধ্যরাতে ডেমরার মিরপাড়ার আয়েশা প্যাকেজিং ভবনের গুদামে কাভার্ড ভ্যান নিয়ে যান শাহজাহান। সেখানে কুলিসর্দার নাজিম, স্থানীয়ভাবে আশ্রয়দাতা মাসুম ওরফে মাসুদসহ আরও পাঁচ–সাতজন প্রতিটি কার্টন থেকে ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ পণ্য সরিয়ে নেন। পরে পুনরায় প্যাকেজিং করে কাভার্ড ভ্যানটি বন্দরের উদ্দেশ্যে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। কাউছার, নাজিম ও মাসুমকে গত ২৪ ডিসেম্বর অন্য একটি চুরির মামলায় ঢাকার ডেমরা থেকে গ্রেপ্তার করে র্যাব। তাঁরা এখন কারাগারে আছেন।
র্যাব কর্মকর্তা খন্দকার আল মঈন বলেন, গ্রেপ্তার ইমারত হোসেন (সজল) ২০১২ সাল থেকে ঢাকার উত্তরায় গার্মেন্টস পণ্যের ‘স্টকলটের’ ব্যবসা শুরু করেন। এই ব্যবসা করতে গিয়েই সাহেদ, কাউছারসহ চোর চক্রের সদস্যদের সঙ্গে পরিচয় হয় তাঁর। পরে সাহেদের কাছ থেকে কম দামে চুরির পণ্য কিনে বিক্রি শুরু করেন। গত দুই বছরে ১৫০ থেকে ২০০টি চুরির পণ্য কিনে বিক্রি করেছেন তিনি। এর মধ্যে অনেক পণ্য তিনি বিদেশেও রপ্তানি করেছেন। চুরির পণ্য ক্রয়-বিক্রয় করে তিনি কোটি টাকার বেশি স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের মালিক হয়েছেন।

EDITOR & PUBLISHER :
DR. ARIF AHMED MOMTAZ RIFA
MOBILE : 01715110022
PHONE : 0821 716229
OFFICE : SHUVECHCHA-191
MIAH FAZIL CHIST R/A
AMBAKHANA WEST
SYLHET-3100
(Beside Miah Fazil Chist Jame Masjid & opposite to Rainbow Guest House).
E-mail : sylhetsangbad24@gmail.com
Hello : 01710-809595
Design and developed by M-W-D