২৪শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১০ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ১১:০৫ অপরাহ্ণ, মার্চ ৫, ২০২২

১৯৭২থেকে ১৯৭৬ সাল পর্যন্ত চিত্তরঞ্জন সাহা একাই বাংলা একাডেমির বর্ধমান হাউসের সামনে বই নিয়ে বসতেন। এরপর অন্যরাও অনুপ্রাণিত হন। ১৯৭৮সালে বাংলা একাডেমিকে তৎকালীন মহাপরিচালক আশরাফ সিদ্দিকী মেলার সঙ্গে সংযুক্ত করেন। ১৯৮৩ সালে কাজী মনজুরে মওলা বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক হিসেবে প্রথম ‘অমর একুশে গ্রন্থমেলা’র আয়োজন করেন। কিন্তু স্বৈরাচারী এরশাদ সরকারের বিরুদ্ধে শিক্ষা ভবনের সামনে ছাত্রদের বিক্ষোভ মিছিলে ট্রাক চাপায় দুজন ছাত্র নিহত হয়। এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে এ বছর আর বইমেলা করা সম্ভব হয়নি। ১৯৮৪ সালে সাড়ম্বরে বর্তমানের অমর একুশে গ্রন্থমেলার সূচনা হয়। এরপর ২০১৩ পর্যন্ত বাংলা একাডেমির প্রাঙ্গণে হয়ে আসছিল বইমেলা।
পাঠক সমাগম ও প্রকাশকদের অংশগ্রহণ বাড়তে থাকায় ২০১৪ সালে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানেও বর্ধিত করা হয় অমর একুশে বইমেলা। তখন থেকে বাংলা একাডেমির প্রাঙ্গণে মূলত স্বায়ত্তশাসিত, সরকারি ও বিশেষায়িত প্রকাশনীগুলোর স্টল নির্মাণে অনুমতি দিয়ে আসছে মেলা কর্তৃপক্ষ। এবারের মেলার প্রথম দিন থেকে জমে উঠলেও বাংলা একাডেমি ভেতরে ক্রেতা সমাগম অনেকটাই ফাঁকা। মেলার ১৯তম দিন শনিবার(৫ মার্চ) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ক্রেতা দর্শনার্থীর ভিড় থাকলেও বাংলা একাডেমির প্রাঙ্গণ প্রায় ফাঁকা।
স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানগুলোর মেলার স্টলে দায়িত্বরত কর্মকর্তারা জানান, মেলা দুই অংশে হওয়ায় অনেকে এই অংশের কথা জানেই না। সবাই মনে করে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে শুধু মেলা হচ্ছে। আর লোকসমাগম কম বলে বিক্রিও কম। কেউ কেউ বলছেন, বিক্রি কম সত্য। তবে এর কারণেও আছে। এ ধরনের প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রকাশনা মূলত গবেষণাধর্মী। যা সাধারণ পাঠকের কাছে কিছুটা দুর্বোধ্য। এ ধরনের বইয়ের চাহিদা রয়েছে, গবেষক, বিশ্ববিদ্যালয়,কলেজের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের কাছে।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রকাশ সংস্থার সহকারী রেজিস্ট্রার আফতাব উদ্দিন বলেন, আসলে এ ধরনের প্রকাশনা সংস্থাগুলো মূলত গবেষণাধর্মী বই প্রকাশ করে থাকে। স্বাভাবিকভাবেই এসব বইয়ে সাধারণ পাঠকের আগ্রহ থাকে না। আগ্রহ থাকে গবেষক, বিশ্ববিদ্যালয়,কলেজের শিক্ষক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কাছে এবং তারাই এসবর বই কেনেন।
বইমেলায় ক্রেতা খরায় স্বায়ত্তশাসিত, সরকারি ও বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান
বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির গবেষণা সেলের অফিস সহকারী মো. হানিফ বলেন, মেলাটা দুভাগে হওয়ায় অনেকে জানেই না মেলার আরেকটা অংশ আছে। তাই লোকসমাগম কম হয়। ফলে বিক্রিও কম।
মেলায় ঘুরতে আসা এক পাঠক রাফান চৌধুরী বলেন, আসলে বাংলা একাডেমির ভিতরে প্রায় সবগুলো স্টল বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের। আর এই সংগঠনগুলো মূলত গবেষণাধর্মীয় বই নিয়ে কাজ করে,প্রকাশ করে। সাধারণ পাঠকের আগ্রহে সেখানে থাকে না। তাছাড়া অনেকে জানেই না এটাও মেলার অংশ।
মেলার আয়োজন
বিকাল ৪টায় বইমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় ‘স্মরণ : কাজী মনজুরে মওলা ও হাবীবুল্লাহ সিরাজী’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন কাজল বন্দ্যোপাধ্যায়। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন মানিক মোহাম্মদ রাজ্জাক, আসাদ মান্নান এবং সাহেদ মন্তাজ। সভাপতিত্ব করেন সুব্রত বড়ুয়া।
মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে কাজল বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, কবি মনজুরে মওলা এবং কবি হাবীবুল্লাহ সিরাজী দু’জনেই শিল্প-সাহিত্য-পরিমণ্ডলে পরিচিত দুই নাম। দু’জনেই বাংলা একাডেমিতে মহাপরিচালকের দায়িত্ব পালন করেন।
আজ ১৯তম দিন একুশে বইমেলায় নতুন বই
এদিন মেলায় নতুন বই এসেছে ১২৯টি। এরমধ্যে গল্প ১৪টি, উপন্যাস ২৩টি, প্রবন্ধ তিনটি, কবিতা ৪২টি, গবেষণা পাঁচটি, ছড়া ছয়টি, শিশুসাহিত্য একটি, জীবনী দুটি, রচনাবলী একটি, মুক্তিযুদ্ধ দুটি, নাটক একটি, বিজ্ঞান একটি, ভ্রমণ একটি, ইতিহাস চারটি, রাজনীতি একটি, স্বাস্থ্য একটি, রম্য দুটি, ধর্মীয় তিটি, অনুবাদ তিনটি, অভিধান একটি, সায়েন্স ফিকশন দুটি ও অন্যান্য নয়টি।

লেখক বাংলাদেশ জ্ঞান সৃজনশীল প্রকাশক ও বিশেষ প্রতিবেদক দৈনিক নয়াদেশ

EDITOR & PUBLISHER :
DR. ARIF AHMED MOMTAZ RIFA
MOBILE : 01715110022
PHONE : 0821 716229
OFFICE : SHUVECHCHA-191
MIAH FAZIL CHIST R/A
AMBAKHANA WEST
SYLHET-3100
(Beside Miah Fazil Chist Jame Masjid & opposite to Rainbow Guest House).
E-mail : sylhetsangbad24@gmail.com
Hello : 01710-809595
Design and developed by M-W-D