৯ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৬শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ১০:৪৪ অপরাহ্ণ, মার্চ ২, ২০২২
ছুটির দিনে অমর একুশে বইমেলায় দর্শনার্থী-পাঠকদের ঢল চোখে পড়ে। এছাড়া বাকি পাঁচ কার্যদিবসে বিকাল পর্যন্ত সেই সংখ্যা তেমন বেশি থাকে না। যদিও ছুটির দিন বাদেও সন্ধ্যার পর মেলায় পাঠকদের পদচারণা এবং বই বিকিকিনি জমে ওঠে। প্রকাশক ও বিক্রয়কর্মীরা জানান, ছুটির দিনের ভিড় এড়িয়ে কার্যদিবসে মেলায় আসা ৭০-৮০ শতাংশ দর্শনার্থী বই কেনেন। গতকাল মঙ্গলবার (১ মার্চ) এবারের মেলার ১৫তম দিনে এমন তথ্য মিলেছে।
বাংলা একাডেমি ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের চত্বরে পাঠক-লেখক-প্রকাশকদের মিলনমেলা করোনার শঙ্কা কাটিয়ে শুরু হয় গত ১৫ ফেব্রুয়ারি। প্রথম দিন থেকেই পাঠক-ক্রেতাদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে এই আয়োজন জমে উঠেছে। গতকাল মঙ্গলবার কর্মজীবী মানুষ অফিস শেষ করে সন্ধ্যার পর একা কিংবা প্রিয়জন ও পরিবার নিয়ে এসেছেন। কেউ স্টলে বা প্যাভিলিয়নে ঘুরে পছন্দের বই কিনছেন। কেউবা স্বাধীনতা স্তম্ভের পাশে প্রিয়জন ও বন্ধুবান্ধব নিয়ে আড্ডায় মেতেছেন।
অমর একুশে বইমেলা
অন্যপ্রকাশের বিক্রয়কর্মী আহমেদ সালেকীন বলেন, ‘ছুটির দিন ছাড়াও দর্শনার্থী এবং পাঠকরা মেলায় আসেন। যাদের হাতে কাজ থাকে না তারা বিকালে আসেন। আর কর্মজীবী মানুষ অফিস শেষ করে সন্ধ্যার পর প্রিয়জন নিয়ে হাজির হন বইমেলায়। এজন্য সন্ধ্যার পর প্রচুর জনসমাগম দেখা যায়। তারা ঘোরাঘুরি করেন, বই কেনেন। ছুটির দিন বাদে কার্যদিবসে আসা প্রায় ৮০ শতাংশ দর্শনার্থী বই কিনতে আসেন।’
বাতিঘর প্রকাশনীর বিপণন ব্যবস্থাপক তারেকের দাবি, ‘আমাদের নতুন বইগুলোর কাটতি ভালো।’ তিনিও উল্লেখ করেন, ছুটির দিনে মেলায় একটু ভিড় বেশি থাকে ঠিকই, তবে অন্যান্য দিনে সন্ধ্যার পর পাঠকের উপস্থিতি আশাব্যঞ্জক দেখা যায়। তাদের ৬০-৭০ শতাংশই বই কেনেন। বাকি ৩০-৪০ শতাংশ শুধু ঘুরতে আসেন।’
জ্ঞানকোষের প্রকাশক ওয়াসী আহমেদ বলেন, ‘ছুটির দিনে মেলায় ভিড় থাকা স্বাভাবিক। এছাড়া কার্যদিবসেও জনসমাগম ভালোই হয়েছে এবং বিক্রিও ভালো। ছুটির দিন বাদে যারা আসেন, তারা মূলত বই কিনতেই আসেন। শুক্র ও শনিবার শুধু ঘুরতে আসা দর্শনার্থীর সংখ্যা বেশি থাকে। ছুটির দিনে ৪০-৫০ শতাংশ পাঠক বই কেনেন। অন্যান্য দিনে সেই হার বেড়ে যায় ৭০-৮০ শতাংশ।’
ঢাকার মোহাম্মদপুর থেকে স্ত্রী ও দুই সন্তান নিয়ে মেলায় বই কিনতে এসেছেন সাদেক মাহমুদ সানি। তিনি গণমাধ্যমে বলেন, ‘অফিস শেষ করে পরিবার নিয়ে বই কিনতে এসেছি, পাশাপাশি ঘোরাঘুরিও হলো। ছুটির দিনে বেশি ভিড় থাকে, তখন বাচ্চাদের নিয়ে মেলায় ঘোরাঘুরি ও বই কেনা কিছুটা ঝক্কির।’
বইমেলায় ওয়াশরুম
এবারের বইমেলায় অস্থায়ীভাবে ওয়াশরুম ও টয়লেটের ব্যবস্থা রেখেছে আয়োজকরা। এরমধ্যে পুরুষদের জন্য মূত্রত্যাগের স্থান ১২টি এবং টয়লেট ৭টি, এরমধ্যে একটিতে হাই-কমোড আছে। নারীদের জন্য ৩টি টয়লেট রয়েছে, এরমধ্যে একটি হাই-কমোড সমৃদ্ধ।
এ প্রসঙ্গে মেলা আয়োজক কমিটির সদস্য সচিব ড. জালাল আহমেদ জানিয়েছেন, নারীদের জন্য মুক্তমঞ্চে আলাদা ১৫টি টয়লেট রয়েছে।
প্রকাশক, লেখক, বিক্রয়কর্মী ও দর্শনার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মেলার শুরুর দিকে টয়লেটের পরিবেশ নোংরা থাকলেও এখন উন্নত হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন প্রকাশক ওয়াশরুমের ব্যবস্থাপনা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘ওয়াশরুমে জুতা খুলে ঢুকতে হচ্ছে। কিন্তু করোনা মহামারি পরিস্থিতিতে আরেকজনের ব্যবহৃত জুতা পরার কারণে স্বাস্থ্যঝুঁকির শঙ্কা আছে। তাছাড়া কারও চর্মরোগ থাকতে পারে। অবশ্য ঘণ্টায় ঘণ্টায় জীবাণুনাশক দিয়ে পরিষ্কার রাখলে সেই শঙ্কা থাকে না। তবে ভেতরে পরিবেশ ভালো।’
মেলায় মায়েদের সুবিধার্থে শিশু চত্বরে রয়েছে মাতৃদুগ্ধ পান কেন্দ্র। তবে সেটি প্রয়োজনের তুলনায় ছোট হওয়ায় অনেকেই নারীদের জন্য নামাজের স্থানে গিয়ে সন্তানদের খাওয়াচ্ছেন।
মূলমঞ্চ ও ‘লেখক বলছি’র আয়োজন
গতকাল বিকাল ৪টায় বইমেলার মূলমঞ্চে ছিল ‘স্মরণ: জামিলুর রেজা চৌধুরী’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। এতে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আবদুল কাইয়ুম। আইনুন নিশাতের সভাপতিত্বে আলোচনায় অংশ নিয়েছেন মোহাম্মদ কায়কোবাদ, মাসুদুল হক এবং মুনির হাসান। ‘লেখক বলছি’ মঞ্চে নিজের বই নিয়ে আলোচনা করেন জি এইচ হাবীব।
নতুন বই
মঙ্গলবার অমর একুশে বইমেলায় নতুন বই এসেছে ৬৯টি। এরমধ্যে গল্প ১৫টি, উপন্যাস ৮টি, প্রবন্ধ ২টি, কবিতা ১৯টি, গবেষণা ৩টি, ছড়া ২টি, শিশুসাহিত্য ৩টি, জীবনী ৪টি, মুক্তিযুদ্ধ ৩টি, বঙ্গবন্ধু বিষয়ক ৩টি, রম্য ২টি এবং অন্যান্য ৭টি। মেলার তথ্যকেন্দ্র সূত্রে জানা যায়, এ পর্যন্ত নতুন বই এসেছে মোট ১ হাজার ৫৯৫টি।
লেখক : প্রকাশক : বাংলাদেশ জ্ঞান সৃজনশীল প্রকাশনা |•| ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক ও প্রকাশক: বাংলা পোস্ট |•| __ ও বিশেষ প্রতিবেদক দৈনিক নয়াদেশ |•|

EDITOR & PUBLISHER :
DR. ARIF AHMED MOMTAZ RIFA
MOBILE : 01715110022
PHONE : 0821 716229
OFFICE : SHUVECHCHA-191
MIAH FAZIL CHIST R/A
AMBAKHANA WEST
SYLHET-3100
(Beside Miah Fazil Chist Jame Masjid & opposite to Rainbow Guest House).
E-mail : sylhetsangbad24@gmail.com
Hello : 01710-809595
Design and developed by M-W-D