৯ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৫শে পৌষ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ৯:২০ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২৪, ২০২০
মোহাম্মদ অলিদ সিদ্দিকী তালুকদার ::: গোটা সংবাদপত্রশিল্পের কঠিন সময়ে ১৬তম বছরে পা রাখছে দেশের অন্যতম জনপ্রিয় দৈনিক নয়াদিগন্ত। দেশ ও গণতন্ত্রের পক্ষে নির্মোহ অবদান রাখতে গিয়ে অনেক প্রতিকুল সময় পার করতে হয়েছে এবং হচ্ছে পত্রিকাটিকে। একটি স্বকীয়তা নিয়ে যাত্রা শুরু করা নয়াদিগন্ত তার উদ্দেশ্য-লক্ষ্যচ্যুৎ হয়নি। বহু বাধার মাঝেই তার দর্শন ধরে রাখার চেষ্টা করছে নিরন্তন। বলে আসছে গণতন্ত্র, মানবাধিকার, আইনের শাসনের কথা। প্রতিকূলতার মাঝে কাজ করার অনন্য অভিজ্ঞতাও অর্জন করে চলছেন পত্রিকাটিতে কর্মরত সাংবাদিক-কর্মচারিসহ সংশ্লিষ্ট সকলে। পত্রিকাটির কঠিন সময় ও বাস্তবতা মোকাবেলা আঁচ করছেন বোদ্ধা পাঠকরাও। তাদের বিশ্বাস সকল সীমাবদ্ধতা পেরিয়ে আগামীতে নতুন সূর্যেরও উদয় ঘটবে। এমনিতেই নানা বাস্তবতার শিকার সংবাদপত্রজগৎ। তা নয়াদিগন্তের জন্য আরো বেশি। সরকারি বিজ্ঞাপন কমতে কমতে ‘নাই’ হওয়ার দশায়। ডিজিটাল মাধ্যমের বিকাশের সঙ্গে সঙ্গে বিজ্ঞাপন থেকে সংবাদমাধ্যমের আয়ও হ্রাস পেয়েছে।
আর বিজ্ঞাপনই সংবাদপত্রসহ সংবাদমাধ্যমের আয়ের বৃহত্তম বা প্রধান উৎস। এর মাঝেই এলো করোনার হানা। তারওপর পাওয়া যাচ্ছে না সরকারি-বেসরকারি সংস্থাগুলোর কাছে জমে থাকা বকেয়া বিল। পত্রিকাগুলোর অফিস ভাড়া, ব্যবস্থাপনা ব্যয়, পরিবহন ব্যয়সহ অন্যান্য ব্যয় প্রায় অপরিবর্তিত রয়েছে। বেশ কিছু পত্রিকা বাধ্য হয়েছে জনবল কমাতে। কিন্তু, বাদবাকি খরচ কমানোর পথ নেই। এরই মধ্যে কয়েকটি পত্রিকা প্রিন্ট সংস্করণ বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছে। এই করোনার মধ্যে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সংবাদপত্রশিল্পে জড়িত কর্মীরা জরুরি সেবা দিয়ে চলেছেন। কিন্তু সেই সংবাদপত্রের সামনেই অশনি সংকেত। সংবাদপত্রের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগে কেবল সাংবাদিক বা সংবাদকর্মীরাই নন। পাঠকরাও তথ্য থেকে বঞ্চিত কম হচ্ছে না। করোনার কঠিন সময়ে সরকার বিভিন্ন শিল্প বাঁচাতে প্রণোদনা দিলেও সংবাদপত্রশিল্পে জন্য সেরকমের কিছুর তথ্য জানা নেই। চলমান করোনার জেরে সংবাদমাধ্যমের কঠিন অবস্থা বিশ্বের প্রায় সব দেশেই। বহু পত্রিকার প্রকাশনা বন্ধ হয়ে গেছে।
চাকরি হারিয়েছেন হাজার হাজার সাংবাদিক। কোনো কোনো মহল থেকে আয়ের প্রশ্নে সংবাদপত্রকে বিজ্ঞাপন নির্ভরতা কমানোর পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। তারা বলতে চান বিজ্ঞাপনের সিংহভাগই যেভাবে গুগল, ফেসবুক ইত্যাদি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের কাছে চলে গেছে তা আর ফেরানো যাবে না। বরং তার মাত্রা আরো বাড়বে। তখন সংবাদপত্রগুলোকে আয়ের বিকল্প খুঁজতে হবে। প্রধান উৎস করতে হবে পাঠককে। সেটা করতে গেলে পত্রিকার বিক্রি বাড়াতে হবে। অর্থাৎ পাঠক বাড়াতে হবে। কিন্তু, বিষয়টি বলা যত সহজ, করা তত সহজ নয়। এ ক্ষেত্রে বিকল্প উদাহরণ এরইমধ্যে তৈরি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের দ্য নিউইয়র্ক টাইমস। তারা ডিজিটাল গ্রাহকের সংখ্যা ৬৫ লাখে উন্নীত করার সক্ষমতা দেখিয়েছে। ২০২৫ সালের মধ্যে এই সংখ্যা ১ কোটিতে উন্নীত করার চেষ্টা চালাচ্ছে। ওয়াশিংটন পোস্ট, ওয়াল স্ট্রিট জার্নালসহ আরো কিছু সংবাদপত্রের ডিজিটাল গ্রাহকের সংখ্যা বেড়েছে। ইউরোপে যুক্তরাষ্ট্রের গার্ডিয়ান এবং জার্মানির ডের স্পিগেলসহ প্রায় সব বড় পত্রপত্রিকাই গ্রাহকভিত্তিক ব্যবসায়িক মডেলকেই অগ্রাধিকার দিচ্ছে। বাংলাদেশে ওই ধরনের কিছু সম্ভব কি-না, তা এক কথায় বলা সম্ভব নয়। তবে, ভাবনার দাবি রাখে।
ভাবনা অব্যাহত রাখলে বিকল্প অন্য কোনো উৎসের দেখা মিলতেও পারে। এ ক্ষেত্রে বিজ্ঞাপন ভাগাভাগির উদাহরণও সামনে আসতে পারে। অস্ট্রেলিয়ায় বিজ্ঞাপনের বাজারে ‘ন্যায্যতা নিশ্চিত করতে আইনি উদ্যোগ বিশ্বের গণমাধ্যম জগতের জন্য একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা। তবে, বাংলাদেশসহ সব দেশে সংবাদপত্রশিল্পকে টিকিয়ে রাখতে সরকারের উদ্যোগী ভূমিকা লাগবেই। এ সংকট কাটাতে রাষ্ট্রকে এগিয়ে আসতে হবে। [ লেখকঃ নির্বাহী সম্পাদক দৈনিক আপন আলো, বিশেষ প্রতিবেদক শ্যামল বাংলা টিভি, সাবেক কাউন্সিলর-বিএফইউজে-বাংলাদেশ ও সদস্য ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন ( ডিইউজে )]

EDITOR & PUBLISHER :
DR. ARIF AHMED MOMTAZ RIFA
MOBILE : 01715110022
PHONE : 0821 716229
OFFICE : SHUVECHCHA-191
MIAH FAZIL CHIST R/A
AMBAKHANA WEST
SYLHET-3100
(Beside Miah Fazil Chist Jame Masjid & opposite to Rainbow Guest House).
E-mail : sylhetsangbad24@gmail.com
Hello : 01710-809595
Design and developed by M-W-D