বিশ্বনাথে নিখোঁজের ১৩ দিন পর নববধূ উদ্ধার : যুবক আটক

প্রকাশিত: ১১:১০ অপরাহ্ণ, জুলাই ২৪, ২০২০

বিশ্বনাথে নিখোঁজের ১৩ দিন পর নববধূ উদ্ধার : যুবক আটক

বিশ্বনাথে বাবার বাসা থেকে নিখোঁজ নববধূ কোহিনুর আক্তার আশাকে (২১) কিশোরগঞ্জ থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিখোঁজের ১৩ দিন পর গত বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ থানার শতরদরিয়া গ্রামের আব্দুর রহিমে পুত্র শাওন মিয়ার বাড়ি থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়। এ সময় অপহরণকারী শাওন মিয়াকে (২১) গ্রেফতার করে পুলিশ।
পুলিশ জানায়, ফেসবুকের মাধ্যমে পরিচয়ের সূত্র ধরে কোহিনুর আক্তার আশা’কে বিশ্বনাথ থেকে অপহরণ করে কিশোরগঞ্জে নিয়ে যায় শাওন। এরপর সেখানে সে তার নিজ বাড়িতে কোহিনুরকে জিম্মি করে রাখে।
ইতিপূর্বে একই ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় পুলিশ ব্রাক্ষণবাড়িয়া গজারিয়া গ্রামের রাকিবুল ইসলামের স্ত্রী ও ছাতক উপজেলা সমবায় অফিসের এমএলএস রুজিনা আক্তার (৩০) এবং তার ভাই সিলেট সদর সমবায় অফিসের এমএলএস রাজিব সরকারকে (২৫) গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করে।
জানা যায়, ব্রাক্ষণবাড়িয়া জেলার সরাইল থানার পানিশ্বর গ্রামের রমজান মিয়া দীর্ঘদিন ধরে বিশ্বনাথ উপজেলা সমাজসেবা অফিসের নিরাপত্তা প্রহরী হিসেবে কর্মরত। সেই সুবাদে স্ত্রী, দুই মেয়ে ও এক ছেলেকে নিয়ে তিনি উপজেলা সদরের জানাইয়া রোডস্থ তেরাবুন ভিলায় ভাড়াটিয়ে হিসেবে বসবাস করছেন। প্রায় ৫ বছর পূর্বে আত্মীয় ওমান প্রবাসী আলমগীর হোসেনের সঙ্গে তার বড় মেয়ে কোহিনুর আক্তার আশার বিয়ের ঠিক করা (এনগেজমেন্ট) হয়। গত ৫ জুন ব্রাক্ষণবাড়িয়া জেলার নিজ বাড়িতে কোহিনুর আক্তার আশা ও আলমগীর হোসেনের বিয়ের অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়। বিয়ের পর স্বামী আলমগীরকে সঙ্গে নিয়ে দ্বিতীয় বারের মতো ১৯ জুন বিশ্বনাথে বাবার বাসায় আসেন কোহিনুর। এরপর গত ৯ জুলাই সকাল ১০টার দিকে হঠাৎ করে বাসা থেকে নিখোঁজ হন কোহিনুর। তখন বাসার আশপাশ ও আত্মীয়-স্বজনদের বাড়ী ছাড়াও বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করে মেয়ে কোহিনুরের কোন সন্ধান না পাওয়ায় পরদিন ১০ জুলাই বিশ্বনাথ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী করেন রমজান আলী। এরপর নিখোঁজ কোহিনুরকে উদ্ধারের নামে মোটা অংকের টাকা দাবি করার অভিযোগে গত সোমবার রুজিনা ও রাজিবকে অভিযুক্ত করে নিখোঁজ কোহিনুর আক্তার আশা’র পিতা রমজান মিয়া বাদী হয়ে বিশ্বনাথ থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলা নং-১৫।
মামলা দায়েরের পর নিখোঁজ কোহিনুর আক্তার আশা’র অবস্থান প্রায় নিশ্চিত হয় পুলিশ। এরপর কিশোরগঞ্জ জেলার করিমগঞ্জ থানা পুলিশের সহযোগিতায় বিশ্বনাথ থানার এসআই ফজলুল হকের নেতৃত্বে একদল পুলিশ গত বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে অভিযান চালিয়ে করিমগঞ্জের শতরদরিয়া গ্রামের আব্দুর রহিমের পুত্র শাওন মিয়ার বাড়ি থেকে কোহিনুর আক্তার আশাকে উদ্ধার এবং অপহরণের অভিযোগে শাওনকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় পুলিশ।
ভিকটিম উদ্ধার ও অপহরণকারী শাওনকে গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বিশ্বনাথ থানার এসআই ফজলুল হক বলেন, গ্রেফতারকৃত শাওনকে গতকাল শুক্রবার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। ভিকটিম গৃহবধূকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টার(ওসিসি)-এ ভর্তি করা হয়েছে বলে জানান ওসি।


সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট