৬ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৩শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ৯:২১ পূর্বাহ্ণ, জুন ২, ২০২০
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সাবেক জাতীয় পরামর্শক অধ্যাপক ডা: সৈয়দ মোহাম্মদ আকরাম হোসেন জানান, অতীতে যা ঘটে গেছে তাতো গেছেই। এবার বর্তমান ও সামনের পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করে স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাতে হবে। যে হারে করোনা আক্রান্ত বাড়ছে তাতে সামনের দিনগুলোতে হাসপাতালের দিকে মানুষের স্রোত আরো বেড়ে যাবে। সবার চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হলে সরকারকে এখনই সব হাসপাতালকে কোভিড হাসপাতাল ঘোষণা করতে হবে। হাসপাতালগুলোতে শুধু জরুরি চিকিৎসার ব্যবস্থা করে সব ধরনের সাধারণ চিকিৎসা আপাতত স্থগিত রাখতে হবে। চিকিৎসকদের পর্যাপ্ত সুরক্ষাসামগ্রী সরবরাহ করে তাদের সবাইকে করোনা চিকিৎসায় কাজে লাগাতে হবে। দেশব্যাপী করোনা পরীক্ষার সুবিধা বাড়ানোর ফলে আক্রান্তের সংখ্যাও বাড়ছে। গত দুই দিনেই প্রায় পাঁচ হাজার নতুন আক্রান্ত (৩১ মে দুই হাজার ৫৪৫ এবং গতকাল সোমবার দুই হাজার ৩৮১ জন) শনাক্ত হয়েছে। সারা দেশে পরীক্ষার সংখ্যা ২০ হাজারে উন্নীত করা হলে নতুন আক্রান্তের সংখ্যা আরো বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সে কারণে সরকারকে এখনই সব হাসপাতালকে কোভিড-১৯ ঘোষণা করে প্রথমে করোনা চিকিৎসায় মনোযোগী হতে হবে।
এ ব্যাপারে অধ্যাপক মোজাহেরুল হক হাসপাতালগুলোকে কিভাবে ঢেলে সাজাতে হবে সে সম্পর্কে বলেন, ঢাকা শহরের হাসপাতালগুলোকে চিকিৎসা দেয়ার সুবিধার্থে রেড, ইয়েলো ও গ্রিন এই তিন জোনে বিভক্ত করতে হবে। নিশ্চিত কোভিড রোগীদের জন্য হবে রেড জোন। করোনা সন্দেহে মানুষ হাসপাতালে এলে তাদের ইয়েলো জোনে পর্যবেক্ষণে রাখতে হবে। চিকিৎসক যদি মনে করেন তার কোভিড টেস্ট করতে হবে তিনি তা করবেন। কোভিড নিশ্চিত হলে রোগীকে হাসপাতালের রেড জোনে রেখে চিকিৎসা দিতে হবে। কোভিড-১৯ নিশ্চিত না হলে মুমূর্ষু রোগীকে গ্রিন জোনে রেখে জরুরি সেবা দিয়ে দ্রুত ছেড়ে দিতে হবে।
অধ্যাপক মোজাহেরুল হক বলেন, করোনা চিকিৎসার জন্য দ্রুত সাড়ে ৫ হাজার বেডের আইসিইউ প্রস্তুত করতে হবে (প্রতি লাখ মানুষের জন্য ৩টি আইসিইউ বেড প্রতিটি হাসপাতালে)। তিনি জানান, হাসপাতালে করোনা চিকিৎসার জন্য পর্যাপ্ত ভেন্টিলেশনের পাশাপাশি পর্যাপ্ত অক্সিজেন সিলিন্ডার, পর্যাপ্ত অক্সিমিটার (আঙুলের ডগায় রেখে অক্সিজেনের পরিমাণ নির্ণায়ক যন্ত্র), পর্যাপ্ত ন্যাসাল ক্যানোলার ব্যবস্থা করতে হবে। উপজেলা হাসপাতালেও অক্সিজেন, অক্সিজেন মাস্ক, অক্সিমিটার, ন্যাসাল ক্যানোলা লাগবে। তবে রোগীর অবস্থা সঙ্কটাপন্ন হলে উপজেলা হাসপাতাল থেকে জেলা হাসপাতালে রোগী স্থানান্তরের ব্যবস্থা রাখতে হবে।
অধ্যাপক মোজাহেরুল হক আরো বলেন, হাসপাতালের সব চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মীকে কিছু দিন পরপর করোনা টেস্ট করতে হবে। এটা হতে পারে র্যাপিডটেস্ট। র্যাপিড টেস্টে পজিটিভ হলে সেসব চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীকে আরটি পিসিআর টেস্ট করে অধিকতর নিশ্চিত হতে হবে যে ওই চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মী করোনা পজিটিভ।
চিকিৎসাসংক্রান্ত ব্যাপারে অধ্যাপক মোজাহেরুল হক বলেন, হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্সসহ স্বাস্থ্যকর্মীদের চারটি দলে ভাগ করতে হবে। একটি দলকে রিজার্ভে রাখতে হবে। অবশিষ্ট তিনটি গ্রুপ প্রতি ৮ ঘণ্টা পরপর শিফটে চিকিৎসা দেবেন। তাহলে তাদের মধ্যে কেউ করোনায় আক্রান্ত হলে রিজার্ভ থেকে স্থান পূরণ করতে হবে। এভাবে হাসপাতালগুলোর ব্যবস্থাপনা নতুন করে সাজানো হলে করোনা চিকিৎসা সঠিক গতিতে চলবে বলে তিনি অভিমত প্রকাশ করেন।

EDITOR & PUBLISHER :
DR. ARIF AHMED MOMTAZ RIFA
MOBILE : 01715110022
PHONE : 0821 716229
OFFICE : SHUVECHCHA-191
MIAH FAZIL CHIST R/A
AMBAKHANA WEST
SYLHET-3100
(Beside Miah Fazil Chist Jame Masjid & opposite to Rainbow Guest House).
E-mail : sylhetsangbad24@gmail.com
Hello : 01710-809595
Design and developed by M-W-D