করোনা মোকাবিলায় দানশীল ভিক্ষুক’কে ঘর তুলে দেবেন প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশিত: ২:২২ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ২২, ২০২০

করোনা মোকাবিলায় দানশীল ভিক্ষুক’কে ঘর তুলে দেবেন প্রধানমন্ত্রী

করোনাভাইরাসের জন্য আয়-উপার্জন বন্ধ খেটে খাওয়া মানুষদের। আর এই সংকট মোকাবিলায় যে যতটুকু পারছে ত্রাণ তহবিলে সাহায্য করে যাচ্ছে। এই সাহায্যে এগিয়ে আসলেন এক ভিক্ষুক। তিনি ইউএনওর করোনা তহবিলে ১০ হাজার টাকা অনুদান প্রদান করেছেন। গত মঙ্গলবার শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুবেল মাহমুদের হাতে টাকা তুলে দেন ভিক্ষুক মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন।

জানা যায়, উপজেলার কাংশা ইউনিয়নের গান্ধীগাঁও গ্রামের মৃত ইয়ার উদ্দিনের ছেলে হতদরিদ্র ভিক্ষুক মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন (৮০)। তার তিন ছেলে তিন মেয়ে। কিন্তু ভিক্ষে করেই জীবন চলে তার। গত দুই বছর ধরে তিনি ৫-১০ টাকা করে জমিয়ে ১০ হাজার টাকা সঞ্চয় করেন। ইচ্ছে ছিল এবার বর্ষাকালের আগেই ঘর ঠিক করবেন। কিন্তু দেশে করোনা সংক্রমণ শুরু হওয়ার পর মানুষের দুঃখকষ্ট দেখে ওই বৃদ্ধ ঠিক থাকতে পারলেন না। তাদের কষ্ট দেখে তিনি সিদ্ধান্ত নেন ওই টাকা করোনা তহবিলে দান করবেন। যাতে গরিব মানুষের কাজে লাগে।

এ সময় ভিক্ষুক নজিমুদ্দিন গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে বলেন, আমি ভিক্ষা করে খাইয়ে-খুইয়ে দুই বছরে এ টেহা জড়ো করছি। আমার ঘরডা ভাঙে গেছে গ্যা। এহন আর ঘর-দরজা দিলাম না। দশে এহন (মানুষ) কষ্ট করতাছে, আমি এ টেহ্যা ইউএনও সাহেবের হাতে দিলাম। দশেরে দিয়ে দেখ, খাইয়ে বাঁচুক।

বিষয়টি হতবাক করে তোলে ইউএনও, স্বেচ্ছাসেবক দলসহ উপস্থিত সবাইকে। পরে এ নিয়ে দেশের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম খবর প্রচার করে।

এদিকে, এ ঘটনায় মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) তাকে নিয়ে প্রচারিত সংবাদটি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নজরে আসে। এরপরই ওই ভিক্ষুককে ঘর তুলে দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় সব নির্দেশ দেন তিনি।

এ বিষয়ে শেরপুর জেলার ঝিনাইগাতি উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুবেল মাহমুদকে ফোন দেন প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত সচিব। সেই নির্দেশ অনুযায়ী, রাতেই ভিক্ষুক নজিমুদ্দিনের বাড়ি যান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। ভিক্ষুকের ঘরের বর্ণনা দিয়ে রুবেল মাহমুদ বলেন, জীর্ণ ভাঙ্গা ঘর তার। এখনো কুপি বাতি দিয়ে চলে।

রাতের মধ্যেই ঘর তৈরির বিষয়ে সম্ভাব্য সব তথ্য তৈরি করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠিয়েছেন বলে জানান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। তিনি বলেন, সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় সরকার প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেবে।



 

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট