ইভিএমের পক্ষে আছি তবে তাড়াহুড়ো করে চাপিয়ে দেওয়া যাবে না : প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশিত: ৫:৩২ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২, ২০১৮

ইভিএমের পক্ষে আছি তবে তাড়াহুড়ো করে চাপিয়ে দেওয়া যাবে না : প্রধানমন্ত্রী

‘ইভিএম পদ্ধতিতে নির্বাচন বহু দেশে হয়। এর পক্ষে আছি। তবে তাড়াহুড়ো করে চাপিয়ে দেওয়া যাবে না, সীমিত আকারে প্রযুক্তির ব্যবহার শুরু করা যেতে পারে’ বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

রবিবার বিকেলে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার সদ্য সমাপ্ত নেপাল সফর বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন। বিকেল চারটায় এ সংবাদ সম্মেলন শুরু হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘১৫ আগস্টের হত্যাকান্ডের সাথে জিয়া জড়িত।’

শেখ হাসিনা বলেন, বিএনপির জন্মই কারচুপি করে। তাই ইভিএম চালু হলে ভোট কারচুপি করতে পারবে না বলেই বিএনপি এর বিরুদ্ধে বলছে।

সংবাদ সম্মেলন সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার মুক্তি চাইলে আদালতের মাধ্যমে আসতে হবে। আর দ্রুত মুক্তি চাইলে রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা চাইতে হবে।

শেখ হাসিনা বলেন, মামলা তো আমরা দেয়নি। মামলা তো আরো আছে। খালেদা জিয়ার পছন্দের ব্যক্তিরাই মামলা করেছিল।

নির্বাচনের আগে বিরোধী দলগুলো সঙ্গে সংলাপে বসার কোনো সম্ভাবনা আছে কি-না জানতে চাইরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা তাদের (বিএনপি) সঙ্গে আলোচনায় বসতে চেয়েছিলাম। ফোনও করেছিলাম, আপনারা জানেন, তিনি ধরেননি (খালেদা জিয়া)।

তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার ছেলে (আরাফাত রহমান কোকো) যখন মারা গেলো, তখন গেলাম, মুখের ওপর দরজা বন্ধ করে দিলো। এই অপমান, এটা তো মেনে নেওয়া যায় না। এখন যে যা-ই বলুন, তাদের সঙ্গে আমি অন্তত বসবো না।

তিনি বলেন, যেদিন বিএনপি আমার মুখের ওপর দরজা বন্ধ করে দিয়েছিল- সেই দিনই সিদ্ধান্ত নিয়েছি তাদের সাথে কোনো আলোচনা হবে না। তাই বিএনপির সাথে কোনো আলোচনা হবে না।

তিনি বলেন, বিএনপি নির্বাচনে আসবে কি আসবে না তা তাদের ব্যাপার।

রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে ভুয়া ছবি দিয়ে মিয়ানমার সশস্ত্র বাহিনীর প্রোপাগান্ডামূলক একটি বই প্রকাশের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তারা এভাবে ভুয়া ছবি দিয়ে অপপ্রচার চালিয়ে জঘন্য কাজ করেছে। কিন্তু এটা তারা কার কাছ থেকে শিখলো? আমাদের দেশেও তো হয়েছে। একেবারে কাবা ঘরের সামনে ব্যানার ধরার ছবির মিথ্যাচারও আমরা দেখেছি। সুতরাং এসব মানুষের কাছে ধরা পড়ে যায়। মিয়ানমার সরকারও ধরা পড়ে গেছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান প্রশংসা করেছেন।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন,‘রোহিঙ্গা নিয়ে মায়ানমারের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে অনানুষ্ঠানিক আলোচনা হয়েছে। রোহিঙ্গাদের ফেরতে আলোচনা চলমান রয়েছে। একাত্তরের ছবি ব্যবহার করে মায়ানমার জঘন্য কাজ করেছে।’

বিকাল ৪টায় গণভবনে এই সংবাদ সম্মেলনের শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীকে জন্মষ্টমীর শুভেচ্ছা জানান এবং এরপর নেপালে বিমসটেক সম্মেলন নিয়ে তার বক্তব্য উপস্থাপন শুরু করেন। সরকারের মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতারাও এই সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত রয়েছেন। রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার মাধ্যম বাংলাদেশ টেলিভিশন গণভবন থেকে এই সংবাদ সম্মেলন সরাসরি সম্প্রচার করছে।

শেখ হাসিনা নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুতে বঙ্গোপসাগরীয় উপকূলের দেশগুলোর জোট বে অব বেঙ্গল ইনিশিয়েটিভ ফর মাল্টিসেক্টরাল টেকনিক্যাল অ্যান্ড ইকোনমিক কোঅপারেশনের (বিমসটেক) চতুর্থ শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেন।

বিমসটেক সম্মেলনে প্রদত্ত ভাষণে শেখ হাসিনা মুক্তবাণিজ্য অঞ্চল সৃষ্টি, বিনিয়োগ ও জ্বালানি খাতে যৌথ প্রচেষ্টা, জনগণের মধ্যে যোগাযোগ এবং অর্থায়ন প্রক্রিয়া গড়ে তোলার মাধ্যমে বিমসটেক ফোরামে সহযোগিতা সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

সম্মেলনের ফাঁকে প্রধানমন্ত্রী ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং নেপালের প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলির সঙ্গে বৈঠক করেন। সামিট অব দ্য বে অব বেঙ্গল ইনিশিয়েটিভ ফর মাল্টিসেক্টোরাল টেকনিক্যাল অ্যান্ড ইকোনমিক কো-অপারেশন (বিমসটেক)- এর চতুর্থ সম্মেলনে যোগ দিতে গত ৩০ আগস্ট দুই দিনের সফরে নেপাল যান প্রধানমন্ত্রী। এরপর শনিবার তিনি দেশে ফেরেন।