১৩ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৮শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ২:০২ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ১০, ২০১৮
কারাগারে প্রেরণ : কান্নায় ভেঙ্গে পড়লেন সহপাঠী ও স্বজনরা
বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২২ ছাত্রের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। দুই দিনের রিমান্ড শেষে গতকাল বৃহস্পতিবার তাদের আদালতে হাজির করে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন তদন্তকারী কর্মকর্তা। অপরদিকে তাদের আইনজীবীরা জামিন আবেদন করেন। ঢাকা মহানগর হাকিম সত্যব্রত শিকদার জামিন আবেদন নাকচ করে তাদের কারাগারে পাঠানোর এই নির্দেশ দেন। পুলিশের ওপর হামলা ও ভাঙচুরের পৃথক দুই মামলায় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই ২২ ছাত্রকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেয় আদালত। গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকা মহানগর হাকিম সত্যব্রত শিকদার এই আদেশ দেন। এর আগে পুলিশ দুই দিনের রিমান্ড শেষে তাদের আদালতে হাজির করে। ছাত্রদের আইনজীবীরা জামিনের আবেদন করেন। শুনানি নিয়ে আদালত ছাত্রদের জামিন আবেদন নাকচ করে তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। এ সময় ছাত্রদের অভিভাবকরা আদালতের এজলাসে ভিড় করেন। ছাত্রদের রাখা হয়েছিল আদালতের হাজতখানায়। গতকাল বিকেলে তাদের প্রিজন ভ্যানে করে কারাগারে নিয়ে যাওয়ার সময় অভিভাবকদের কেউ কেউ কান্নায় ভেঙে পড়েন। : এর আগে গত মঙ্গলবার এই ২২ ছাত্রের প্রত্যেকের দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। গ্রেফতারকৃতরা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ইস্ট ওয়েস্ট, নর্থ সাউথ, সাউথ ইস্ট ও ব্র্যাকের ছাত্র। এর মধ্যে বাড্ডা থানা-পুলিশ ১৪ ও ভাটারা থানা-পুলিশ ৮ ছাত্রকে গ্রেফতার করে। বাড্ডা থানা-পুলিশ ১৪ ছাত্রের ব্যাপারে আদালতকে জানিয়েছে, তাদের নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে তারা তাদের নাম ও ঠিকানা দিয়েছেন। মামলার ঘটনার ব্যাপারে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে। তাদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে পলাতকদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে। এসব ছাত্রকে গ্রেফতার করার পর ঘটনাস্থলে উত্তেজনা বিরাজ করছে। অপরদিকে গ্রেফতারকৃত ৮ ছাত্রের ব্যাপারে ভাটারা থানা-পুলিশ আদালতের কাছে দাবি করে, গ্রেফতারকৃত ছাত্ররা পুলিশের ওপর হামলা করার কথা প্রাথমিকভাবে স্বীকার করেছেন। ছাত্রদের জামিন না দিতে উভয় থানা-পুলিশই আদালতকে বলে, মামলার তদন্তের জন্য পুনরায় তাদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করার প্রয়োজন হতে পারে। ছাত্রদের পে তাদের আইনজীবীরা আদালতের কাছে দাবি করেন, গ্রেফতারকৃত শিার্থীরা ভাঙচুর কিংবা পুলিশের ওপর হামলার সঙ্গে জড়িত না। গ্রেফতারকৃত ছাত্র ফয়েজ আহমদ আদনানের আইনজীবী এ কে এম মুহিউদ্দিন ফারুক আদালতের কাছে দাবি করেন, তিনি নিজে দেখেছেন পুলিশ কীভাবে ছাত্রদের নির্যাতন করেছে। গ্রেফতারকৃত সবাই ছাত্র অথচ পুলিশ মামলায় তা উল্লেখ করেনি। মামলার এজাহারের বক্তব্য মিথ্যা দাবি করে এই আইনজীবী বলেন, নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিশু ছাত্ররা যে আন্দোলন করেছে, তাতে এসব শিার্থী সায় দিয়েছে। যারা ভাঙচুর করল পুলিশ তাদের ধরল না। কয়েকজন শিার্থীর আইনজীবী আদালতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপরে দেয়া কাগজ জমা দিয়ে বলেছেন, তারা কোনো আন্দোলনে ছিল না। কোনো ভাঙচুর করেনি। তারা সেদিন কাস করেছে। গ্রেফতারকৃত ছাত্র আমিনুল, হাসানুজ্জামাসহ কয়েকজন শিার্থীর আইনজীবী আদালতকে জানান, আগামী সপ্তাহে তাদের পরীা আছে। জামিন না পেলে তাদের শিাজীবন মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হবে। আর মাসাদ মরতুজা বিন আহাদের আইনজীবী কামরুদ্দিন আদালতকে বলেন, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের এই ছাত্রকে পুলিশ সেদিন মারধর করেছে। তিনি গুরুতর অসুস্থ। হাত ও ঘাড়ে জখম হয়েছে। আদালত পরে এই ছাত্রকে কারাবিধি অনুযায়ী চিকিৎসা দেয়ার নির্দেশ দেন। : ছাত্রদের আইনজীবীরা আদালতের কাছে আরো দাবি করেন, যারা হামলা করেছিল তাদের গ্রেফতার না করে নিরীহ এসব ছাত্রদের গ্রেফতার করে মারধর করেছে পুলিশ। এর আগে গত মঙ্গলবারও গ্রেফতারকৃত এসব ছাত্রের আইনজীবীরা আদালতের কাছে দাবি করেন, পুলিশ ধরে নিয়ে তাদের থানায় নির্যাতন করেছে। সেদিন ছাত্রদের রিমান্ডে নেয়ার আবেদনে পুলিশ দাবি করে, সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয় এবং অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা আফতাবনগর মেইন গেটের রাস্তায় যান চলাচলে বাধা দেয়। লাঠিসোটা, ইটপাটকেল দিয়ে রাস্তার গাড়ি ভাঙচুর করে। পুলিশ বাধা দিলে পুলিশের ওপর আক্রমণ করে আসামিরা। আসামিরা বাড্ডা থানার ওসির গাড়ি ভাঙচুর করেছে। বাড্ডা পুলিশ ফাঁড়ি আগুন ধরাতে গেলে পুলিশ টিয়ারশেল ছুঁড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। গত মঙ্গলবারের ওই রিমান্ড আবেদনে পুলিশ আরও বলে, একইদিন (সোমবার) বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার অ্যাপোলো হাসপাতাল ও নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় লোহার রড, লোহার পাইপ, ইট দিয়ে পুলিশের ওপর হামলা করে ছাত্ররা। সকাল ১১টা থেকে বিকেল সাড়ে ৬টা পর্যন্ত ঘটনাস্থলের আশপাশের দোকানপাট, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বাসার দরজা-জানালা ভাঙচুর করে। পলাতকরা জঙ্গি গোষ্ঠীর সক্রিয় সদস্য। তাই পলাতকদের গ্রেফতার করতে এদেরকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন। বাড্ডার মামলায় গ্রেফতারকৃত ১৪ ছাত্র হলেনÑ রিসালাতুল ফেরদৌস, রেদোয়ান আহমেদ, রাশেদুল ইসলাম, বায়েজিদ, মুশফিকুর রহমান, ইফতেখার আহমদ, রেজা রিফাত আখলাক, এএইচএম খালিদ রেজা, তারিকুল ইসলাম, নূর মোহাম্মদ, সীমান্ত সরকার, ইকতিদার হোসেন, জাহিদুল হক ও হাসান। আর ভাটারা থানার মামলায় গ্রেফতারকৃত ছাত্ররা হলেনÑ আজিজুল করিম, মাসাদ মরতুজা বিন আহাদ, ফয়েজ আহমদ আদনান, সাবের আহমদ, মেহেদী হাসান, শিহাব শাহরিয়ার, সাখাওয়াত হোসেন ও আমিনুল এহসান।

EDITOR & PUBLISHER :
DR. ARIF AHMED MOMTAZ RIFA
MOBILE : 01715110022
PHONE : 0821 716229
OFFICE : SHUVECHCHA-191
MIAH FAZIL CHIST R/A
AMBAKHANA WEST
SYLHET-3100
(Beside Miah Fazil Chist Jame Masjid & opposite to Rainbow Guest House).
E-mail : sylhetsangbad24@gmail.com
Hello : 01710-809595
Design and developed by M-W-D