না.গঞ্জে সাত খুন: নূর-তারেকসহ ১৫ জনের মৃত্যুদণ্ড হাইকোর্টে বহাল

প্রকাশিত: ১১:৩৪ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২২, ২০১৭

না.গঞ্জে সাত খুন: নূর-তারেকসহ ১৫ জনের মৃত্যুদণ্ড হাইকোর্টে বহাল

নারায়ণগঞ্জে চাঞ্চল্যকর সাত খুন মামলায় সেনাবাহিনী থেকে বরখাস্ত হওয়া লেফটেন্যান্ট কর্নেল তারেক সাঈদ মোহাম্মদ ও নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর নূর হোসেনসহ ১৫ জনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছে হাইকোর্ট।

মঙ্গলবার দুপুরে বিচারপতি ভবানী প্রসাদ সিংহ ও বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলামের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে এ রায় ঘোষণা করেন।

বিচারিক আদালতে মৃত্যুদণ্ড পাওয়া ২৬ জনের মধ্যে বাকি ১১ জনের সাজা কমিয়ে তাদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়।

এছাড়া এই মামলায় র‌্যাবের ক্যাম্প কমান্ডার ও সাবেক মেজর আরিফ হোসেন, র‌্যাবেরর ক্যাম্প কমান্ডার ও সাবেক লেফটেন্যান্ট কমান্ডার মাসুদ রানার মৃত্যুদণ্ডও বহাল রাখেন আদালত।

এছাড়া বিচারিক আদালতে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা পাওয়া ৯ জনের দণ্ডও বহাল রাখে হাইকোর্ট।

গত ২২ মে সাত খুন মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের শুনানি শুরু হয়। সাত খুন মামলায় মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত আসামিদের মধ্যে নূর হোসেন, তারেক সাঈদ, আরিফ হোসেন, মাসুদ রানা, এমদাদুল হক (হাবিলদার), বেলাল হোসেন, আবু তৈয়ব, শিহাব উদ্দিন, এসআই সুনেন্দু বালা, পূর্ণেন্দু বালা, আসাদুজ্জামানূর, মূর্তজা জামান চার্চিল, আলী মোহাম্মদ, মিজানুর রহমান বিপু, আবুল বাশার ও রহমত আলীসহ ২০ আসামী হাইকোর্টে নিয়মিত আপিল ও জেল আপিল দায়ের করেন।

চাঞ্চল্যকর সাত খুনের মামলায় গত ১৬ জানুয়ারি সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর নূর হোসেন ও র‌্যাবের বরখাস্তকৃত তিন কর্মকর্তাসহ ২৬ জনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়ে নারায়ণগঞ্জের জেলা ও দায়রা জজ সৈয়দ এনায়েত হোসেন রায় দেন। এ মামলার ৩৫ জন আসামির মধ্যে বাকি ৯ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেয়া হয়।

গত ২২ জানুয়ারি ১৬৩ পাতার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়। ওইদিনই পূর্ণাঙ্গ রায়ের কপি, জুডিশিয়াল রেকর্ড, সিডিসহ বিভিন্ন নথিপত্র (ডেথ রেফারেন্স) হাইকোর্টে পৌঁছে দেন বিচারিক আদালত। প্রধান বিচারপতির নির্দেশে এ মামলার পেপার বুক প্রস্তুতে দ্রুত উদ্যোগ নেয়া হয়। সে আলোকে গত ৭ মে মামলার পেপার বুক হাইকোর্টে আসে। পেপারবুকটি প্রায় ছয় হাজার পৃষ্ঠার।

২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল বেলা দেড়টার দিকে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোড থেকে অপহৃত হন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম, আইনজীবী চন্দন সরকারসহ সাতজন। তিন দিন পর ৩০ এপ্রিল শীতলক্ষ্যা নদীতে একে একে ভেসে ওঠে ছয়টি লাশ। পরদিন মেলে আরেকটি লাশ। নিহত অন্যরা হলেন নজরুলের বন্ধু মনিরুজ্জামান স্বপন, তাজুল ইসলাম, লিটন, গাড়িচালক জাহাঙ্গীর আলম ও চন্দন সরকারের গাড়িচালক মো. ইব্রাহীম।

ঘটনার এক দিন পর কাউন্সিলর নজরুলের স্ত্রী সেলিনা ইসলাম বাদী হয়ে নূর হোসেনসহ ছয়জনের নাম উল্লেখ করে ফতুল্লা মডেল থানায় মামলা করেন।

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট