প্রেমঘটিত বিষয় নিয়ে শাবিছাত্রের বিষপান, হাসপাতালে ভর্তি

প্রকাশিত: ১:০১ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ৫, ২০২৬

প্রেমঘটিত বিষয় নিয়ে শাবিছাত্রের বিষপান, হাসপাতালে ভর্তি

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) এক শিক্ষার্থী প্রেমঘটিত কলহের জেরে বিষপান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন। বর্তমানে তিনি সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

চিকিৎসাধীন শিক্ষার্থীর নাম শাহরিয়ার বাঁধন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। তার বাড়ি চুয়াডাঙ্গা জেলায়। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের পার্শ্ববর্তী টিলারগাঁও এলাকার একটি মেসে থাকতেন।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, রোববার ৪ অক্টোবর রাত আনুমানিক ১১টার দিকে টিলারগাঁওয়ের মেসে অবস্থানকালে বিষপান করেন শাহরিয়ার। তবে প্রাথমিকভাবে তিনি বিষয়টি সহপাঠীদের জানাননি। পরে রাত সাড়ে ১২টার দিকে বিষয়টি জানতে পেরে সহপাঠী ও বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা তাকে উদ্ধার করে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান।

হাসপাতালে নেওয়ার পর তার শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় প্রথমে ৩৩ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। পরে তাকে আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে তিনি আইসিইউ-২-এর ১৭ নম্বর বেডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

এ বিষয়ে রসায়ন বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. ইকবাল আহমেদ সিদ্দিকী জানান, শাহরিয়ারের সঙ্গে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক তরুণীর প্রেমের সম্পর্ক ছিল। ঘটনার রাতে ওই তরুণী ও তার এক আত্মীয়ের সঙ্গে ফোনে কথাকাটাকাটি ও মান-অভিমান হয়। তার মোবাইলে এ-সংক্রান্ত কল রেকর্ড ও মেসেজ পাওয়া গেছে।

তিনি আরও জানান, ধারণা করা হচ্ছে, তিনি মানসিকভাবে বিষণ্ণ ছিলেন। এর আগেও প্রথম বর্ষের প্রথম সেমিস্টারে অধ্যয়নকালে তিনি ইঁদুরের বিষ পান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন। সে সময় তিনি চার-পাঁচ দিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।

বিভাগীয় প্রধান জানান, হাসপাতালের চিকিৎসকদের বরাতে জানা গেছে, শাহরিয়ার যে কীটনাশক পান করেছেন, তার প্রভাব তীব্র হলেও ধীরগতির। ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউ ইনচার্জের মতে, এ ধরনের বিষপানের লক্ষণ সাত-আট দিন পর ধীরে ধীরে প্রকাশ পেতে পারে এবং এতে কিডনি, লিভার ও ফুসফুস আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। বর্তমানে চিকিৎসকরা তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখেছেন।

এদিকে শাহরিয়ারের শারীরিক অবস্থার খোঁজ নিতে হাসপাতালে যান বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক জি এম রবিউল ইসলাম।

হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে তিনি জানান, “আপাতত রোগীর রক্তচাপ ও অন্যান্য শারীরিক সূচক স্থিতিশীল রয়েছে। তবে আগামী কয়েকদিন তার শারীরিক দুর্বলতা দেখা দিতে পারে। আহত শিক্ষার্থীর পরিবারকে খবর দেওয়া হয়েছে এবং তারা সিলেটের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন।”

উপ-উপাচার্য আরও জানান, আপাতত বিষয়টি বিভাগের প্রধান তদারকি করছেন। পরবর্তীতে চিকিৎসার বিল জমা দেওয়া হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের তহবিল থেকে তা পরিশোধ করা হবে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য ও কাউন্সেলিং বিষয়ে তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র উপদেষ্টার অধীনে সাইকিয়াট্রিস্ট ও কাউন্সেলিংয়ের ব্যবস্থা রয়েছে। যেকোনো ধরনের মানসিক চাপ বা সমস্যায় শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।


 

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট