সিলেটে হচ্ছে টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ

প্রকাশিত: ৭:২৬ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ২৫, ২০২৬

সিলেটে হচ্ছে টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ

Manual3 Ad Code

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর সিলেটে কারিগরি ও উচ্চতর টেক্সটাইল শিক্ষার প্রসার হতে যাচ্ছে। অবশেষে একনেকের চূড়ান্ত অনুমোদন পেয়েছে ‘সিলেট টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ’ এবং ‘সিলেট টেক্সটাইল ইনস্টিটিউট স্থাপন’ প্রকল্প। রোববার (২৫ জানুয়ারি) রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় এ প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সংশোধনীসহ মোট ২৫টি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৫ হাজার ১৯১ কোটি টাকা।

সভা শেষে সংবাদ ব্রিফিংয়ে পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদ উদ্দিন মাহমুদ জানান, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করার জন্য সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। তিনি বলেন, “আগামী জুন বা ডিসেম্বর মাসের মধ্যে যেসব প্রকল্প শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে, সেগুলো আবশ্যিকভাবে শেষ করতে হবে। নয়তো স্বয়ংক্রিয়ভাবে বরাদ্দ বন্ধ হয়ে যাবে। এখন থেকে প্রতিটি প্রকল্প তিন মাস অন্তর মূল্যায়ন করা হবে।”

Manual2 Ad Code

জানা যায়, সিলেটের দক্ষিণ সুরমা উপজেলার কুচাই ইউনিয়নে একই এলাকায় টেক্সটাইল শিক্ষা কমপ্লেক্স প্রকল্পটি নির্মিত হচ্ছে। এর মধ্যে ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজটি উচ্চশিক্ষার জন্য এবং ইনস্টিটিউটটি ডিপ্লোমা পর্যায়ের জন্য নির্ধারিত। প্রকল্প দুটির ভৌত অবকাঠামো প্রায় শেষ পর্যায়ে থাকলেও প্রশাসনিক ও প্রয়োজনীয় ব্যয় সংক্রান্ত চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় ছিলো। আজকের একনেক সভায় অনুমোদনের ফলে এ বছরের মধ্যেই এখানে পূর্ণাঙ্গ শিক্ষা কার্যক্রম এবং শিক্ষার্থী ভর্তি শুরু হওয়ার উজ্জ্বল সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

Manual8 Ad Code

সিলেট টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজটি বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুটেক্স) অধিভুক্ত হয়ে বিএসসি ইন টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্স পরিচালনা করবে। অন্যদিকে, ইনস্টিটিউট থেকে চার বছর মেয়াদী ডিপ্লোমা কোর্স সম্পন্ন করার সুযোগ পাবে শিক্ষার্থীরা। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই দুটি প্রতিষ্ঠান চালু হলে সিলেট অঞ্চলে দক্ষ টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার ও কারিগরি জনবল তৈরি হবে, যা দেশের তৈরি পোশাক ও বস্ত্র শিল্পে বড় ভূমিকা রাখবে।

Manual4 Ad Code

সিলেটের এই দুই প্রকল্প ছাড়াও একনেক সভায় নীলফামারীতে ১ হাজার শয্যার বড় হাসপাতাল নির্মাণ, ৬৪ জেলায় ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দোহাজারী-কক্সবাজার রেললাইন প্রকল্প এবং পদ্মা নদীর ভাঙন রোধে বিভিন্ন সুরক্ষা প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। পরিকল্পনা উপদেষ্টা জানান, বৈদেশিক ঋণের ফাঁদ এড়াতে এখন থেকে অপ্রয়োজনীয় প্রকল্প গ্রহণ না করে জনগুরুত্বপূর্ণ ও বিনিয়োগমুখী প্রকল্পে গুরুত্ব দেওয়া হবে।

সিলেটের দক্ষিণ সুরমায় এই দুটি বড় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের চূড়ান্ত অনুমোদনের খবরে স্থানীয় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ দেখা দিয়েছে।

Manual2 Ad Code


 

Manual1 Ad Code
Manual3 Ad Code