শাহজালাল (রহ.) মাজারের খেজুর গাছ কাটার প্রমাণ পেয়েছে তদন্ত কমিটি, উন্নয়ন কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ

প্রকাশিত: ৭:১৩ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১৩, ২০২৬

শাহজালাল (রহ.) মাজারের খেজুর গাছ কাটার প্রমাণ পেয়েছে তদন্ত কমিটি, উন্নয়ন কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ

Manual6 Ad Code

সিলেটের হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজার প্রাঙ্গণের শতবর্ষী খেজুর গাছ কেটে ফেলার ঘটনায় তদন্তে নেমেছে জেলা প্রশাসন।

Manual7 Ad Code

মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) দুপুরে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মাসুদ রানার নেতৃত্বে গঠিত তদন্ত কমিটি সরেজমিনে মাজার এলাকা পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনকালে তারা গাছ কাটার সত্যতা পান।

এরআগে খেজুর গাছ কাটা নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি নিয়ে প্রশাসন নড়েচড়ে বসে। এরপর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে বন বিভাগ ও পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

Manual8 Ad Code

মঙ্গলবার পরিদর্শনকালে এই কমিটি দেখতে পায়, মাজার প্রাঙ্গণে অন্তত ছয়টি খেজুর গাছ কেটে ফেলা হয়েছে।

তদন্ত কমিটির সদস্য আনোয়ারুল কাদির বলেন, শাহজালাল মাজার একটি ধর্মীয় ও ঐতিহ্যবাহী স্থান হওয়ায় এখানে যেকোনো উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্কতা ও আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা প্রয়োজন ছিল। আপাতত সেখানে আর কোনো গাছ কাটা যাবে না এবং সংশ্লিষ্ট সব কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কাটা গাছগুলোর গুঁড়ি পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত প্রশাসনের জিম্মায় জব্দ রাখা হয়েছে।

মাজার মসজিদ কমিটি সূত্রে জানা গেছে, বিদ্যমান মসজিদটি ভেঙে নতুন ও আধুনিক মসজিদ নির্মাণের একটি বৃহৎ ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। নির্মাণকাজ চলাকালে মুসল্লিদের ইবাদতের সুবিধার্থে নিচে একটি অস্থায়ী শেড বা মসজিদ নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সেই অস্থায়ী স্থাপনার জায়গা তৈরির জন্যই কোনো ধরনের পূর্বানুমতি ছাড়াই খেজুর গাছগুলো কেটে ফেলা হয়।

Manual6 Ad Code

তদন্ত কমিটির কাছে মাজার মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক মুফতি মোহাম্মদ হাসান গাছ কাটার বিষয়টি স্বীকার করেন। তবে তিনি এটিকে ‘অনিচ্ছাকৃত ভুল’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, উন্নয়ন কাজের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় নিয়ম-কানুন ও আইনি অনুমতির বিষয়ে তাদের যথেষ্ট ধারণা ছিল না। তিনি আরও জানান, কাটা গাছগুলো কোথাও সরানো হয়নি এবং সেগুলো মাজার প্রাঙ্গণেই রাখা আছে।

তদন্ত সংশ্লিস্ট জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তদন্ত প্রতিবেদন জমা পাওয়ার পর সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা যেন আর না ঘটে, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হবে।


গাছ কাটার আগে ও পরের ছবি

গাছ কাটার আগে ও পরের ছবি


এ ব্যাপারে প্রকৃতি ও জীবন ক্লাবের সিলেট বিভাগীয় সমন্বয়ক সাদিকুর রহমান সাকী বলেন- শাহজালাল মাজারের প্রতিটি গাছ সিলেটের ঐতিহ্য ও ইতিহাসের অংশ। উন্নয়নের নামে আইন অমান্য করে এভাবে গাছ কাটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি এ ঘটনার জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

৩৬০ আউলিয়া ভক্ত পরিষদের সভাপতি আবুল হোসেন বলেন, মাজার প্রাঙ্গণে ঢুকতেই চিরচেনা খেজুর গাছগুলো চোখে পড়ত। সিলেটের পরিচয়, ইতিহাস ও সংস্কৃতির অংশ ছিল গাছগুলো। সেখানে অস্থায়ী মসজিদ করা হলে আগের মতো খোলা মাঠ থাকবে না, ভক্তরাও বসতে পারবে না। মসজিদ কমিটির কিছু সদস্যের অতি উৎসাহী ভূমিকার কারণে গাছগুলো কেটে ফেলা হয়েছে বলে মনে করেন তিনি।

Manual4 Ad Code

উল্লেখ্য হজরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজারের অভ্যন্তরের কয়েকটি খেজুর গাছ নজর কাড়তো ভক্ত দর্শনার্থীদের। এগুলো প্রায় ৫০ বছর আগে মাজার প্রাঙ্গনে রোপন করা হয়েছিলো। তবে এরমেধ্যে পাঁচ-ছয়টি খেজুর গাছ গত নভেম্বর মাসের শেষ দিকে কেটে ফেলা হয়েছে। এনিয়ে মাজারের ভক্তদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, ১৯৮০ সালের দিকে মাজার মসজিদের সামনে এসব খেজুর গাছ লাগানো হয়েছিল। ওইসব খেজুর গাছের নিচে রাতের বেলায় ভক্তরা অবস্থান করতেন। নামাজের সময় কর্তৃপক্ষ সেখানে আলাদা শামিয়ানা ও ত্রিপল টানিয়ে দিত। কিন্তু গাছগুলো কেটে ফেলার কারণে আগের মতো সেখানে আর সে পরিবেশ থাকছে না।


 

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট

Manual1 Ad Code
Manual5 Ad Code