সিলেটে ৪২২টি চোরাই মোবাইল ফোন উদ্ধার, গ্রেপ্তার ৪

প্রকাশিত: ৮:৩৩ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ১৯, ২০২৫

সিলেটে ৪২২টি চোরাই মোবাইল ফোন উদ্ধার, গ্রেপ্তার ৪

সিলেট নগরীর করিমউল্লাহ মার্কেটসহ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে ৪২২টি চোরাই মোবাইল ফোন উদ্ধার করেছে মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। এসময় মোবাইল ফোন চুরির সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) দিনভর নগরীর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে এসব মোবাইল ফোন উদ্ধার করেছে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ।

শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) বিকেলে নিজ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান সিলেট মহানগর পুলিশ (এসএমপি) কমিশনার আব্দুল কুদ্দুস চৌধুরী। তিনি জানান, গ্রেপ্তারকৃত ৪ জন সিলেটে মোবাইল ফোন চোর চক্রের হোতা।

তিনি জানান, বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) দক্ষিণ সুরমার মোমিনখালা এলাকায় তানভীর নামে একজনের বাসায় অভিযান চালায় পুলিশ। এসময় ঘরের ভেতর থেকে ৩৮টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করে। অভিযানের খবর পেয়ে তানভীরসহ কয়েকজন পালিয়ে যায়। পরে মো. সুজ্জাদ নামে একজনকে আটক করে। এই মোবাইল ফোনগুলি চোরাই বলে পুলিশের কাছে স্বীকার করে বলে জানান পুলিশ কমিশনার।

পুলিশ কমিশনার জানান, একইদিনে (বৃহস্পতিবার) ভােরে দক্ষিণ সুরমার শিববাড়ির জৈনপুরে চোরাই মোবাইল চত্রের ‘মূল হোতা’ আব্দুস শহীদের বাসায় অভিযান চালিয়ে ২০৪টি চোরাই মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। এরপর নগরের বন্দরবাজার এলাকার করিমউল্লাহ মার্কেটের ৩য় তলার স্মার্ট ফোন গ্যালারিতে অভিযান চালিয়ে আরও ১৫৪ টি চোরাই মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।

সবমিলিয়ে ৪২২ টি চোরাই মোবাইল ফোন উদ্ধার ও ৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানান তিনি।

তিনি বলেন, সিলেটে যে পরিমাণ মোবাইল চুরি হয় সে তুলনায় উদ্ধারের পরিমাণ খুব সামান্য। তবে আমরা আমাদের সক্ষমতা বাড়ানোর চেষ্টা করছি। মোবাইল ফোন উদ্ধার কার্যক্রম বেগবান করার চেষ্টা করছি।

গ্রেপ্তারকৃত চোরক্রের হোতা আব্দুস শহীদের বিরুদ্ধে হত্যাসহ ৮টি মামলা রয়েছে বলে জানান তিনি।

এসময় চোরাই মোবাইল বেচাকেনা চক্রের মূল হোতা দক্ষিন সুরমা উপজেলার জৈনপুর এলাকার বাসিন্দা আব্দুশ সহিদসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার অন্য তিনজন হলেন, আব্দুশ সহিদের বাই মো. আইয়ুব আলী, তার ভাতিজা আকরাম আলী ও মোমিনখলা এলাকার মো. সুজ্জাত।

অভিযানকালে আটকদের কাছ থেকে মোবাইল আনুষঙ্গিক যন্ত্রাংশ, প্রযুক্তিগত সরঞ্জাম, পেনড্রাইভ ও ডিএসএলআর ক্যামেরা জব্দ করা হয়েছে।

এসএমপি কমিশনার আরও বলেন, উদ্ধারকৃত মোবাইল ফোনগুলোর মধ্যে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের স্মার্টফোন রয়েছে। যেগুলোর অনেকগুলোই আইএমইআই নম্বর পরিবর্তনের মাধ্যমে অবৈধভাবে বিক্রির জন্য প্রস্তুত করা হয়েছিল।

পুলিশ কমিশনার আরও বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটকরা স্বীকার করেছে যে, তারা দীর্ঘদিন ধরে সিলেট মহানগরীর বিভিন্ন এলাকা থেকে চুরি হওয়া মোবাইল ফোন সংগ্রহ করে আইএমইআই নম্বর পরিবর্তনের মাধ্যমে পুনরায় বিক্রি করছিল। এসব চোরাই মোবাইল দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হতো।

তিনি বলেন, উদ্ধার হওয়া মোবাইল ফোনগুলোর প্রকৃত মালিকদের শনাক্ত করতে আইএমইআই নম্বর যাচাইসহ প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এ ঘটনায় গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং চোরাই মোবাইল ফোন চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত আছে।


 

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট