আজ শুক্রবার আসছে ওসমান হাদির মরদেহ, শনিবার রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা

প্রকাশিত: ১:৪০ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ১৯, ২০২৫

আজ শুক্রবার আসছে ওসমান হাদির মরদেহ, শনিবার রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা

সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি। তার মরদেহ শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) সিঙ্গাপুর থেকে দেশে আনা হবে।

বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের নিউরোসার্জারি বিভাগের চিকিৎসক ও ন্যাশনাল হেলথ অ্যালায়েন্সের (এনএইচএ) সদস্য সচিব ডা. মো. আব্দুল আহাদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

ডা. আব্দুল আহাদ বলেন, ‘আমাদের প্রাণপ্রিয় জুলাই অভ্যুত্থান পরবর্তী বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর শরীফ ওসমান হাদি ভাইকে আল্লাহ শহীদ হিসেবে কবুল করেছেন। সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতাল থেকে আমরা জানতে পেরেছি, হাদি ভাই আমাদের সবাইকে ছেড়ে পরপারে চলে গিয়েছেন এবং আল্লাহ তাকে শহিদ হিসেবে কবুল করুক। আপনারা সবাই, এ অভ্যুত্থানের পক্ষের শক্তি যারা আছেন সবার প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি আপনারা সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে বাংলাদেশের পক্ষে থাকেন এবং তার পরিবারের পাশে থাকেন। তার পরিবার যেন ধৈর্য ধারণ করতে পারেন, এজন্য সবাই দোয়া করবো।’

তিনি বলেন, ‘শহীদ ওসমান হাদি ভাইয়ের মরদেহ শুক্রবার সকালের দিকে বাংলাদেশে আনা হবে বলে জানানো হয়েছে।’

এর আগে, বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) রাতে ওসমান হাদির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজেও ওসমান হাদির মৃত্যুর বিষয়টি জানানো হয়।

রাত ৯টা ৪৪ মিনিটে দেয়া ওই পোস্টে লিখা হয়েছে, ‘ভারতীয় আধিপত্যবাদের মোকাবিলায় মহান বিপ্লবী ওসমান হাদিকে আল্লাহ শহিদ হিসেবে কবুল করেছেন।’

এদিকে, শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুতে শনিবার (২০ ডিসেম্বর) একদিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। বৃহস্পতিবার রাতে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে এ ঘোষণা দেন তিনি।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ওইদিন সকল সরকারি, আধা সরকারি প্রতিষ্ঠান ও বিদেশে দূতাবাসে পতাকা অর্ধনমিত রাখা হবে। শুক্রবার দেশের মসজিদ, মন্দিরসহ সব উপাসনালয়ে হাদির জন্য প্রার্থনা করা হবে। সবাই আপনারা শরিক হবেন।

ওসমান হাদির সন্তান ও স্ত্রীর দায়িত্ব সরকার নেবে জানিয়ে তিনি বলেন, হাদির হত্যাকারীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে এবং তাদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। এই বিষয়ে কোনও ধরনের শিথিলতা দেখানো হবে না বলেও জানান তিনি।

এর আগে, গুলিবিদ্ধ হয়ে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ১০টা দিকে মারা যান ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদি। এমন প্রেক্ষাপটের মধ্যেই প্রধান উপদেষ্টা জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিতে যাচ্ছেন।

জাতীয় নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনী প্রচারের সময় গত ১২ ডিসেম্বর শুক্রবার দুপুরে গুলিবিদ্ধ হন শরিফ ওসমান হাদি। গুলি মাথা ভেদ করে যাওয়ায় গুরুতর আহত হন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে, পরে এভারকেয়ার হাসপাতালের আইসিউতে নেওয়া হয়। তিনদিন পর ১৫ ডিসেম্বর সোমবার দুপুরে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। সেখানে গত কয়েকদিন চিকিৎসা চললেও ওসমান হাদির শারীরিক অবস্থার আর উন্নতি হয়নি। বৃহস্পতিবার রাতে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।

ওসমান হাদির ওপর গুলিবর্ষণকারী হিসেবে ফয়সাল করিম মাসুদ নামে একজনকে চিহ্নিত করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তার সহযোগী আলমগীর শেখ মোটরসাইকেলের চালক ছিলেন। এই দুজন অবৈধভাবে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে ভারতে পালিয়ে গেছেন বলে তদন্তসংশ্লিষ্ট কয়েকটি সূত্র জানিয়েছে।

ওসমান হাদির ওপর হামলার ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১৪ জনকে আটক ও গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ও র‌্যাব। তাদের মধ্যে ফয়সালের বাবা মো. হুমায়ুন কবির (৭০) ও মা মোসা. হাসি বেগম (৬০), স্ত্রী সাহেদা পারভিন সামিয়া ও শ্যালক ওয়াহিদ আহমেদ সিপু রয়েছেন।

এ ছাড়া গ্রেপ্তার হওয়া অন্যরা হলেন মো. নুরুজ্জামান নোমানী ওরফে উজ্জ্বল, মো. কবির, আব্দুল হান্নান, মো. হিরন, মো. রাজ্জাক, ফয়সালের বান্ধবী মারিয়া আক্তার এবং হালুয়াঘাট সীমান্তে মানব পাচারকারী হিসেবে পরিচিত সিমিরন দিও ও সঞ্জয় চিসিম।

উল্লেখ্য, গুলিবিদ্ধ হওয়ার এক মাস আগেই হত্যার হুমকি পাওয়ার কথা প্রকাশ্যে জানিয়েছিলেন ওসমান হাদি। গত নভেম্বরে ফেসবুক দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেছিলেন, দেশি-বিদেশি অন্তত ৩০টি নম্বর থেকে তাকে ফোন ও মেসেজ পাঠিয়ে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে।

পোস্টে তিনি আরও লেখেন, আওয়ামী লীগের ‘খুনি’ সমর্থকেরা তাকে সার্বক্ষণিক নজরদারিতে রাখছে। তবে জীবননাশের আশঙ্কা সত্ত্বেও ‘ইনসাফের লড়াই’ থেকে পিছিয়ে যাবেন না।


 

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট