এবার যুক্তরাজ্য ফেরত পাঠাচ্ছে বাংলাদেশিদের, তালিকায় রয়েছেন সিলেটের অনেকে

প্রকাশিত: ৪:৪৭ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২৯, ২০২৫

এবার যুক্তরাজ্য ফেরত পাঠাচ্ছে বাংলাদেশিদের, তালিকায় রয়েছেন সিলেটের অনেকে

যুক্তরাষ্ট্রের পর এবার যুক্তরাজ্য সরকারও অবৈধ বাংলাদেশি অভিবাসীদের ফেরত পাঠানো শুরু করেছে। দেশটির হোম অফিসের উদ্যোগে ১৫ জন বাংলাদেশিকে দেশে ফেরত পাঠানো হচ্ছে। ইতোমধ্যেই বাংলাদেশ হাইকমিশন, লন্ডন তাদের প্রত্যাবর্তনের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেছে।

শুক্রবার (২৯ আগস্ট) দুপুরে বিশেষ চার্টার্ড ফ্লাইট HFM851 লন্ডনের স্ট্যানস্টেড বিমানবন্দর থেকে ইসলামাবাদ হয়ে ঢাকায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে।

পাসপোর্ট ও ট্রাভেল পারমিট ইস্যু

বাংলাদেশ হাইকমিশনের কনসুলার শাখা এসব অভিবাসীর জন্য ট্রাভেল পারমিট ইস্যু করেছে। ফেরত আসা ব্যক্তিদের মধ্যে ৬ জনের বৈধ বা মেয়াদোত্তীর্ণ পাসপোর্ট রয়েছে। তাদের মধ্যে ৩ জনের বৈধ পাসপোর্ট থাকায় আলাদা ট্রাভেল পারমিট প্রয়োজন হয়নি। বাকি ৯ জনের কোনো পাসপোর্ট না থাকায় জাতীয়তা নিশ্চিত করে ট্রাভেল পারমিট প্রদান করা হয়েছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের চিঠি

বুধবার (২৭ আগস্ট) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কনস্যুলার অনুবিভাগ সুরক্ষা সেবা বিভাগ ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়কে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেয়।

অভিবাসীদের পরিচয়

ফেরত পাঠানো তালিকায় রয়েছেন সুনামগঞ্জ, সিলেট, মৌলভীবাজার, কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, চাঁদপুর, চট্টগ্রাম, নোয়াখালী ও ঢাকার বাসিন্দা। তাদের মধ্যে নারীও রয়েছেন। কারও কারও নির্দিষ্ট কোনো পেশা নেই, আবার কেউ ওয়েটারসহ বিভিন্ন পেশায় যুক্ত ছিলেন। এমনকি শিক্ষার্থীও রয়েছেন এই তালিকায়।

যুক্তরাজ্যের কঠোর পদক্ষেপ

যুক্তরাজ্য সরকার সাম্প্রতিক সময়ে অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও যারা সেখানে অবস্থান করছিলেন, তাদের ফেরত পাঠানো হচ্ছে। এ প্রক্রিয়ায় বৈধ পাসপোর্টধারীরাও বাদ পড়ছেন না।

বাংলাদেশিদের জন্য নাজুক বাস্তবতা;

কূটনৈতিক সূত্র বলছে, বিশ্বব্যাপী অভিবাসন নীতির কঠোরতা এবং বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতি মিলিয়ে অভিবাসীরা নতুন বাস্তবতার মুখোমুখি হয়েছেন। মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপের দেশগুলোতে ভিসা ইস্যু কমে গেছে, ফলে অনেকেই অবৈধভাবে বিদেশে অবস্থান করছেন এবং ধরা পড়লে ফেরত পাঠানো হচ্ছে।

সরকারি মন্তব্য

সরকারের একজন কর্মকর্তা জানান, অনেক বাংলাদেশি ভুল তথ্য দিয়ে ভিসা আবেদন করেন কিংবা অবৈধভাবে বিদেশে যান। এতে দেশের অভিবাসন খাত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তিনি বলেন, “বিদেশের মাটিতে অবৈধভাবে প্রবেশ করলে ফেরত আসার ঝুঁকি থাকবেই। তাই সচেতনতা ও সঠিক কাগজপত্র ছাড়া অভিবাসন চেষ্টার কোনো বিকল্প নেই।”