সাদাপাথর লুট, সিলেটে মন্ত্রিপরিষদ তদন্ত কমিটির গণশুনানি অনুষ্ঠিত

প্রকাশিত: ৪:৩২ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২৭, ২০২৫

সাদাপাথর লুট, সিলেটে মন্ত্রিপরিষদ তদন্ত কমিটির গণশুনানি অনুষ্ঠিত

সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ভোলাগঞ্জের সাদাপাথর পর্যটন কেন্দ্র ও রেলওয়ে বাংকার এলাকায় অবৈধভাবে পাথর উত্তোলনের ফলে পরিবেশ ও নান্দনিকতা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় গণশুনানি করেছে মন্ত্রীপরিষদ বিভাগের গঠিত তদন্ত কমিটি।

এ পরিস্থিতি তদন্তে বুধবার (২৭ আগস্ট) সকালে সিলেট সার্কিট হাউজে আয়োজিত গণশুনানি শুরু হয়।

গণশুনানিতে সভাপতিত্ব করেন কমিটির আহ্বায়ক ও মন্ত্রিপরিষদ সচিব (সমন্বয় ও সংস্কার) জাহেদা পারভীন। এ সময় কমিটির অন্য সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন। শুনানিতে বিভাগীয় কমিশনার, জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, পুলিশ প্রশাসন, পরিবেশ অধিদপ্তরের প্রতিনিধি ছাড়াও পরিবেশবাদী সংগঠন, ট্রাক পরিবহন মালিক সমিতি, পাথর ব্যবসায়ী সমিতি ও প্রেসক্লাব নেতারা অংশ নিয়ে নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরেন।

মন্ত্রীপরিষদ গঠিত উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি মঙ্গলবার থেকে কাজ শুরু করেছে। মঙ্গলবার তারা সরেজমিনে সাদাপাথর পরিদর্শন করে।

শুনানি শেষে কমিটির আহবায়ক জাহেদা পারভীন সাংবাদিকদের বলেন- আমাদের কমিটি মূলত: দুইটি বিষয় নিয়ে কাজ করছে। এরমধ্যে একটি হচ্ছে- কর্তৃপক্ষের দায়িত্বে অবহেলা ছিল কি-না এবং অপরটি হচ্ছে- এমন ঘটনার আর যাতে পুনরাবৃত্তি না ঘটে।

তদন্ত চলমান আছে জানিয়ে জাহেদা পারভীন আরও বলেন- গঠিত কমিটি ১০ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে কাজ করছে।

তিনি বলেন- গণশুনানিকালে বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দের সাথে কথা বলা হয়েছে এবং দ্রুত সাদাপাথরকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নিতে নানা ধরনের পরামর্শও গ্রহণ করা হয়েছে।

এরআগে গত ২০ আগস্ট মন্ত্রী পরিষদ বিভাগের তদন্ত কমিটি গঠিত হয়।

সাদাপাথর লুটের ঘটনায় ইতোমধ্যে তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। প্রতিবেদনে সাদাপাথর লুটে বিভিন্ন সরকারী প্রতিষ্ঠান, ব্যক্তি ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা মিলিয়ে ৫৩ জনের সম্পৃক্ততা পেয়েছে বলে জানিয়েছে দুদক। এতে বিভাগীয় কমিশনার, ডিসি এসপি, ইউএনও, ওসি- সবাইকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া রাজনৈতিক নেতা ও ব্যবসায়ীরা লুটপাটে জড়িত উল্লেখ করে তাদের ৪২ জনের নাম প্রকাশ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, পাথর আত্মসাতের ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সংস্থাগুলোর নিষ্ক্রিয়তা ও যোগসাজশ ছিল।

এছাড়া জেলা প্রশাসন ঘটিত তদন্ত কমিটিও প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। এই প্রতিবেদনে লুটে শতাধিক ব্যক্তির সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে জানানো হলেও কারো নাম প্রকাশ করা হয়নি।


 

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট