সিলেটে আলী আমজদের ঘড়িঘরে নতুন স্থাপনা নির্মাণ ব’ন্ধে’র দাবি

প্রকাশিত: ৭:২৩ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২৫, ২০২৫

সিলেটে আলী আমজদের ঘড়িঘরে নতুন স্থাপনা নির্মাণ ব’ন্ধে’র দাবি

সিলেটের প্রতীকখ্যাত ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা আলী আমজদের ঘড়িঘরে নতুন স্থাপনা নির্মাণ বন্ধ ও ইতোমধ্যে নির্মিত কাঠামো অপসারণের দাবি জানিয়েছে কয়েকটি নাগরিক ও পরিবেশবাদী সংগঠন।

সোমবার (২৫ আগস্ট) সকালে ধরিত্রী রক্ষায় আমরা, সংক্ষুব্ধ নাগরিক আন্দোলন এবং পরিবেশ ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ ট্রাস্টের প্রতিনিধিরা জেলা প্রশাসক মো. সারোয়ার আলমের কাছে এ সংক্রান্ত একটি স্মারকলিপি প্রদান করেন।

এসময় উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ ট্রাস্টের ডা. শাহ মোস্তফা জামান, ধরিত্রী রক্ষায় আমরা সিলেটের সদস্য সচিব আব্দুল করিম কিম, সম্মিলিত নাট্য পরিষদ সিলেটের প্রধান পরিচালক শামসুল বাসিত শেরো ও সংক্ষুব্ধ নাগরিক আন্দোলনের বেলায়েত হোসেন লিমন প্রমুখ।

স্মারকলিপিতে বলা হয়, ১৫১ বছরের ঐতিহ্যবাহী আলী আমজদের ঘড়িঘর শুধু একটি স্থাপনা নয়, এটি সিলেটের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও নাগরিক পরিচয়ের প্রতীক। ১৮৭৪ সালে পৃথিমপাশার জমিদার নবাব আলী আমজদ খান নির্মিত এই স্থাপনাটি সুরমা নদীর তীরে সিলেটের অস্তিত্ব ও ঐতিহ্যের দৃশ্যমান নিদর্শন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তবে সম্প্রতি ঘড়িঘরের ভেতরে জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মরণে ’জুলাই স্তম্ভ’ নির্মাণের কাজ শুরু হওয়ায় সংগঠনগুলো গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে।

তারা উল্লেখ করেন, মুক্তিকামী সংগ্রামের ইতিহাসে জুলাই আন্দোলনের গুরুত্ব অস্বীকার করা যায় না, তবে ঐতিহাসিক স্থাপনার গায়ে নতুন কাঠামো চাপিয়ে দেওয়া সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণের মৌলিক নীতির পরিপন্থী।



স্মারকলিপিতে আরও বলা হয়, রিকাবিবাজারে কবি নজরুল অডিটোরিয়ামের পাশে ইতোমধ্যেই একটি জুলাই স্তম্ভ নির্মাণাধীন রয়েছে। একই উদ্দেশ্যে আরেকটি কাঠামো নির্মাণ অপ্রয়োজনীয় এবং এতে ঘড়িঘরের ঐতিহাসিক মর্যাদা ও স্থাপত্যের নান্দনিকতা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে দায়িত্বহীনতা ও ঐতিহ্য অবমাননার নজির হয়ে থাকবে।

নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, জুলাই আন্দোলনের স্মৃতি সংরক্ষণের জন্য সিলেট শহরে বিকল্প স্থান রয়েছে। সেখানে স্মারক বা স্তম্ভ নির্মাণ করা যেতে পারে, কিন্তু তা কখনোই ঐতিহ্যের ক্ষতির বিনিময়ে হওয়া উচিত নয়।

স্মারকলিপিতে জরুরি ভিত্তিতে আলী আমজদের ঘড়িঘরে চলমান নির্মাণকাজ বন্ধ এবং ইতোমধ্যে নির্মিত কাঠামো অপসারণের দাবি জানানো হয়।


 

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট