জকিগঞ্জ-কানাইঘাটের উন্নয়ন না হলে কঠোর আন্দোলনের হুশিয়ারি

প্রকাশিত: ৫:৪৬ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ২৭, ২০২৫

জকিগঞ্জ-কানাইঘাটের উন্নয়ন না হলে কঠোর আন্দোলনের হুশিয়ারি

সিলেটের সীমান্তবর্তী উপজেলা জকিগঞ্জ-কানাইঘাট। উন্নয়নের দিকে থেকে উপজেলাগুলোর থেকে অনেকাংশে পিছিয়ে রয়েছে। বিশেষ করে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, রাস্তাঘাট ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন বঞ্চনার গত ১৭ বছরের ইতিহাস খুবই নির্মম। সকল ক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়া জকিগঞ্জ-কানাইঘাটবাসীর বঞ্চনার দিক তুলে ধরেছেন সিলেট জেলা বিএনপির ১ম সহ সভাপতি মামুনুর রশিদ মামুন।

রোববার (২৭ এপ্রিল) দুপুরে নগরের একটি অভিজাত রেস্তোঁরায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি উন্নয়ন বঞ্চনার ফিরিস্তি তুলে ধরে কঠোর হুশিয়ারি দেন। সংশ্লিষ্টরা কাজ না করলে দুই উপজেলার জনগণকে সঙ্গে নিয়ে বিএনপি আন্দোলনে নামবে বলেও হুশিয়ারি দেন।

লিখিত তিনি বলেন, সীমান্তবর্তী উপজেলা হলো জকিগঞ্জ ও কানাইঘাট। উন্নয়ন বঞ্চিত এ দু’উপজেলা নিয়ে সংসদীয় সিলেট-৫ আসন। গত ১৭ বছরে দুই উপজেলায় কোনো উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি। যে কারণে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও যোগাযোগ ব্যবস্থাসহ নানামুখী সমস্যায় জর্জরিত এ দুই অঞ্চলের মানুষ। অবস্থা দৃষ্টে বলা চলে ‘সর্বাঙ্গে ব্যাথা ঔষন দিব কোথা’।

সম্প্রতি যোগাযোগ ব্যবস্থার এতটাই বেহাল, সড়কগুলোতে গাড়ি চলাচলের অনুপযোগি হয়ে পড়েছে। সাধারণ মানুষের কষ্ট ও দুর্ভোগের কথা চিন্তা করে দ্রুত সড়ক মেরামতের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি।

এ ইস্যুতে স্থানীয়ভাবে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতেও যোগাযোগ করেও ফলপ্রসূ না হওয়ায় এবার আন্দোলনের হুমকি দিয়েছেন নেতৃবৃন্দ।

মামুনুর রশিদ বলেন, জেলা সদর থেকে প্রায় ১০০ কি.মি দূরে জকিগঞ্জ এবং কানাইঘাটেরও দূরত্ব ৭০ কিলোমিটার। জেলা সদর হতে এমন দূরবর্তী উপজেলা বাংলাদেশের অন্য কোথাও খুব কমই আছে। গত ২০২২ সালের বন্যার পর এই দুই উপজেলার ছোট-বড় সব রাস্তার অবস্থা খুবই শোচনীয় হয়ে পড়ে। প্রধান সড়কগুলোর সমস্যাও নাজুক। উপজেলার প্রত্যেকটি রাস্তায় বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এতে জনদুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করছে। এছাড়াও উপজেলা ও পৌর এলাকার সকল ফিডার রাস্তা দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়া খানাখন্দ ও গর্ত তৈরী হয়ে অবস্থা বেহাল।

কানাইঘাট উপজেলার চিত্র আরো ভয়াবহ। জেলা সদরের সাথে কানাইঘাট উপজেলার যোগাযোগের একমাত্র রাস্তা গাজী বুরহান উদ্দিন (রহ.) সড়কটি যেনো নরকের পথ হয়ে আছে।

এসব সড়কে আওয়ামী লীগের আমলে কোন ধরনের উন্নয়ন হয়নি। এরপরও বন্যায় আরেক দফা ক্ষত-বিক্ষত হয়েছে। সম্পূর্ণ রাস্তায় বড় বড় গর্ত ও খানা-খন্দকে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন সাধারণ মানুষ।

এছাড়া কানাইঘাট-দরবস্ত রাস্তা, গাছবাড়ি-হরিপুর রাস্তা, কানাইঘাট- সুরইঘাট রাস্তা, চতুল-সুরইঘাট-বড়বন্দ রাস্তাসহ উপজেলা ও পৌর এলাকার প্রত্যেকটি ফিডার রাস্তার অবস্থা অত্যন্ত শোচনীয়। রাস্তাগুলোতে প্রতিদিন নানা দুর্ঘটনা ঘটছে। সাধারণ মানুষের পাশাপাশি স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসাগামী কোমলমতি শিক্ষার্থীদেরকেও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন চলাচল করতে হয়।

বিশেষ করে ডেলিভারী ও জটিল রোগিদেরকে নিয়ে বিড়ম্বনার তো আর শেষ নেই। বিএনপি গণমানুষের দল হিসেবে জনগণকে এই দুর্ভোগ থেকে রক্ষা করার লক্ষ্যে স্থানীয়ভাবে বিভিন্ন কর্মসূচি পালনের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে বিভিন্নভাবে যোগাযোগ করেছে। কিন্তু কার্যকরী কোন ফলাফল পাইনি।

উপজেলার সুরমা, কুশিয়ারা ও লোভা নদীর ভাঙনের ফলে ফসলী জমি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বাজার, রাস্তাঘাট, বসতভিটা হুমকির সম্মুখীন রয়েছে। ইতোপূর্বে নদীভঙ্গনে অনেক কিছু হারিয়েছে উপজেলাবাসী। লোভা, সুরমা ও কুশিয়ারা দুই তীরের অংশগুলো এখন অরক্ষিত। সেখানে নতুন বাধ নির্মাণের পাশাপাশি পুরাতন বাধ মেরামত এখন সময়ের দাবি।

কিছুদিন আগে জকিগঞ্জের বারঠাকুর ইউনিয়নের শরীফগঞ্জের রহিমপুর খালের সুইচ গেইট নির্মাণ ভারতের বিএসএফ’র বাধায় বন্ধ হয়ে যায়। বাংলাদেশের অভ্যন্তরে বিএসএফ’র এ ধরনের বাধা ভারতের আগ্রাসনের বহিঃপ্রকাশ। বিএনপির নেতৃবৃন্দ এর তীব্র নিন্দা জানান। একই সাথে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে ভারতকে কড়া প্রতিবাদ জানানোর আহ্বান জানান। পাশাপাশি পুনরায় বাঁধ নির্মাণের কার্যকরী উদ্যোগ নেওয়ার জন্য সরকারের সংশ্লিষ্টদের আহবান জানান।

এদিকে, শিক্ষা ও চিকিৎসা ব্যবস্থর চিত্র আরো করুণ। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে চিকিৎসক সংকট, প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও দক্ষ নার্সের অভাব রয়েছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতেও শিক্ষক শূন্যতা, একাডেমিক ভবন ও পাঠদানের উপকরণ সংকটসহ নানামুখী সমস্যা রয়েছে। এছাড়া মাদক ও চোরাকারবারিদের দৌরাত্ম বেড়ে গেছে। সীমান্তবর্তী অন্যান্য উপজেলার মতো জকিগঞ্জ ও কানাইঘাটের কয়েকটি এলাকা চোরাচালানের নিরাপদ রুট হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। কিছুতেই এসব বন্ধ হচ্ছেনা। যে কারণে এলাকায় দিন দিন অপরাধ বৃদ্ধি পাচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। তাই চোরাচালান রোধে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণে সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

মামুনুর রশিদ বলেন, সাধারণ মানুষকে এসব দুর্ভোগ থেকে রক্ষার জন্য বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে বিএনপি। আগামী ৫মে সকাল ১১টায় সিলেটের ঐতিহাসিক কোর্ট পয়েন্টে মানববন্ধন করবে জকিগঞ্জ ও কানাইঘাট বিএনপি। ওইদিন সিলেটের জেলা প্রশাসক বরাবরে একটি স্মারকলিপি দেওয়া হবে। পরদিন ৬ মে থেকে মাসব্যাপি দুই উপজেলায় গণ সংযোগ ও লিফলেট বিতরণ করা হবে। দীর্ঘ এই সময়ের মধ্যেও যদি সরকারের টনক না নড়ে এবং দৃশ্যমান কোনো প্রক্রিয়া না দেখা যায়, তখন কঠোর আন্দোলনে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেবো। প্রয়োজনে জকিগঞ্জ ও কানাইঘাট থেকে সর্বস্তরের মানুষকে নিয়ে আগামী ১৮ জুন সিলেট এলজিডি ভবন ঘেরাও করে অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হবে। এরপরও যদি কোন ধরনের ফলাফল না আসলে দুই উপজেলার বিএনপি নেতৃবৃন্দসহ সর্বস্তরের মানুষ নিয়ে আরো কঠোর কর্মসূচির পরিকল্পনায় যাবো।

সংবাদ সম্মেলনে জকিগঞ্জ ও কানাইঘাট উপজেলার জনপ্রতিনিধি, বিএনপি ও দলের অংগ সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।