কোটা আন্দোলন : সিলেটে সাংবাদিকসহ নিহত ২, আহত শতাধিক

প্রকাশিত: ৯:১০ অপরাহ্ণ, জুলাই ২৪, ২০২৪

কোটা আন্দোলন : সিলেটে সাংবাদিকসহ নিহত ২, আহত শতাধিক

কোটা সংস্কার আন্দোলনে রণক্ষেত্রে পরিণত হয় সিলেট। শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ফটক থেকে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে নগরজুড়ে।

গত বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) ও শুক্রবার (১৯ জুলাই) দফায় দফায় পুলিশ ও ছাত্রলীগের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষ চলাকালে গুলিতে নিহত হন সাংবাদিক এটিএম তুরাব ও পুলিশের ধাওয়া খেয়ে পালাতে গিয়ে পানিতে পড়ে রুদ্র সেন নামে শাবির এক ছাত্র মারা যান।

পৃথক ঘটনায় অন্তত শতাধিক শিক্ষার্থী, পথচারি, সাংবাদিক ও পুলিশ আহত হন।

শুক্রবার (১৯ জুলাই) রাত ১২টা থেকে প্রথম ধাপে কারফিউ জারি করা হয়। ওইদিন সকাল থেকে দিনভর সংঘাতময় ছিল সিলেট নগরের বন্দরবাজার, সিটি পয়েন্ট, কোর্ট পয়েন্ট, জিন্দাবাজার, আখালিয়া, শাবিপ্রবি ফটকে পৃথক সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এছাড়া নগরের দক্ষিণ সুরমা, কদমতলী এলাকায়ও সংঘর্ষ হয়। এসব এলাকায় কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর করে আন্দোলনকারীরা।

গত বৃহস্পতিবার কমপ্লিট শাটডাউনের দিনে রণক্ষেত্রে পরিণত হয় সিলেট। সকালে বিশ্ববিদ্যালয় ফটক থেকে শুরু হওয়া সংঘাত ছড়িয়ে পড়ে নগরীতেও।

ওইদিন কমপ্লিট শার্টডাউন পালনকালে দুপুরে কোটা সংস্কার আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা শাবিপ্রবি ক্যাম্পাসে প্রবেশের চেষ্টা করে। কিন্তু পুলিশী বাধায় বিশ্ববিদ্যালয় ফটকের সামনে সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়ক অবরোধ করে রাখে তারা।

বেলা ১টার দিকে পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। পরে পুলিশ বেশ কয়েকটি সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এরপর বিশ্ববিদ্যালয় ফটক থেকে নগরীর মদিনা মার্কেট পর্যন্ত ২ কিলোমিটার এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। বিকেলে নগরীর আখালিয়া এলাকায় পুলিশ-ছাত্রলীগের মোকাবেলা করে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা।

এসময় ত্রিমুখী সংঘর্ষে গুলিতে ৭ পুলিশ, ছয় সাংবাদিক ছাড়াও অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী গুলিবিদ্ধ ও ইটপাটকেলের আঘাতে আহত হন। এরপর সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে নগরের সুরমা গেইট এলাকায় পুলিশের ধাওয়া খেয়ে আন্দোলনকারী চার শিক্ষার্থী পানিতে পড়ে যান।

দিয়েছে। এই হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবি করেন তিনি।

এই ঘটনার পর শুক্রবার রাতেও নগরীর আখালিয়া, মদীনা মার্কেট, পাঠানটুলা, জিন্দাবাজার, কোর্ট পয়েন্ট, বন্দরবাজার এলাকায় দফায় দফায় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ হয় আন্দোলনকারীদের। পৃথক ঘটনায় রাতে গুলিবিদ্ধ হয়ে অন্তত অর্ধশতাধিক আন্দোলনকারীরা ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।

অপরদিকে, দেশজুড়ে সংঘাত ছড়িয়ে নাজুক পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ায় শনিবার রাত ১২টা থেকে সেনা মোতায়েন ও কারফিউ ঘোষণা করা হয়। কারফিউ চলাকালে সিলেটের কোথাও কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীরা রাস্তায় নামেননি। নগরের রাস্তাঘাটে মানুষের চলাচল ছিল সীমিত। দোকানপাট, বিপনী বিতান, মার্কেট, অফিস-আদালত বন্ধ রাখা হয়। কেবল জরুরী সেবার আওতায় থাকা হাসপাতাল, ক্লিনিক, ফার্মেসী, অ্যাম্বুলেন্স, বিদেশী যাত্রীবাহি যানবাহন, গণমাধ্যম কর্মীদের ব্যবহৃত যানবাহন চলাচল করতে দেখা গেছে। এর বাইরেও নগরীতে সিএনজি চালিত অটোরিকশা, ব্যাটারি ও প্যাডেল চালিত রিকশা ছাড়াও হালকা যানবাহন চলাচল করতে দেখা গেছে। নগরীর বিভিন্ন এলাকায় সেনাবাহিনীর টহল টিম চষে বেড়িয়েছে। সেই সঙ্গে পুলিশ, বিজিবি, আনসার সদস্যরা মোতায়েন ছিল।


 

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট