সিলেটে বন্যায় আক্রান্ত ১০ হাজার মানুষ এখনো আশ্রয় কেন্দ্রে

প্রকাশিত: ১০:৩৮ অপরাহ্ণ, জুলাই ৭, ২০২৪

সিলেটে বন্যায় আক্রান্ত ১০ হাজার মানুষ এখনো আশ্রয় কেন্দ্রে

সিলেটে চলছে তৃতীয় দফা বন্যা পরিস্থিতি। বর্তমানে সিলেট জেলার সব উপজেলায়ই রয়েছেন পানিবন্দী মানুষ। জেলার সহস্রাধিক গ্রামের সাড়ে ৫ লাখ মানুষ এখনো বন্যা আক্রান্ত। গত চার দিনে বন্যা পরিস্থিতির অনেকটা উন্নতি হওয়ায় মানুষজন বাড়ি ফিরতে শুরু করলেও এখনো প্রায় ১০ হাজার মানুষ আছেন আশ্রয়কেন্দ্রে। তবে বেসরকারি হিসাবে এ সংখ্যা আরও বেশি বলে জানা গেছে। এছাড়া এখনো সিলেটের সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানি কয়েকটি পয়েন্টে রয়েছে বিপৎসীমার উপরে।

সিলেটে গত ২৭ মে আগাম বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। দুই সপ্তাহব্যাপী স্থায়ী এ বন্যায় পানিবন্দী ছিলেন জেলার সাড়ে ১০ লাখেরও বেশি মানুষ। প্রথম বন্যার পানি পুরোপুরি নামার আগেই ১৫ জুন ফের বন্যা হয় সিলেটে। বিশেষ করে ঈদুল আযহার দিন ভোররাত থেকে মাত্র কয়েক ঘণ্টার অতিভারী বর্ষণে মহানগরসহ সিলেটের সব উপজেলায় লাখ লাখ মানুষ হয়ে পড়েন পানিবন্দী। পরবর্তী এক সপ্তাহ সিলেটে বন্যা পরিস্থিতি ছিলো ভয়াবহ। এরপর পানি নামতে শুরু করে। তবে সে গতি ছিলো খুব ধীর। দ্বিতীয় দফা বন্যা শেষ হওয়ার আগেই গত ৩০ জুন সিলেটে ধাক্কা দেয় তৃতীয় দফা বন্যা। দুদিনের মাথায় আবারও বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়ে জেলার সব উপজেলার অন্তত ১০ লাখ মানুষ হয়ে পড়েন পানিবন্দী।

তবে গত চারদিন ধরে সিলেটে ও উজানে হচ্ছে না ভারী বৃষ্টি। ফলে সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে। তবে বন্যার পানি নামছে খুব ধীর গতিতে।

এছাড়া এক মাসেরও অধিক সময় ধরে বন্যা আক্রান্ত সিলেটের মানুষ পড়েছেন চরম ভোগান্তিতে। ঘর-বাড়ি বিধ্বস্ত, গবাদিপশুর মৃত্যু, পুকুর ও খামারের মাছ ভেসে যাওয়াসহ রবিশষ্য ও মালামালের ক্ষয়ক্ষতি অব্যাহত আছে। এছাড়া বন্যাজনিত রোগবালাই ছড়াচ্ছে মানুষের মাঝে। অনেক স্থানে রয়েছে পর্যাপ্ত ত্রাণসামগ্রী, সুপেয় পানি, খাদ্য এবং শিশুখাদ্য ও গো-খাদ্যের অভাব। জেলার বেশিরভাগ সড়ক হয়েছে বিধ্বস্ত। খানা-খন্দে ভরা সড়কগুলোতে যানবাহন ও মানুষজন চলাচলে পোহাতে হচ্ছে অবর্ণনীয় ভোগান্তি।

সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো বলছে- সিলেটে টানা বন্যায় সার্বিকভাবে অন্তত ১৫শ’ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তবে বন্যা পরিস্থিতির পুরোপুরি উন্নতি না হলে ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ জানা যাবে না। বন্যার পানি পুরোপুরি নেমে গেলে প্রত্যেকটি উপজেলা প্রশাসন ফরম-ডি পূরণ করে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানাবেন।

বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে জেলা প্রশাসনের দেওয়া সর্বশেষ তথ্যের ভিত্তিতে জানা গেছে, রবিবার (৭ জুলাই) দুপুর পর্যন্ত সিলেটে ৫ লাখ ৭৪ হাজার মানুষ পানিবন্দী। বর্তমানে জেলার ১ হাজার ১১৬টি গ্রাম প্লাবিত। আশ্রয়কেন্দ্রে আছেন ৯ হাজার ৮৩৪ জন।

জেলা প্রশাসন বলছে- বন্যার্ত মানুষের মাঝে ত্রাণসামগ্রী ও রান্না করা খাবার বিতরণ অব্যাহত রয়েছে। এছাড়া জেলা ও প্রত্যেক উপজেলা প্রশাসন কার্যালয়ে স্থাপিত কন্ট্রোল রুম থেকে বন্যা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। প্রতি ইউনিয়নে গঠিত মেডিকেল টিম বন্যার্ত অসুস্থ মানুষকে প্রদান করছে স্বাস্থ্যসেবা।

পানি উন্নয়ন বোর্ড সিলেট কার্যালয় সূত্র রবিবার বিকালে জানায়, এসময় পর্যন্ত সিলেটের সুরমা নদীর ১টি ও কুশিয়ারার ৩টি পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার উপরে। তবে সিলেটের সব নদ-নদীর পানি হৃাস অব্যাহত রয়েছে। তবে আগামী ২-৩ দিন সিলেটে ভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস রয়েছে।


 

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট