সিলেটে বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি, মানুষ বাড়ি ফিরছে

প্রকাশিত: ৫:০৬ অপরাহ্ণ, জুন ১, ২০২৪

সিলেটে বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি, মানুষ বাড়ি ফিরছে

গত ৩দিন বৃষ্টি কম হওয়ায় সিলেটে বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। ঢল থামায় বন্যা কবলিত উপজেলাগুলোতেও বন্যার পানি কমতে শুরু করেছে।আশ্রয় কেন্দ্র থেকে মানুষ বাড়ি ফিরতে শুরু করেছে। সিলেটের নদ নদীগুলোর বেশ কয়েকটি পয়েন্টের পানি এখনো বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে এখনো পানিবন্দি অনেক মানুষ।

সুরমা নদীর পানি সিলেট নগরীর নিচু এলাকায় ঢুকে পড়ায় মহানগরের বেশ কিছু এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। পানি বাসা ও রাস্তায় চলে আসায় মহানগরের উপশহর, সুবহানিঘাট, যতরপুর, মেন্দিবাগ, কাজিরবাজার, মাছিমপুর, তালতলা সহ বেশ কিছু এলাকার মানুষ চরম ভোগান্তিতে আছেন।

সিলেট সিটি করপোরেশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা সাজলু লস্কর জানান, কাউন্সিলরদের দেওয়া তথ্যমতে নগরীতে বন্যায় আক্রান্ত হয়েছেন ৪ হাজার পরিবার। তাদের পর্যাপ্ত পরিমাণ শুকনো খাবার পাঠানো হয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড সিলেটের শনিবার (১ জুন) বেলা ১২টায় দেওয়া তথ্যমতে, সুরমা নদীর পানি কানাইঘাট পয়েন্টে বিপদসীমার ৮৩ সেন্টিমিটার ও সিলেটে ৭ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। অপরদিকে, কুশিয়ারা নদীর পানি অমলসিদ পয়েন্টে বিপদসীমার ১৯২ সেন্টিমিটার ও শেওলা পয়েন্টে ৮ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে ।

তবে সকাল ৬টা এবং ৯টায় সুরমার কানাইঘাট ও কুশিয়ারার দুইটি পয়েন্টে পানি ১ থেকে ৩ সেন্টিমিটার কমলেও সুরমার সিলেট পেয়েন্ট তা অপরিবর্তিত রয়েছে।

ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢল না নামলে আগামী ৩-৫ দিনের মধ্যে বন্যা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে পারে বলে জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।

এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সিলেটের নির্বাহী প্রকৌশলী দীপক রঞ্জন দাশ।

সিলেট আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ শাহ মোহাম্মদ সজীব হোসাইন জানান, গত ২৪ ঘন্টায় সিলেটে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ছিল ৭ দশমিক ৩ মিলিমিটার।

এদিকে পাহাড়ি ঢলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত গোয়াইনঘাট, কোম্পানীগঞ্জ, কানাইঘাট ও জকিগঞ্জের পানি কমতে থাকায় দৃশ্যমান হচ্ছে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ। গ্রামাঞ্চলের পানি কমতে শুরু করায় ভেসে উঠছে ক্ষয়ক্ষতির চিহ্ন। বিশেষত বন্যার পানিতে গ্রামীণ সড়কগুলো ক্ষতবিক্ষত হয়ে পড়েছে। এছাড়া কৃষিতেও বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে চলতি বন্যায়। আর উন্নতি হয়েছে বিয়ানীবাজার ও গোলাপগঞ্জের বন্যা পরিস্থিতির।

শনিবার সিলেটের জেলা প্রশাসন থেকে জানানো হয়েছে, বন্যায় আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা কমেছে। শুক্রবার জেলায় বন্যা আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ৬ লাখ ৪৩ হাজার ৪৭০ জন, আর শনিবার সেটি কমে দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৯ হাজার ৩৩ জনে। আশ্রয় কেন্দ্রে থাকা প্রায় ৫ হাজার মানুষের মধ্যে ইতিমধ্যেই বাড়িতে ফিরেছেন দেড় হাজার মানুষ।

ঘূর্ণিঝড় রিমালের প্রভাবে সিলেটে গত সোমবার (২৭ মে) ভোররাত থেকে শুরু হয় বৃষ্টি। কখনো থেমে থেমে মাঝারি, কখনো গুঁড়ি গুঁড়ি হয়ে ঝরেছে। সঙ্গে ছিলো দমকা বাতাস।

এর দুই দিন পরে বুধবার (২৯ মে) থেকে ভারী বৃষ্টি ও হঠাৎ উজান থেকে নেমে আসা ঢলে সিলেটের ৭ উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। সুরমার পাড়ঘেষা নগরীর নিম্নাঞ্চলসহ উপশহররের কয়েকটি এলাকায় পানি প্রবেশ করে জলাবদ্ধতার সৃস্টি করে।


 

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট