সিলেটের তিন উপজেলায় ৪ স্টেডিয়াম ও পার্কের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন

প্রকাশিত: ১০:১৫ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ২০, ২০২৪

সিলেটের তিন উপজেলায় ৪ স্টেডিয়াম ও পার্কের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন

সিলেটের দক্ষিণ সুরমা, ফেঞ্চুগঞ্জ ও বালাগঞ্জ উপজেলার চারটি স্টেডিয়াম ও পার্কের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে।প্রয়াত সংসদ সদস্যদের ও বিভিন্ন শ্রেণী পেশার বরণীয় ব্যক্তিদের নামে তৈরি করা হচ্ছে এসব মিনি স্টেডিয়াম ও পার্ক।

শনিবার (২০ এপ্রিল) এসব স্টেডিয়াম ও পার্কের নির্মাণকাজের আনুষ্ঠানিক ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন এমপি হাবিবুর রহমান হাবিব। এসময় উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাবৃন্দ ও সর্বস্থরের জনসাধারণ উপস্থিত ছিলেন।

সিলেট-৩ আসনের প্রতিটি ইউনিয়নে নির্মাণ করা হবে একটি করে মিনি স্টেডিয়াম ও পার্ক। সরকারি ও বেসরকারি অর্থায়নে এগুলো বাস্তবায়িত হবে। এরই ধারাবাহিকতায় আজ দক্ষিণ সুরমা উপজেলার মোল্লারগাঁও ইউনিয়নের কামাল বাজার এলাকায় শেখ রাসেল শিশু পার্ক, সিলাম ইউনিয়নের বাদশাহী টিলায় খেলার মাঠ ও কাজী সিরাজ এমপি শিশু পার্ক, বালাগঞ্জ উপজেলার পূর্ব পৈলনপুর ইউনিয়নের পূর্ব ইছাপুরে সিলেট জেলা পরিষদের প্রয়াত চেয়ারম্যান এডভোকেট লুৎফুর রহমানের নামে খেলার মাঠ ও ফেঞ্চুগঞ্জে এশিয়ার অন্যতম বৃহত্তম মিঠাপানির জলাভূমি খ্যাত বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ হাওর হাকালুকি নামে ‘হাকালুকি খেলার মাঠের ভিত্তিপ্রস্থর স্থাপন করা হয়।

সংশ্লিষ্টরা জানান, তরুণ প্রজন্মকে মুঠোফোনে আসক্তি এবং মাদক থেকে দূরে রাখতেই এমন উদ্যোগ নিয়েছেন তিনি। এতে ব্যাপক প্রশংসিত হচ্ছে এমপি হাবিব।

প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দক্ষিণ সুরমা, ফেঞ্চুগঞ্জ ও বালাগঞ্জ উপজেলায় ১৯টি ইউনিয়ন রয়েছে। এসব ইউনিয়নে ১৯টি মিনি স্টেডিয়াম ও পার্ক তৈরি করা হবে। একেকটি স্টেডিয়াম দেড় থেকে তিন একর জায়গাজুড়ে হবে। প্রতিটি পার্ক হবে ২০ শতক জায়গার মধ্যে। এর বাইরে প্রতিটি উপজেলায় আরও একটি করে মোট তিনটি শেখ রাসেল শিশুপার্ক নির্মিত হবে। সব কটি স্থাপনাই খাসজমিতে হচ্ছে। তবে দুটি স্থাপনার জায়গা স্থানীয় দুজন ব্যক্তি দান করেছেন। এসব স্টেডিয়াম ও পার্ক নির্মাণে খাসজমি যথাযথ নিয়ম অনুসরণ করে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে সিলেট-৩ আসনের এমপি হাবিবুর রহমান বলেন- কিশোর-তরুণ-যুবক প্রজন্ম দিন দিন ভার্চুয়াল জগতে জিম্মি হয়ে পড়েছে। অনেকে ঘর থেকে বেরই হয় না। এ ছাড়া ঘরে বসে কম্পিউটারে গেমস খেলছে, খারাপ অনেক কিছুও যে দেখছে তা বলা যাচ্ছে না। এসবের ফলে তাদের শারীরিক বিকাশও ঘটছে না, বরং ধ্বংস হচ্ছে। এসব ভেবেই নির্বাচনের আগে দক্ষিণ সুরমা, ফেঞ্জুগঞ্জ ও বালাগঞ্জের প্রতিটি ইউনিয়নে একটি করে স্টেডিয়াম ও পার্ক নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম। সেগুলো এখন বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

তিনি জানান, উপজেলা প্রশাসনের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কার্যালয় মিনি স্টেডিয়াম ও পার্ক নির্মাণ করবে। একেকটি স্টেডিয়াম নির্মাণে বাজেট ধরা হয়েছে এক কোটি টাকা। তার পাঁচ বছর মেয়াদে গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ (টিআর) এবং গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার (কাবিটা-কাবিখা) কর্মসূচির আওতায় যে বরাদ্দ পাবেন, সেখান থেকে এখানে বরাদ্দ দেবেন। বাকি টাকা এলাকার বিভিন্ন প্রবাসী ও ধনাঢ্য ব্যক্তিরা দেবেন বলে কথা দিয়েছেন।

পাঁচ বছরের মধ্যে এসব স্থাপনার নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার সময়সীমা নির্ধারণ করা হলেও এক থেকে দুই বছরের মধ্যে বেশ কিছু স্টেডিয়ামের নির্মাণকাজ পুরোপুরি শেষ করে খেলার জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে বলে জানান সংসদ সদস্য।


 

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট