সিলেটে স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা সালাম ৩ দিনের রিমান্ডে

প্রকাশিত: ১০:৩৪ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ৩, ২০২৪

সিলেটে স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা সালাম ৩ দিনের রিমান্ডে

সিলেটে ‘ভালো কাজ’ দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে এক তরুণীকে দুই মাস আটকে রেখে ধর্ষণের মামলায় গ্রেফতার হওয়া সিলেট মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের আওতাধীন ১১ নং ওয়ার্ডের বহিষ্কৃত সভাপতি আব্দুস সালামের তিনদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

বুধবার (৩ এপ্রিল) দুপুরে সিলেট মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে রিমান্ড শুনানিকালে আদালতের বিজ্ঞ বিচারক সুমন ভূইয়া এ আদেশ দেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সুমন কুমার চৌধুরী।

তিনি বলেন, গতকাল মঙ্গলবার র‍্যাব কর্তৃক তরুণীকে ধর্ষণ মামলায় আটকের পর তারা আসামীকে কোতোয়ালি মডেল থানায় প্রেরণ করে। আজ বুধবার ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামী আব্দুস সালামকে আদালতে হাজির করে পাঁচ দিনের রিমান্ডের জন্য আবেদন করলে আদালত তিনদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

এর আগে ধর্ষণের অভিযোগে গত ২৯ মার্চ রাতে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের কোতোয়ালি থানায় অভিযুক্ত স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতা ও তার দুই সহযোগীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী তরুণীর মা। মামলায় আব্দুস সালামকে প্রধান আসামী করা হয়েছে। এছাড়াও তার সহযোগী নগরীর লালাদিঘির পার এলাকার আব্দুর রহিমের ছেলে আব্দুল মনাফ (৩৮), ঘাসিটুলা মতিন মিয়ার কলোনীর বাসিন্দা রেখা বেগম (৩০) এবং আরও দুই-তিনজনকে অজ্ঞাতনামা করে আসামী করা হয়েছে।

এদিকে তরুণীকে আটকে রেখে ধর্ষণের ঘটনায় ৩১ মার্চ রোববার সন্ধ্যায় সিলেট মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় ১১ নম্বর ওয়ার্ড কমিটির সভাপতির দায়িত্ব থেকে আব্দুস সালামকে বহিষ্কার করা হয়। একই সঙ্গে ওই ওয়ার্ড কমিটি বিলুপ্ত করা হয়।

এ বিষয়ে সিলেট মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক দেবাংশু দাস মিঠু বলেন, সংগঠনের গঠনতন্ত্র বিরোধী কর্মকান্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হওয়ায় মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের ১১ নম্বর ওয়ার্ড কমিটির সভাপতি আব্দুস সালামকে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই সঙ্গে ওই ওয়ার্ড কমিটি বিলুপ্ত করা হয়েছে।

মামলা সূত্রে জানা যায়, নির্যাতিতা ওই তরুণী নগরীর শেখঘাটের একটি বোতল ফ্যাক্টরিতে কাজ করতো। পরিবারের সদস্যরা ওই তরুণীকে সিলেট শহরের বাসায় রেখে গ্রামের বাড়িতে বেড়াতে যান। এই সুযোগে একই কলোনির বাসিন্দা রেখা বেগম লালদিঘীরপাড়ের আব্দুস সালামের সাথে তরুণীকে পরিচয় করিয়ে দেয়। আবদুস সালাম ‘ভালো কাজ’ দেওয়ার প্রলোভন দেখায় তরুণীকে। গত ৭ জানুয়ারি রেখা বেগম ভালো কাজের কথা বলে তরুণীকে আব্দুস সালামের লালদিঘীরপাড়স্থ বাসায় নিয়ে যায়। পরে বাসার একটি রুমে ২২ দিন আটকে রেখে আব্দুস সালাম তাকে ধর্ষন করে।পরিবারের সদস্যরা সিলেট নগরীর বাসায় ফিরে তরুণীকে না পেয়ে সম্ভাব্য সকল স্থানে খোঁজাখুজি করেন। কোথাও না পেয়ে থানায় জিডি করতে চাইলে রেখা বেগম বাধা দিয়ে তাদেরকে আবদুস সালামের কাছে নিয়ে যায়। আব্দুস সালাম তরুণীকে উদ্ধারের ব্যাপারে আশ্বাস দেয়। কয়েকদিন পর পরিবারের সদস্যরা আবারও আব্দুস সালামের কাছে গেলে সে জানায় লন্ডন প্রবাসী একটি পরিবারের কাছ থেকে তরুণীকে উদ্ধার করা হয়েছে। ওই সময় লন্ডন প্রবাসী পরিবারের পরিচয় জানতে চাইলে আব্দুস সালাম ক্ষেপে যায়। এসময় নির্যাতিতা তরুণী পরিবারের কাছে ধর্ষিত হওয়ার ঘটনা খুলে বললে সে (আব্দুস সালাম) প্রাণনাশের হুমকি ও তাকে বিয়ে করার প্রতিশ্রতি দেয়।

অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, এ ঘটনার ৩ দিন পর আব্দুস সালাম বিয়ের কথা বলে ওই তরুণীকে তুলে নিয়ে যায়। পরে তার সহযোগী আব্দুল মনাফের মাধ্যমে তাকে হবিগঞ্জে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। সেখানে আটকে রেখে তাকে আব্দুস সালাম ও আব্দুল মনাফসহ অজ্ঞাত আরও কয়েকজন তরুনীকে ধর্ষন করে। সেখান থেকে গত ২৬ মার্চ এক আত্মীয়ের মাধ্যমে কৌশলে তরুণীকে উদ্ধার করে আনা হয়।

কোতোয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মঈন উদ্দিন বলেন, ভিকটিম অভিযোগ দাখিলের দিনই মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে।

তিনি বলেন, ‘সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে ভিকটিমের মেডিকেল পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে এবং এখন সে তার পরিবারের কাছে রয়েছে।