জাতীয়জাতীয় নির্বাচনের আগে ভোট বন্ধে কমলো ইসির ক্ষমতা

প্রকাশিত: ২:৪৪ অপরাহ্ণ, জুলাই ৫, ২০২৩

জাতীয়জাতীয় নির্বাচনের আগে ভোট বন্ধে কমলো ইসির ক্ষমতা

বিরোধী দলীয় সদস্যদের তীব্র আপত্তি সত্ত্বেও মঙ্গলবার (৪ জুলাই) ভোট বন্ধে নির্বাচন কমিশনের ক্ষমতা কমিয়ে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের (আরপিও) সংশোধনী বিল পাস হয়েছে সংসদে। যদিও আইনমন্ত্রী আনিসুল হক দাবি করেছেন, ইসির ক্ষমতা কমেনি। কিছু কেন্দ্রে গন্ডগোল হলে পুরো কেন্দ্রের ভোট বন্ধ করে দেওয়া অগণতান্ত্রিক। তাই এই সংশোধনী আনা হয়েছে।

আইনমন্ত্রী আনিসুল হক সংসদে ‘রিপ্রেজেন্টেশন অব দ্য পিপল (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল ২০২৩’ উত্থাপন করলে তা কণ্ঠভোটে পাস হয়। এর আগে বিরোধী দলের বাছাই কমিটিতে পাঠানো ও সংশোধনী প্রস্তাবগুলো কণ্ঠভোটে নিষ্পত্তি হয়।

তবে বিরোধী দলের সদস্যরা বলছেন, ইসি একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান। তাদের হাতে ক্ষমতা থাকলে সমস্যা হওয়ার কথা নয়। ইসি প্রয়োজনে ক্ষমতা ব্যবহার করবে। ক্ষমতা কেড়ে নিলে প্রয়োজন হলেও ব্যবহারের সুযোগ থাকবে না। সংবিধান অনুযায়ী, আগামী জানুয়ারি মাসের মধ্যে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন হবে। নির্বাচন কমিশন আভাস দিয়েছে, আগামী ডিসেম্বরের শেষে বা জানুয়ারি মাসের শুরুতে সংসদ নির্বাচন হবে।

বর্তমান আরপিও অনুযায়ী, অনিয়ম বা বিরাজমান বিভিন্ন অপকর্মের কারণে ইসি যদি মনে করে তারা আইনানুগ নির্বাচন করতে সক্ষম হবে না, তাহলে নির্বাচনের যেকোনো পর্যায়ে ভোট বন্ধ করতে পারে। এখন এই ক্ষমতা সীমিত করে ইসিকে শুধু ভোটের দিন সংসদীয় আসনের (অনিয়মের কারণে) ভোট বন্ধ করতে পারার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।

সংশোধিত আরপিও অনুযায়ী, রিটার্নিং কর্মকর্তা ফলাফল ঘোষণা করার পর কোনো আসনের পুরো ফল স্থগিত বা বাতিল করতে পারবে না ইসি। যেসব ভোটকেন্দ্রে অনিয়মের অভিযোগ আসবে, শুধু সেসব (এক বা একাধিক) ভোটকেন্দ্রের ফলাফল স্থগিত করতে পারবে। এরপর তদন্ত সাপেক্ষে ফলাফল বাতিল করে ওই সব কেন্দ্রে নতুন নির্বাচন দিতে পারবে ইসি।

এ ছাড়া সংশোধিত আরপিওতে নির্বাচনের সংবাদ সংগ্রহের দায়িত্বে থাকা গণমাধ্যমকর্মী এবং পর্যবেক্ষকদের কাজে কেউ বাধা দিলে তাকে শাস্তির আওতায় আনার বিধান যুক্ত করা হয়েছে। এ ধরনের অপরাধে সর্বনিম্ন দুই বছর থেকে সর্বোচ্চ সাত বছর কারাদন্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

এছাড়া মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার আগের দিন পর্যন্ত সময়ের মধ্যে ক্ষুদ্র ঋণ এবং টেলিফোন, গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানির সরকারি সেবার বিল পরিশোধের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। আগে মনোনয়ন দেওয়ার ৭ দিন আগে এসব ঋণ পরিশোধ করতে হতো।

বিলের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে গণফোরাম সদস্য মোকাব্বির খান বলেন, দেশের মানুষ জাতীয় নির্বাচন নিয়ে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। নির্বাচন নিয়ে উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা দেশের বাইরেও ছড়িয়ে পড়েছে। কারণ দলীয় সরকারের অধীনে যতগুলো নির্বাচন হয়েছে, তার সবগুলোই প্রশ্নবিদ্ধ। এ ধরনের নির্বাচন বাংলার মানুষ আর চায় না। মানুষ চায় একটা নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে একটা সবার কাছে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন।

তিনি বলেন, কিছুদিন আগে বিরোধী দলের অভিযোগের প্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন-আমরা যদি ভোট চোর হই তাহলে বিএনপি ভোট ডাকাত। এই চরম সত্যটা স্বীকার করার জন্য তিনি প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, জনগণ ভোট চোর বা ভোট ডাকাতদের খেলার দর্শক হিসাবে আর থাকতে চায় না। জনগণ ভোট চোরকেও চায় না, ভোট ডাকাতদেরও চায় না। এ ধরণের পাল্টাপাল্টি অভিযোগও শুনতে চায় না। জনগণ চায় তার সাংবিধানিক মৌলিক অধিকার বাস্তবায়ন ও প্রতিফলন। সেখানে সে নির্বিঘ্নে নিশ্চিন্তে তার পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করবে।


 

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট