তিন ঘন্টার বৃষ্টিতে সিলেট নগরীতে হাটু পানি, প্রতিবাদে সড়ক অবরোধ

প্রকাশিত: ৩:০১ অপরাহ্ণ, জুন ১৪, ২০২৩

তিন ঘন্টার বৃষ্টিতে সিলেট নগরীতে হাটু পানি, প্রতিবাদে সড়ক অবরোধ

মাত্র তিন ঘন্টার বৃষ্টিতে সিলেট নগরীতে সৃষ্টি হয়েছে তীব্র জলাবদ্ধতা।একদিকে রাস্তায় নগরের একাধিক এলাকায় হাঁটুসমান পানি, অন্যদিকে নগরের বেশকিছু বিপনীবিতান ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ঢুকে পড়েছে পানি। এছাড়া নগরীর নিচু এলাকার বিভিন্ন বাসা-বাড়িতেও পানি ঢুকেছে। এতে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে নগরের বাসিন্দাদের।

বুধবার সকালে সরেজমিনে দেখা গেছে, টানা বৃষ্টির ফলে নগরের মদিনা মার্কেট, আখালিয়া, সুবিদবাজার, জালালাবাদ, হযরত শাহজালাল (র.) মাজার এলাকার পায়রা ও রাজারগল্লি, বারুতখানা, হাওয়াপাড়া, যতরপুর, ছড়ারপাড়, তালতলা, দক্ষিণ সুরমার লাউয়াই, রেলগেইট, মিরের ময়দান, হাওয়াপাড়া, জালালাবাদ, পাঠানটুলসহ বেশ কিছু এলাকার সড়ক তলিয়ে গেছে।

এছাড়া বারুতখানা এলাকার কয়েকটি দোকান এবং দর্শনদেউড়ি, জালালাবাদ হাউজ, ইদ্রিস মার্কেট ও জিন্দাবাজারের রাজা ম্যানশনের ভেতরে ঢুকে পড়েছে পানি। এদিকে রাস্তায় হাঁটুসমান পানি থাকায় যানবাহন চলাচল বাধাগ্রস্ত হয়। ধীরগতির কারণে অনেক সড়কে দেখা দিয়েছে যানজট।

নগরের ছড়ারপাড় এলাকার বাসিন্দা রাহাত আমিন বলেন, ‘সকলেই সামনের সিটি ও জাতীয় নির্বাচন নিয়ে ব্যস্ত। এদিকে একটু বৃষ্টি হলেই সিলেটের রাস্তাঘাট সমুদ্র হয়ে যায়। আমার এলাকায় হাঁটুর ওপরে পানি। ২০২২ সালে এসে দুবাই কৃত্রিমভাবে বৃষ্টিপাত করাচ্ছে আর আমরা এখনো রাস্তা-ঘাট থেকে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করতে পারি না।’

টানা বৃষ্টিতে নগরীর বেশ কয়েকটি এলাকা পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষ ও এলাকাবাসী দোষারোপ করছেন নগর কর্তৃপক্ষকে। তারা এই জলাবদ্ধতার জন্য সিটি কর্পোরেশনের উদাসীনতাকে দায়ী বলে মনে করছেন।

অনেকে বলছেন, ড্রেনেজ সিস্টেম যদি সঠিক সময় সংস্কার করে রাখা হতো, তাহলে এই ভোগান্তি জনগণকে পোহাতে হতো না। বার বার এই ভোগান্তির পর সিসিকের টনক না নড়ায় অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

রাজা ম্যানশনের পপি লাইব্রেরির সত্বাধিকারী গোলজার আহমদ বলেন, ‘সকালে ঘুম থেকে উঠেই শুনি মার্কেটে পানি ঢুকে গেছে। এসে দেখি সব শেষ। আমার দোকানের ভেতরে হাঁটুর ওপরে পানি। নিচের সব বই ভিজে নষ্ট হয়ে গেছে। কয়েক লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। একটু ভারি বৃষ্টি হলেই আমাদের মার্কেটে পানি ঢুকে যায়। এভাবে তো ব্যবসা করা সম্ভব না।’

এ ব্যাপারে জানতে সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর মোবাইলে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোনকল রিসিভ করেননি।

তবে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী নূর আজিজুর রহমান জানান, বেশি পরিমাণ বৃষ্টির কারণে ড্রেন দিয়ে পানি নামতে সময় লাগছে। সিটি করপোরেশনের টিম কাজ করছে। কোথাও ময়লা-আবর্জনার জন্য পানি আটকে গেলে তা পরিষ্কার করে দেয়া হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, সিলেট সিটি এলাকায় যে ড্রেনগুলো নতুন করে করা হয়েছে সেগুলো আরও বড় হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ঠিকাদাররা সেই ড্রেইনগুলো তৈরির সময় অনেকটা সরু করে ফেলেছে। তাই সঠিকভাবে এসকল ড্রেন দিয়ে পানি না নামায় নগরের এই জলাবদ্ধতা। ড্রেইনগুলোকে আরও বড় করতে পাড়লে হয়তো নগরে আর জলাবদ্ধতা থাকবে না।

সিলেট আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা যায়, গতকাল মঙ্গলবার রাতে ও আজ বুধবার সকালে সিলেটের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টি হয়েছে। সকাল ৬ থেকে ৯ পর্যন্ত ৪৬ দশমিক ৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। এটা স্বাভাবিক বৃষ্টিপাত। আজ সারাদিন থেমে থেমে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে বলেও জানায় আবহাওয়া অফিস।

এদিকে অপরিকল্পিত ও অনিয়ন্ত্রিত নগরায়ণের ফলে নগরের বাসা-বাড়িতে পানি উঠায় নগরীর কুমারগাঁও-বাদাঘাট সড়ক অবরোধ করেছেন স্থানীয়রা। বুধবার দুপুর ১২টার দিকে সড়ক অবরোধ করেন স্থানীয় জনসাধারণ। এ সময় অবরোধকারীরা সড়কে অগ্নিসংযোগ করেন। এতে যানজটের সৃষ্টি হয়।

পরে আসন্ন সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরীর হস্তক্ষেপে পরিস্থিত নিয়ন্ত্রণে আসে। এ সময় তিনি অবরোধকারীদের সমস্যা সমাধানে আশ্বস্ত করেন।

জানা যায়, কুমারগাঁও থেকে বাদাঘাট হয়ে বিমানবন্দর পর্যন্ত সড়ক চার লেনে উন্নীত করার কাজ শুরু হওয়ার পর থেকে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের অন্তর্ভুক্ত ৩৮ ও ৩৯নং ওয়ার্ডের বিভিন্ন ড্রেনেজ ব্যবস্থা না করেই সড়কের কাজ শুরু করায় অল্পবৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে বাসা-বাড়িতে পানি উঠছে। এতে করে পানিবন্দী হয়ে আছেন কয়েকটি এলাকার মানুষ। স্কুল-কলেজে যাতায়াত করতে পারছেনা ছেলে মেয়েরা। বিষয়টি তারা সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তরের দায়িত্বশীলদের বার বার অবগত করেছেন কিন্তু তারা কোনো ধরণের ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি।

এ কারণে বুধবার দুপুর ১২টার দিকে কুমারগাঁও-বাদাঘাট সড়ক অবরোধ করেন ৩৮ ও ৩৯নং ওয়ার্ডের মইয়াছড়,নয়া কুরুমকলা, নাজিরেরগাঁও শিমুলতলা এলাকাবাসী।

স্থানীয়রা জানান, কাজের শুরু থেকে তারা দাবি জানিয়ে আসছেন পানি চলাচলের জন্য ব্যবস্থা করে দিতে। না হলে তারা বাড়ি-ঘরে থাকা সম্ভব না। বারবার দাবি জানালেও কর্তৃপক্ষ কথা কানে নিচ্ছে না। পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় স্কুল-কলেজে যাতায়াত করতে পারছেনা ছেলে মেয়েরা। ড্রেনের ময়লা-আবর্জনার পানি ঘরের মধ্যে প্রবেশ করছে। আজকের মধ্যে দাবি মানা না হলেও তারা সুনামগঞ্জ সড়ক অবরোধ করে রাখবেন।

এ ব্যাপারে জালালাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল আলম, বেলা ১২টার দিকে সড়ক সড়ক অবরোধ করেন স্থানীয়রা, পরে আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরীর হস্তক্ষেপে পরিস্থিত নিয়ন্ত্রণে আসে। বর্তমানে সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।


 

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট