পাকিস্তানকে হারিয়ে দ্বিতীয় শিরোপা জয় ইংল্যান্ডের

প্রকাশিত: ৬:৪২ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ১৩, ২০২২

পাকিস্তানকে হারিয়ে দ্বিতীয় শিরোপা জয় ইংল্যান্ডের

ওয়ানডের পর, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপও ঘরে তুললো ইংল্যান্ড। টানা দুইটি বিশ্বসেরার ট্রফি গেলো, ক্রিকেটের আঁতুরঘড়ে। ফাইনালে পাকিস্তানকে ৫ উইকেটে হারিয়ে, দ্বিতীয়বার ২০ ওভারের খেলায় চ্যাম্পিয়ন হলো ইংলিশরা।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পাকিস্তানকে কাদিয়ে দ্বিতীয় বারের মতো শিরোপা ঘরে তুললো ইংল্যান্ড। বাবর আমজদের ৫ উইকেটে হারিয়ে ২০১০ সালের পর শিরোপা উল্লাসে মাতে জস বাটলাররা। মেলবোর্নে পাকিস্তানের ফেরানো হলোনা ৯২ এর স্মৃতি। বাবর আজমদের কান্নাভেজা অশ্রুতে স্মৃতি হয়েই রইলো বিশ্বকাপের ফাইনাল।

২০১০ সালের পর ফের হাসলো ইংল্যান্ড। দ্বিতীয় শিরোপা জয়ের উল্লাসে মাতে জস বাটলাররা। এই মেলবোর্নেই ৯২ ওয়ানডে বিশ্বকাপ পাকিস্তানের কাছে হেরেছিল ইংলিশরা। এবার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সেই প্রতিশোধ নিলো পাকিস্তানের বিপক্ষেই। আর বাবরদের কান্না ভেজা চোখে অপেক্ষা বাড়ালো মেলবোর্ন। পুরো বিশ্বকাপে ব্যর্থ স্টোকস ফাইনালে হয়ে ওঠেন ইংলিশদের নায়ক।

পাকিস্তানের দেয়া ১৩৭ রানের জবাবে শুরুটা ভালো হয়নি ইংশিলদের। মাত্র এক রানেই শাহীন আফ্রিদির বলে বোল্ড আউট হয়ে ফেরেন ওপেনার অ্যালেক্স হেলস। পরে দলীয় ৩২ রানের মাথায় হারিস রউফেল বলে ফেরেন ফ্লিপ সল্ট। ২৬ রানে অধিনায়ক জস বাটলারকে আউট করে স্বস্তি ফিরিয়ে আনেন সেই রউফ।

ম্যাচের ১২ ওভার দুই বলের সময় ক্যাচ ধরতে গিয়ে পায়ে ব্যাথা পান শাহীন আফ্রিদি। সেই ব্যাথা নিয়েই বল করতে গেলে ফের ইনজুরিতে পরেন এই পেসার। ২ ওভার দুই করলেও বাকি বলগুলো আর করা হয়নি আফ্রিদির।

পরে বেন স্টোকস আর মঈন আলির ব্যাটে ঘুড়ে দাড়ায় ইংলিশরা। মঈন আলী ১৯ রানে ফিরলেও ক্রিজে থিতু হয়ে থাকেন স্টোকস। এই অলরাউন্ডারের ব্যাটে ম্যাচ নিয়ন্ত্রণে দেয় ইংল্যান্ড। পরে স্টোকসের ব্যাটের বিশ্বকাপ নিশ্চিত হয় জস বাটলারদের। পেয়ে যান বিশ্বকাপে প্রথম অর্ধশতক। বল হাতে হারিস রউফ দুটি, শাহীন আফ্রিদি, শাদাব খান ও ওয়াসিম নেন একটি করে উইকেট।

এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা মোটেও ভাল হয়নি পাকিস্তানের। দলের দুই ওপেনার বাবর আজম এবং মোহাম্মদ রিজওয়ান দলকে শুভসূচনা এনে দিতে ব্যার্থ। শুরু থেকেই ইংলিশদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে চাপে পরে পাকিস্তান। ব্যক্তিগত ১৫ রানে স্যাম কারানের বলে বোল্ড হয়ে ফিরে যান রিজওয়ান। রান আউটের ফাদে পরেন হ্যারিস।

বাবর আজম উইকেটে থিতু হতে চাইলেও ৩২ রানে ফেরেন এই পাক কাপ্তান। শান মাসুদ আশা দেখালেও ফেরেন ৩৮ রানে। পরে শাদাব খান দ্রুত ২০ রান করলেও ম্যাচের পরিস্থিতি অনুযায়ী যথেষ্ট ছিল না। এরপর আর বলার মত কোনো ব্যাটারই পারেননি রান করতে। মোহাম্মদ ওয়াসিম, মোহাম্মদ নেওয়াজ ফিরেছেন সিঙ্গেল ডিজিটে। শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত ২০ ওভার শেষে পাকিস্তান সংগ্রহ করে ১৩৭ রান। বল হাতে স্যাম কারান তিনটি, আদিল রশিদ ও ক্রিস জর্ডান নেন দুটি করে উইকেট।

এর আগে মেলবোর্ণে ছোট পরিসরে সমাপনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। যেখানে অস্ট্রেলিয়ার সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের বিভিন্ন দিক ফুটিয়ে তোলা হয়। সেই সাথে বিশ্বকাপে অংশ নেয়া দলগুলোরও বিভিন্ন ঐতিহ্যও উঠে আসে এ অনুষ্ঠানে। গান পরিবেশন করেন অস্ট্রেলিয়ার নামকরা ব্যান্ড আইস হাউস।


সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট